একটি পাঙ্গাশ মাছের পেটি

0
7

এইচ রহমান মিলু:

প্রফেসর ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হতেই আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু প্রতিবাদ দেখতে পেয়েছিলাম। তার পিতা ৭১ এর তালিকাভূক্ত রাজাকার এবং তিনি নিজেও বিএনপি সমর্থক, মূলত এই দুটি অভিযোগ সে সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
কেউ কেউ প্রমান স্বরুপ তার বাবার নাম সহ রাজাকারের তালিকার একটি পাতার ছবিও জুড়ে দিয়েছিলেন। যেহেতু অকাট্য প্রমান হিসেবে তা যথেস্ট, তাই তার পিতার রাজাকার হবার তথ্য আমার কাছে নির্ভেজাল সত্য বলে মনে হয়েছে। আর প্রতিটি রাজাকার এবং তাদের সন্তানেরা বিএনপি জামাতের অনুসারী হবেন এতেও কোন সন্দেহ নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, স্বাচিপের ত্যাগী ও বড় নেতারা থাকতে, এই ভদ্রলোককেই কেন মহাপরিচালকের পদে অধিষ্ঠিত করা হলো ? লাখ টাকার প্রশ্ন হলেও উত্তর পাবার আগেই কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেলো সরকারের, তথা দেশের জনগণের।
করোনার মতো ভয়াবহ ক্রান্তিকালে যেখানে সারা বিশ্ব মানবিক আচরন করছে, আমাদের মানবিক প্রধানমন্ত্রী যেখানে তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে দেশের মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন, সেখানে হঠাৎ কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পছন্দে কাজ পাওয়া জিকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতাল।
রিজেন্ট হাসপাতাল ভুয়া করোনার রিপোর্ট দিয়ে কয়েক হাজার মানুষের সাথে প্রতারনা করেছে। এই প্রতারনার কারনে এই হাসপাতালের ৮ জন কর্মচারি গ্রেফতার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম মামলা খেয়ে এখন পলাতক আছেন। তবে পুলিশ ও জঅই যেভাবে তাকে গ্রেফতারের চেস্টা করছে, তাতে তিনি অতি দ্রুত গ্রেফতার হবেন বলে আমার ধারনা।
হুবহু একই অপরাধ করে জেকেজি,র এমডি গ্রেফতার হলেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ সাবরিনা গ্রেফতার হননি। শুধু তাই নয়, মামলায় তার নাম পর্যন্ত দেননি মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এতে করে দেশের সকল মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ জমেছে, যার বহিঃপ্রকাশ তারা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে তাদের লেখার মাধ্যমে।
ডা.সাবরিনার ফেইসবুকে যৌন আবেদনময়ী ছবি কপি করে প্রায় সকলেই একই প্রশ্ন করছেন যে, সাবরিনার টাকা এবং আকর্ষনীয় ফিগার কি তাকে মামলা ও গ্রেফতার থেকে বাঁচালো? নয়তো আর কি কারন থাকতে পারে, যার কারনে ডাঃ সাবরিনাকে গ্রেফতার ও মামলা থেকে রেহাই দিলেন মহাপরিচালক সাহেব? একটি প্রতিষ্ঠান যখন কোন অপরাধে যুক্ত হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের সকল মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হবে, এটাই স্বাভাবিক এবং এদেশে এটাই আইন।
হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন যে কারনে জেল খেটেছেন, ময়ুরী লঞ্চের মালিক যে কারনে গ্রেফতার হয়েছেন, রানা প্লাজার মালিক রানা সহ দেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের মালিক যে কারনে গ্রেফতার হয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হট ও সেক্সি উপাধী পাওয়া ডাঃ সাবরিনা কেন সে কারনে গ্রেফতার হলেন না? কেন তার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রচলিত আইনের ধারাটি অগ্রাহ্য করলো?
ডা. সাবরিনা দোষী কি দোষী না সে বিচার তো আবুল কালাম আজাদ সাহেব করতে পারেন না, এই বিচার হবে আদালতে। মামলায় ডাঃ সাবরিনার নাম থাকবে, তিনি গ্রেফতার হবেন, রিমান্ডে এসে তথ্য দেবেন, এবং পরবর্তিতে মাননীয় আদালতের সামনে তিনি তার বক্তব্য প্রদান করবেন। বিষয়টা এমনটি হবার কথা ছিলো, এমনটি হওয়া উচিত ছিলো।
ডা. সাবরিনার পেট বের করে তোলা একটা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঙ্গাশ মাছের পেটি হিসেবে নামকরন বেশ জনপ্রিয় হয়েছে দেখলাম। জনাব আবুল কালাম আজাদ পাঙ্গাস মাছের পেটি পছন্দ করেন বলেও অনেকে লিখছে। আমার বক্তব্য খুবই স্পস্ট, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যেখানে দুর্নীতির অপরাধে নিজ দলের এমপি মন্ত্রীকে ছাড় দেননি, সেখানে গোয়েন্দা সংস্থা অধিকতর তদন্ত করে মামলার আসামী হিসেবে ডাঃ সাবরিনাকে অন্তরভূক্ত পূর্বক গ্রেফতার করে প্রমাণ করুক তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতোই সৎ ও যোগ্য।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বড় কর্তাদের পঙ্গাশের পেটির লোভের কারনে আমরা নিশ্চয়ই এত বড় অপরাধ করা কোন ব্যাক্তিকে শুধুমাত্র শরীরের ভাজ দেখিয়ে পার পেতে দিতে পারিনা। যদি এমন নজির স্থাপন করি, তবে যৌন দাসীরা আগামীতে সকল ব্যাবসা বানিজ্য দখল করবে, ভদ্র পুরুষ ও নারী রা বেকার হয়ে ঘরে বসে থাকবে। জনাব আবুল কালাম আজাদ কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হলে এবং দুদকের মাধ্যমে তার সম্পদের খোঁজ খবর করলে, অনেক অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

এইচ রহমান মিলু

লেখক ও সমাজকর্মী

আগেকক্সবাজার সৈকতে কোথা থেকে এলো এত মদের বোতল?
পরেসোমবার সকাল ৮ থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে