শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনকারী সেই মাদরাসা শিক্ষক কারাগারে

0
6

সিবিকে ডেস্কঃ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি মাদরাসায় ৮ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির হুজুর ইয়াহিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দুপুরে জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিহান সানজিদা এ আদেশ দেন।

এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা পারভিন বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা করলে গতকাল বুধবার বিকেলে রাঙ্গুনিয়ার সাফরভাটা এলাকা থেকে ইয়াহিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জানা গেছে, হাটহাজারীর পৌর এলাকার মারকাজুর কোরান ইসলামি একাডেমি মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিশু ইয়াসিন।

গত ৮ মার্চ বিকেলে মা পারভিন আক্তার ও বাবা মোহাম্মদ জয়নাল মাদরাসায় তাদের সন্তানকে দেখতে যান। কিন্তু ফেরার সময় ছোট্ট শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে। এক পর্যায়ে সে মা-বাবার পিছু পিছু মাদরাসার মূল ফটকের বাইরে চলে আসে।

তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মাদরাসার হুজুর ইয়াহিয়া। মা-বাবার সঙ্গে মূল ফটকের বাইরে কেন গিয়েছে, শুধুমাত্র এ কারণে শিশুটিকে তিনি বেধরক বেত্রাঘাত করতে থাকেন। শিশুটি বাঁচার আকুতি জানাতে থাকে। তাতেও ক্ষ্যান্ত হননি হুজুর। বিরামহীনভাবে চলে বেত্রাঘাত।

ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদেরই কেউ একজন ওই ঘটনার ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে আপলোড করলে নির্মম এই নির্যাতনের প্রতিবাদে নেটিজেনরা সরব হয়ে উঠে।

উপজেলা প্রশাসন এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করলেও মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে উপজেলা অফিসে অবস্থান করে সেই হুজুরকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন শিশুটির বাবা-মা।

বুধবার সকালে এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার রাত ৪টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা দায়ের জন্য অপেক্ষা করেছি। এমনকি মামলার খরচসহ আর্থিক সহায়তা দেয়ারও প্রস্তাব দিয়েছিল। তারপরও লেখাপড়া না জানা ওই বাবা-মা কিছুতেই অভিযোগ দায়েরে রাজি হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের হাফেজি মাদরাসাগুলোতে এভাবেই প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। কেউ কখনও অভিযোগ দায়ের করে না। এটিও সমাজের বৈকল্যতা।’

এদিকে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি নাজমুল আহসান ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে ১৪ মার্চের মধ্যে জানাতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি, পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

আগে‘আপত্তিকর’ ছবি দেখিয়ে ২৮ জনকে বিয়ে করেন রোমানা!
পরেদেশে এখন সবাই আওয়ামী লীগ: নানক