শ্রমিকের রক্ত নীল

0
6

সিবিকে ডেস্কঃ

‘প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য/ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,/চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য/কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।/চিমনির মুখে শোনো সাইরেন-শঙ্খ,/গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে,/তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য/জীবনকে চায় ভালোবাসতে।’

বর্তমান এই কঠিন সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা কবিতার এই পঙক্তিগুলো যেন কানে বেজে ওঠে। কারণ আজ মহান মে দিবস। শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের অধিকারের দিন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে আজ। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য— ‘মালিক-শ্রমিক নির্বিশেষ, মুজিববর্ষে গড়বো দেশ’।

১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমের মর্যাদা, শ্রমের মূল্য এবং দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে শ্রমিকরা যে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন তাদের সে আত্মত্যাগের সম্মানে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী দিবসটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমাবেশে ১ মে’কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিনটি পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে ১ মে’কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মে দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কদ্বীপগুলো সুসজ্জিত করা হয়েছে।

মে দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। দিবসের প্রাক্কালে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে মহান মে দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

শ্রমজীবীদের এই দিনটি গেলবারের মতো এবারও এসেছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মধ্যে। বিশ্বজোড়া করোনা মহামারীর প্রকোপে ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিপন্ন জীবন। অর্থনীতির চাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে দেশে দেশে। সেই সঙ্গে উন্মোচিত করে দিয়েছে পুঁজিবাদী সমাজের বাস্তবতাকে।

সংক্রমণের বাইরে মৃত্যুর সঙ্গে ক্ষুধা এসে হানা দিয়েছে শ্রমজীবীর দুয়ারহীন ঘরে। মলিন মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা। আর বর্তমানে একটু বেঁচে থাকার আশাই যেন বেশি।

এরই মধ্যে কাজ খুইয়েছেন কোটি শ্রমিক। আর দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে যারা শ্রম বেচেন, ঘরবন্দি জীবনে তাদের আয়ও প্রায় শূন্যের কোঠায়। কোনো রকম বেঁচে আছেন কেবল অন্যের সহায়তায়।

আশঙ্কা হলো, এই মানুষগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন। লকডাউন ওঠার পরেও কি তারা পারবেন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মানুষের মতো বেঁচে থাকতে? করোনার বিষে শ্রমিকের লাল রক্ত যেন হয়ে যাচ্ছে নীল।

গবেষণা সংস্থাগুলো অবশ্য বলছে— করোনার কারণে দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের সোয়া ৫ কোটি শ্রমজীবীর জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে খুব শিগগিরই বিশ্বের শহরগুলো হয়ে উঠবে ছিন্নমূল, কর্মহীন, অনিশ্চিত জীবনের মানুষের বসতি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সুরে তবু গেয়ে যাই শ্রমজীবীদের জয়গান— ‘তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,/তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!’

আগেকক্সবাজার শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার
পরেইসলামপুরে নববধূ হত্যার ঘটনায় মামলা নিচ্ছে না ঈদগাঁও থানা পুলিশ!