রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে খুনের দায় ‘আরসা’র কাঁধে দিলেন ভাই হাবিবুল্লাহ

0
6

সিবিকে ডেস্কঃ

উখিয়া ক্যাম্পের নিজ অফিসে ঢুকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যার জন্য রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করেছেন তার ভাই মাওলানা হাবিবুল্লাহ।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট ১ নম্বর ব্লকের অফিসে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুহিবুল্লাহ (৫০) মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু এলাকার লংডাছড়া গ্রামের মৌলভি ফজল আহমদের ছেলে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মংডু টাউনশিপের সিকদারপাড়া গ্রাম থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন মুহিবুল্লাহ। তিনি আশ্রয় নেন কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)-এর চেয়ারম্যানও ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ জানিয়েছেন তার ভাইকে হত্যার পেছনের কারণ ও হত্যাকারীদের কয়েকজনের নাম। তিনি বলেন, ‘আমরা এশার নামাজ পড়ে দুই ভাই রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট ১ নম্বর ব্লকের অফিসে বসি। সেখানে অনেকে নানা সমস্যা নিয়ে আসেন এবং এসব কথা মুহিববুল্লাহ শুনছিলেন। এসময় প্রায় ২০ জনের বেশি লোক ছিল সেখানে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই সেখানে থাকা কয়েকজন আমাকে টেনে হিচড়ে বাইরে বের করে আমার ভাইয়ের বুকে গুলি করতে থাকে। পরপর ৫/৬ রাউন্ড গুলি করলেও মুহিববুল্লাহ বুকে তিনটা গুলি লাগে। এরপর সবাই আতঙ্কে দৌঁড়াদৌড়ি শুরু করলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।’

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করে হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘যারা এসেছিল তাদের অনেককে আমি মুখ চেনা চিনি। তাদের মধ্যে আরসা নেতা আব্দুর রহিম, লালু ও মুরশিদের নাম জানি। মূলত রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়। গুলি করার সময় তারা বলছিল, রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে তুই কাজ করার কে? আমরা কাজ করছি। মুহিববুল্লাহকে খুন করার কারণ হচ্ছে সে রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের সাথে কাজ করছিল। তাই তাকে গুলি করে মারা হয়েছে।’

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৪ নম্বর ‘এপিবিএন’র পুলিশ সুপার নাইমুল হক জানিয়েছেন, নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

এআরএসপিএইচ-এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তাকে হত্যা করায় আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে উখিয়ার কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মহাসমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। এ সমাবেশে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা জড়ো হয়। রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে গঠিত এআরএসপিএইচ চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ সমাবেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তখন আলোচনায় উঠে আসেন।

এর আগে ২০১৯ সালে ১৭ জুলাই ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার বিশ্বের ১৭ দেশের ২৭ জন প্রতিনিধি হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুহিবুল্লাহ।

আগেযেভাবে হত্যা করা হয় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে
পরেনাসির-তামিমার বিরুদ্ধে সমন জারি