চট্টগ্রাম শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ-পুনর্বাসন কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ঈদ মেলার আয়োজন

0
5
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালি: 
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদস্থ শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে তিনদিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার সমাহারে ঈদ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের আগের দিন তথা চাঁদ রাতে শুরু হয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিনের পুরো সময়টা জুড়ে ছিল ব্যতিক্রমী এই ঈদ মেলার স্থায়িত্ব।
গত ৪ মে (রোজ বুধবার) ঈদের দ্বিতীয় তথা ঈদ মেলার সমাপনী দিনে নানা ধরণের স্টল সজ্জা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ , কেক কাটা ইত্যাদি বৈচিত্র্যময় আয়োজনে রমরমা ছিল কেন্দ্রের মাঠ প্রাঙ্গনে স্থাপিত সুসজ্জিত তাবু মঞ্চ। কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়া দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু সমাবেশের এই ঈদ মেলার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস। কেন্দ্রের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর গমন কান্তি দে এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার। এছাড়াও অধ্যাপক ডাঃ মাহবুবুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ ফয়েজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক মোঃ মুরাদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী মোঃ আইয়ুব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মুনতাসির আহমেদ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট মোঃ নুরুন্নবী উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনের শুরুতে সকাল সাড়ে এগারোটায় ফিতা কেটে ঈদ মেলা উপলক্ষে স্থাপিত খাবারের স্টল এবং পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী এর পসরার শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস। অতঃপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাঠ শেষে ঈদ মেলার সমাপনী পর্বের সূচনা হয় পৃথকভাবে বালক ও বালিকা শিশুদের নিয়ে কেক কাটার মাধ্যমে। এরপরেই নিবাসী শিশুদের অংশগ্রহণে জমজমাট মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলেই বিমুগ্ধ চিত্তে উপভোগ করেন। অতঃপর উমুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ এবং কেন্দ্রের নিবাসী শিশু আয়োজিত ঈদ মেলা সম্পর্কে তাদের নিজ নিজ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন- আজ অবধি আমার উপভোগ্য সকল ধরণের সভা, অনুষ্ঠানের মধ্যে আজকের অনুভূতি শ্রেষ্ঠ। তিনি শিশুদের উদ্দেশ্য করে বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর তাই জননেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় তোমাদের সাথেই আছেন। তিনি সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের পাশে থেকে তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি জেসমিন আকতার বলেন- নিজের আপনজন ছেড়ে নয় বরং আত্মার আত্মীয়দের সাথে ঈদ করা এবং শিশুদের মাঝে একরাশ ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই আমার এই ছোট্ট প্রয়াস। আলোচনা সভার শেষে ঈদের দিনে অনুষ্ঠিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। আয়োজনের শেষভাগে শিশুদের সাথে আবেগঘন মুহূর্ত অতিবাহিত করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস। এ সময় শিশুরা প্রধান অতিথির সাথে সাথে কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে স্লোগান তোলে- ” শেখ হাসিনার হাতটি ধরে, আমরা সবাই যাব ঘরে। “
এছাড়াও তিনদিন ব্যাপী ঈদ মেলার আয়োজনে আরও ছিল- আতর ছিটানো ও মেহেদী পরানো উৎসব, ঈদ ট্রায়াল ফ্যাশন শো, উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়, উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়নক বিনোদন, কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিবাসী শিশুদের পৃথক অংশগ্রহণে হাটে হাঁড়ি ভাঙা এবং চাচা আপন প্রাণ বাঁচা আউটডোর গেমস প্রতিযোগিতা, নিবাসী শিশুদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিবাসী শিশুদের যৌথ অংশগ্রহণে প্রীতি ক্যারাম টুর্ণামেন্ট, শিশুদের অংশগ্রহণে মুড়ি-মোয়া ও পিঠা তৈরি প্রতিযোগিতা, উন্মুক্ত নৈশ কনসার্ট এবং মেলাব্যাপী নিবাসী শিশুদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন।
– প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত চট্টগ্রাম শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ২০১২ সাল থেকে সমাজের ঝুঁকিতে থাকা, বিপন্ন, পথ শিশুদের সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আগেকক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল
পরেওয়ালটন ডিসি সাহেবের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা শুরু হচ্ছে কাল শুক্রবার