
কক্সবাজারের উখিয়ায় বিপুল নকল জাতীয় পরিচয় পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সরঞ্জামসহ সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের ৫ জনকে আটক করেছে এপিবিএন। তাদের মধ্যে ৪ জনই রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরান হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানান, বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উখিয়ার লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি চক্র রোহিঙ্গাদের জন্য নকল বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। এর প্রেক্ষিতে এপিবিএনের একটি টিম লাম্বাশিয়া ক্যাম্পের মোঃ আবদুল্লাহ এর বসতঘরে অভিযান চালায়। এসময় ঘর তল্লাশী করে ৪ টি ল্যাপটপ, ৮ টি স্মার্টফোন, ৪ টি পেনড্রাইভ, ২ টি স্ক্যানার ও প্রিন্টার, ২৮ টি অনলাইন নকল জন্ম নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন, ১১ টি জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই, ৩০ টি নকল জন্মসনদ, ২০ টি নকল এনআইডি, দুইশ’টি বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডির ফটোকপি, সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকের চেক বই ও জমা দেওয়ার বই, ৫টি সিল, ১ টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন সনদ পত্র, ২০ টি শাহপুরি বাস্তহারা আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্য ফরম, ৩৫ টি টাকা জমা দেওয়ার পাশ বই, ৮ টি রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স, যার প্রত্যেকটিতে মোঃ আবদুল্লাহ নামে লিপিবদ্ধ, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের জাতীয়তা সনদ সহ আরো বিভিন্ন নামের ৪টি জাতীয়তা সনদ, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিহীন সনদ-৫ টি, আবদুল্লাহ নামের ইলেক্ট্রিক বিলের কাগজ পত্র, বিভিন্ন ধরণের জায়গা জমির দলিল ও খতিয়ান, মোঃ ইসমাইলের জন্ম সনদ ও আইডি কার্ড, মোঃ ত্বালহা এর সিটি কর্পোরেশনের জাতীয় সনদ, জন্ম সনদ এনআইডি (নকল) ও মোঃ হারুন এর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি জব্দ করা হয়। এসময় ৫ জনকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, উখিয়ার ক্যাম্প- ডব্লিউ এর এফ/১০ ব্লকের মোঃ আবদুল্লাহ (৩৭), আবুল খায়ের (১৮), একই ক্যাম্পের এফ/১৩ ব্লকের মোঃ ত্বালহা (৬০), মোঃ হারুন (৩৬) ও টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের বাসিন্দা মোঃ ইসমাইল (৪৫)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরান হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে নকল বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে আসছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং বিদেশে গমনের জন্য পাসপোর্ট তৈরির লক্ষ্যে উক্ত দালাল চক্রকে মোটা অংকের টাকা প্রদান করে। বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে এই অসাধুচক্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্তপূর্বক আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।












