
স্পোর্টস ডেস্কঃ
শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লড়াইয়ের কমতি রাখেনি বাংলাদেশ দল। শেষ ওভার পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করেছে টাইগাররা। শেষ দিকে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান ও তাসকিন আহমেদ টুকটুক করে হারের ব্যবধান কমালেও দলকে কাঙ্খিত জয় উপহার দিতে পারেননি। বাংলাদেশ থামে ১৬ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৫ রানে। ভারত জয় পায় মাত্র ৫ রানে।
ভারতের বিপক্ষে উড়ন্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। ৭ ওভারে ৬৬ রান করে জয়ের পথেই ছিল টাইগাররা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সব শেষ হয়ে যায়। বৃষ্টির পর খেলা গড়ায় কার্টল ওভারে। ১৬ ওভারে লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১৫১ রানে। বৃষ্টির আগে ৭ ওভারে ৬৬ রান করা বাংলাদেশের জয়ে পরের ৯ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৮৫ রান।
কিন্তু বৃষ্টিতে আউট ফিল্ড ভিজে যাওয়ায় আস্কিং রান রেট তাড়া করে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। বিনা উইকেটে ৬৮ রান করা বাংলাদেশ এরপর ৪০ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায়। শেষ ওভারে ২০ রান তাড়ায় ১২ রানের বেশি স্কোর বোর্ডে জমা করতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান ও তাসকিন আহমেদ। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৫ রানের জয় পায় ভারত। আর এতো রুদ্ধশ্বাস লড়াই করেও হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
আজ বুধবার বিশ্বকাপে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল রোহিত শর্মার দল। অন্যদিকে সেমির লড়াই থেকে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল বাংলাদেশের আশা।
অ্যাডিলেড ওভালে রান তাড়ায় লিটন দাসের ব্যাটে চড়ে বাংলাদেশের ঝোড়ো শুরু হয়। মাত্র ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। তাঁর ব্যাটে চড়েই স্বপ্ন জয়ের পথে হাঁটছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। বেরসিক বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ।
বৃষ্টির আগে ৭ ওভারে বাংলাদেশের রান বিনা উইকেটে ছিল ৬৬। কিন্তু বৃষ্টির পর মাঠে নেমেই লিটনকে হারায় বাংলাদেশ। রান আউটে কাটা পড়েন লিটন। ফেরার আগে করেন ২৭ বলে ৬০ রান।
লিটন ফেরার পর শুরু হয় বাংলাদেশের হতাশা। একে একে উইকেট বিলিয়ে দেন সাকিব, আফিফ, ইয়াসির, মোসাদ্দেক। ব্যাটারদের হতাশায় বাংলাদেশও পারেনি লক্ষ্যে পৌঁছাতে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৪ রান করে ভারত। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন বিরাট কোহলি। ৪৪ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস।
ওভালে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম ওভারটা দারুণ কাটে বাংলাদেশের। প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান দেন তাসকিন। কিন্তু পরের ওভারে সেই রিদম ধরে রাখতে পারেননি শরিফুল। এক ছক্কা খেয়ে তিনি দেন ৯ রান।
তৃতীয় ওভারে ফের আসেন তাসকিন। বল হাতে এসেই রোহিতকে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেন। ওভারের চতুর্থ বলে সহজ ক্যাচ তুলে দেন ভারতীয় অধিনায়ক। কিন্তু সেই ক্যাচ মিস করে দলকে ডোবান হাসান মাহমুদ।
অবশ্য সেই হতাশা বেশিদূর যায়নি। পরের ওভারে হাসান বল হাতে প্রতিদান দেন। নিজের প্রথম ওভারে এসেই তুলে নেন রোহিতের উইকেট। তরুণ পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে আপার কাট করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন রোহিত। সেখানে থাকা ফিল্ডার ইয়াসির আলি ভুল করেননি মুঠোয় জমাতে। ৮ বলে দুই রান করেন ভারতীয় তারকা।
শুরুর চাপ কাটিয়ে জুটি গড়ে তোলেন কোহলি ও রাহুল। দ্বিতীয় জুটিতে স্কোরবোর্ডে ৬৭ রান তোলে ভারত। দশম ওভারে সাকিব এসে ভাঙেন এই জুটি। ফিরিয়ে দেন হাফসেঞ্চুরি করা রাহুলকে। ৩২ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস।
রাহুলকে হারানোর পরও কমেনি ভারতের রানের গতি। কারণ উইকেটে থিতু হয়ে যায় কোহলি-যাদবের জুটি। এই জুটিতে ৩৮ রান করেন তিনি। জমে ওঠা এই জুটিও ভাঙেন সাকিব। বাংলাদেশ অধিনায়কের বলে জায়গা করে মারতে চেয়েছিলেন যাদব। কিন্তু সাকিব বল স্লো করে দেন। তখন বল গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। ৪ বাউন্ডারিতে ১৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস উপহার দেন যাদব।
এরপর পান্ডিয়াকে টিকতে দেননি হাসান মাহমুদ। ৬ রানে বিদায় করেন ভারতীয় অলরাউন্ডারকে। তবে থিতু হয়ে যান কোহলি। ৩৭ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। তাঁর ব্যাটে চড়েই লড়াইয়ের পুঁজি পায় ভারত। মাঝে কার্তিক ৭ রান। শেষ দিকে শরিফুলকে তুলোধুনো করে বড় পুঁজি পেয়ে যায় ভারত।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৩৩ রানে দুই উইকেট নেন সাকিব। হাসান মাহমুদ নেন তিনটি। সবচেয়ে খরুচে বোলিং করেন শরিফুল। তিনি ৪ ওভারে দেন ৫৭ রান।













