রামুতে সুপেয় পানির সংকট, লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ

0
8

★সুপেয় পানির জন্য হাহাকার, লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ

★২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় এক কলসি পানির আশায় 

 

 

হাসান তারেক মুকিম,রামু

 

কক্সবাজারের রামু উপজেলার সিংহভাগ এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক এ জনগোষ্ঠীর একমাত্র অবলম্বন টিউবওয়েল এর পাশাপাশি খাল ও পুকুরগুলোর পানি। কিন্তু শুষ্ক মৌসুম ও দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এসব জলধারের পানি শুকিয়ে গেছে। এতে সুপেয় পানির অভাব আরও বেড়েছে। সংকট নিরসনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা নানা প্রকল্প নিলেও এর উল্লেখযোগ্য সুফল চোখে পড়ছে না।

 

সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বিশেষ করে জোয়ারিয়ানালা, চাকমারকুল, রশিদনগর, ফতেখাঁরকুল, মিঠাছড়ি, কাউয়ারখোপের অধিকাংশ এলাকায় সুপেয় পানির খরায় তিব্র সংকটে পড়েছে জনসাধারন। জীবনের তাগিতে মানুষগুলো পানির তৃষ্ণা মেটাতে রীতিমতো পানি যুদ্ধ শুরু করেছে। রামুর প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এ দূর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে।

প্রতিদিনই দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতে না হতেই গ্রামের মেঠো পথ ধরে পানি আনতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন গ্রামের গৃহ বধুরা। অনেক গ্রামের নারী পুরুষ ২ থেকে ৩ কিঃমিঃ দূর থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।গ্রামের নারী পুরুষের পাশাপাশি পানি সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন শিক্ষার্থীরা।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গভীর নলকূপের ব্যবস্থা থাকলেও অত্যন্ত তাপ ও খরার ফলে পানির স্তর নেমে গেছে। ফলে সুপেয় পানিতো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পানি পর্যন্ত কোথাও মিলছে না। এদিকে খালে পানি সংকটের কারনে এই মৌসুমে হাজার হাজার একর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। 

 

জোয়ারিয়ানালার নন্দাখালী গ্রামের নুর জাহান  জানান, বিগত তিন মাস ধরে তীব্র খাবার পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। চৈত্রের আগমনের সাথে সাথেই এলাকাজুড়ে এর তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তাদেরকে এক কলসি পানি আনতে প্রায় ২ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। 

 

স্থানীয় সংবাদকর্মী মোঃ কাইছার জানান, প্রতিদিন ভাতের চেয়ে পানির চিন্তা এখন প্রতিটি পরিবারের। বর্তমান সময়ে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সাথে পানি ক্রয় একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

 

চাকমারকুল শ্রীমুরা গ্রামের জনসাধারনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পানির জন্য হাহাকারের শেষ নেই তাদেরও। গ্রামের একটি নলকূপেও পানি নেই। ভোর হওয়ার সাথে সাথে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পানি আনতে যায় নারীরা। কোন কোন সময় তাদের দুই থেকে তিনটি মূল্যবান ঘণ্টা পেরিয়ে যায় পানি আনার কাজে। এদিকে সংকটময় পরিস্থিতি থেকে পরিত্রানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী জনসাধারন। 

 

রামু উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ক্যছাই মং চাক্ জানান, গতবছর একেবারেই বৃষ্টি হয়নি। এতে পানির স্তর নিচে নেমে গিয়েছে। যার ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

 

 

আগেবহিস্কৃত যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে কলেজ ছাত্রকে চু*রির অপবাদে পা*শবিক নির্যাতন
পরেটেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে অপহর*ণকারী চ*ক্রের দুই সদস্য আটক, ৩ ভি*কটিম উদ্ধার