কক্সবাজার খবর ডেস্ক :
প্রাচীন সভ্যতা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় প্রাণচাঞ্চল্য রামু বহুগুণীজনদের আবাসস্থল। অন্যদিকে রামু উপজেলা সদর বর্তমানে একটি প্রাণচাঞ্চল্য মাত্র নয় বরং বিশ্ব বিশ্রুত প্রাচীন রাজধানী খ্যাত, কক্সবাজার সন্নিকটবর্তী ঐতিহাসিক পতœতাত্বিক পুরাকীর্তি মসজিদ, মন্দির, পেগুড়াসহ নানাধরণের তীর্থ স্থানের অস্থিত্ব নিয়ে একটি পর্যটন পশ্চাদ ভূমি। যার কারণে সারা বছর রামু থাকে দেশী-বিদেশী পর্যটক পদচারণা মুখর। এছাড়া রামু উপজেলা ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে একটি ক্রমবর্ধমান উপ-শহর। এতদ্স্বত্বেও সার্বিক বিচারে বিপুল সম্ভাবনাময় এই রামু উপজেলা আজও নানা দিক দিয়ে অবহেলিত ও অবিকশিত। কর্তৃত্বস্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বুক ভরা আশ্বাসে রামু উপজেলাবাসী স্বপ্ন দেখছে বারে বারে।দশকের পর দশক রামুবাসী শুনে যাচ্ছে রামুতে পৌরসভা বাস্তবায়নের কথা। রামুতে পৌরসভা রূপান্তর এলাকাবাসীর গণদাবী হওয়ায় ইতিপূর্বে সকল নির্বাচনী মঞ্চে প্রার্থীরা রামুতে পৌরসভা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু পৌরসভা বাস্তবায়নের কিষয়টি অদৃশ্যই থেকে যায়। এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন রামুতে পৌরসভার বাস্তবায়ন কখন হবে? বিগত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীরা, রামুতে পৌরসভা রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেয়। রামুর স্থানীয় ব্যক্তিবর্গগণ জানান, বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলে রামুতে পৌরসভা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হলে, জনগণ আশার আলো দেখে। কিন্তু ক্ষমতার পট পরিবর্তন। আবারো স্বপ্নভঙ্গ হয় রামবাসীর। পরবর্তীতে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ার পর, রামুতে পৌরসভা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ কার্যকর না হওয়ায় জনগণ হতাশ হয়ে পড়ে। রামুতে পৌরসভার বাস্তবায়ন এলাকার মানুষের কাছে একটি বায়বীয় খবরে পরিনত হয়েছে। দীর্ঘ ৩০বছর ধরে রামুর মানুষ পৌরসভার কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত প্রায়। অথচ রামুর চেয়ে অনেক অনুন্নত ও পিছিয়ে পড়া উপজেলায় পৌরসভার বাস্তবায়ন হয়েছে। সরকারের দেশব্যাপী উন্নয়নের মহাযজ্ঞে রামুর পৌরসভা বাস্তবায়নের বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করতে না পারা আমাদের নেতৃত্বের চরম ব্যার্থতা বলে মনে করছেন রামুর সুশীল সমাজ। তবে এখনি উপযুক্ত সময়। রামুর মানুষের প্রত্যাশা এ সরকারের আমলেই রামুতে পৌরসভার বাস্তবায়ন সফল হবে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক ও সামাজিক সংগঠনগুলো দীর্ঘ দিন ধরে এই দাবী বাস্তবায়নে সোচ্ছার ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, রামুতে পৌরসভা রূপান্তরিত হলে, এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে,রামুর পর্যটন বিকাশ আরো তরান্বিত হবে,এ অঞ্চলকে ঘিরে বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে,ব্যবসা বানিজ্যের দ্বার উম্মোচন হবে, এলাকার বেকার জনসাধারনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে,যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়নসহ,সংস্কৃতিচর্চা,কৃষ্টি ও শিক্ষা সম্প্রাসরনেও গুরত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে। পাল্টে যাবে পুরো নগরীর চেহারা।
এব্যাপারে কক্সবাজার৩(সদর-রামু) আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল জানান, কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশন,ঈদগাঁওকে উপজেলা ও রামুতে পৌরসভা বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে অনেকবার তুলে ধরেছেন এবং ইতিমধ্যে ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে ঈদগাঁওকে উপজেলায় রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান সরকারের যুগপযোগী উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে রামুতে পৌরসভা বাস্তবায়ন হবে অতি শীগ্রই। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লি¬ষ্ট মন্ত্রনালয়ে জোর তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে এ সরকারের আমলেই রামুবাসী এর সুফল পাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কক্সবাজার৩(সদর-রামু) আসনের সাবেক সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল জানান, রামুতে পৌরসভা উন্নীত করণের বিষয়ে আমি সংসদে উপস্থাপন করেছিলাম। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে জোর তদবীর ও চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে জানান।
এব্যাপারে রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল জানান, রামুতে পৌরসভা অর্ন্তভুক্তকরণে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহকারে আমি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগযোাগ ও তদবীর চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণায়নের মাননীয় সচিব হেলাল উদ্দিন আমাদের একই সংসদীয় এলাকার সন্তান। যার ফলে রামুতে পৌরসভার বাস্তাবায়নে অনেকটা সহজ হবে বলে মনে করছি। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে তাহাঁর সাথে আমার একটি হ্রদ্যতাপূর্ন সম্পর্ক রয়েছে এবং রামুর পৌরসভার বিষয়েও কথা হয়েছে। তিনি রামুর মানুষ শ্রীগ্রই একটি সুখবর পাবে বলে জানান। পাশাপাশি এব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথেও দেখা করবেন বলে জানান।











