সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণপিটুনি লইয়া আলোচনা এখন তুঙ্গে। ইহার পাশাপাশি রাজধানীতে বাড়বাড়ন্ত ডেঙ্গু জ্বর নূতন আতঙ্ক ছড়াইতেছে। যদিও চিকিত্সকরা জোর দিয়া বলিতেছেন যে, আতঙ্কের কিছু নাই, বরং সতর্কতা এবং সচেতনতা প্রয়োজন। তবে ইত্তেফাকে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক ৪৭৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হইয়া হাসপাতালে ভর্তি হইয়াছেন। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা তিন-চার গুণ বেশি।
নূতন ধরন কেবল নহে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুর ঘটনাও এইবার বাড়িয়াছে। এইজন্য চিকিত্সকেরা জানাইয়াছেন যে, আতঙ্কিত না হইয়া জ্বর হইলেই চিকিত্সকের শরণাপন্ন হইতে হইবে। তাহা হইলে মৃত্যুঝুঁকিও কমিয়া আসিবে। প্রথমত, জ্বরটি ডেঙ্গু জ্বর কি না সেই বিষয়ে নিশ্চিত হইতে হইবে। দ্বিতীয়ত, সমস্যাটি জটিল আকার যাহাতে ধারণ করিতে না পারে তাহার জন্য চিকিত্সকদের নজরদারির মধ্যে থাকাটা জরুরি। সঠিক সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হইলে এবং রোগীকে অযাচিত ও অযৌক্তিক ওষুধ প্রদান না করিলে ও রোগীকে বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় খাবার যেমন তরল, খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ খাবার-ফলের রস, লবণ, আইভি ফ্লুয়িড ইত্যাদি সেবন করিতে দিলে সাধারণভাবেই রোগী সুস্থ হইয়া যাইবে বলিয়া মনে করেন এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা। সুতরাং মশার জন্ম লইবার পরিবেশ বিনষ্টের পাশাপাশি আতঙ্কিত না হইয়া বরং সচেতন হইতে হইবে। অ্যাডিস মশা বৃদ্ধির স্থান ধ্বংস করিতে নাগরিকদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করিয়া সংক্রামক ব্যাধি আইন এবং সিটি করপোরেশন আইনের অধীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে। এই আইন অনুসারে যেই সকল ব্যক্তি নিজেদের বাড়ি পরিষ্কার করিতেছেন না, তাহাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। ইহার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করা জরুরি।












