ওয়াহিদুর রহমান রুবেলঃ
মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সমূহ সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর” নির্মাণের মাধ্য দিয়ে কক্সবাজারে ইনানী চেংছড়িতে স্থায়ীরুপ লাভ করতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র হনন মূলক প্রচারিত কাল্পনিক ইতিহাস। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেংছড়ি নামক স্থানে এটি বাস্তবায়ন করছে। বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচারিত মিথ্যাচার বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশন করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা কাল্পনিক ইতিহাস স্থায়ী রুপ দেয়াকে জামায়াত বিএনপির গোপন এজেন্ডা বলে মনে করছেন। একই সাথে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলেও দাবি তাদের। তারা বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত ইতিহাস রচনার দাবি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাল্পনিক কোন তথ্যের উপর বঙ্গবন্ধুর নামে কোন স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা হবে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে ৭ অক্টোবর ইস্কান্দর মীর্জা সামরিক শাসন জারি করেন। মাত্র ৪ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১২ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় তাকে দেড়বছর বিনা বিচারে আটক রাখা হয়। কারাগারে আটকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে ছয়টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে দিকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। প্রকৃত এ ইতিহাসকে আড়াল করে ‘১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির পর শেখ মুজিবুর রহমান পালিয়ে কক্সবাজারের ইনানীর চেংছড়িতে আত্মগোপনে এসেছিলেন বলে একটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ইতিহাস প্রচার করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি পিতা মুজিবের চরিত্র হনন করতে জামায়াত বিএনপির এজেন্টরা আত্মগোপনের কাল্পনিক কানিহী রচনা করেছিলো। অথচ কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে উক্ত স্থানে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন পাঠান। জেলা প্রশাসনের আবেদনের উপর ভিত্তি করে “ম্ুিক্তযুদ্ধের ঐতিহাসি স্থান সমূহ সংরক্ষণ ও ম্ুিক্তযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পটি” নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টম্বর এ প্রকল্পের অনুমোদন প্রদান করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৯০ হাজর ৯২৯ টাকা। যার চুক্তিমূল্য ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ৩৮২ টাকা। আশা করি দ্রæত সময়ের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারবো। কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাকসুদুল আলম বলেন, আমি মাত্র কয়েকদিন হয়েছে কক্সবাজারে যোগদান করেছি। প্রকল্প সম্পর্কে এখনো আমি বিস্তারিত জানিনা। তবে, কোন প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্ধ হলে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সে প্রকল্পটি আমরা বাস্তবায়ন করি মাত্র। এদিকে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচার পাওয়া ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক এ ইতিহাসের উপর নির্মিত প্রকল্পের কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা এ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি বঙ্গবন্ধু কখনো পালিয়ে রাজনীতি করেন নি। জামায়াত বিএনপির দোষররাই জাতির পিতাকে নিয়ে এ ধরনের চরিত্র হনন মূলক প্রচারনা চালিয়েছে। কাল্পনিক কোন তথ্যের উপর পিতা মুজিবকে নিয়ে ইতিহাস হতে পারে না। এটি দ্রæত বন্ধ করা প্রয়োজন। কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালিন সভাপতি জয়বাংলা বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। তাকে নিয়ে যেনতেন ইতিহাস প্রচার করা দু:খজনক। আমি আশা করবো কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কাল্পনিক ইতিহাস বন্ধ রেখে প্রকৃত ইতিহাসের উপর বঙ্গবন্ধুকে সম্মান্বিত করবেন। জালিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রুহুল আমিন চৌধুরী রাশেল বলেন, মূলত একটি স্বার্থন্বেষী মহল তাদের অভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হনন করে মিথ্যা ইতিহাসটি রচনা করেছিলো। সে সময় আমরা প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে জেলা প্রশাসনকে স্বারকলিপিও প্রদান করেছি। তারপরও কেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: আশরাফুল আফসার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। আমদের কাছে একটি তথ্য এসেছে যে, ১৯৫৮ সালে ১৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু একদিনের জন্য ইনানী রেস্ট হাউজে অবস্থান করেছিলেন। জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বঙ্গবন্ধু পালিয়ে এসেছিলেন বলে কোন তথ্য আমরা পায়নি। তাই আগের সিন্ধান্ত থেকে সরে এসে ইনানী রেস্ট হাউজকে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসন চাই বঙ্গবন্ধুর সঠিক ইতিহাস, ভিত্তিহীন ইতিহাস প্রতিষ্ঠা হউক চাইনা। এখন কারা উক্ত স্থানে স্থাপনা নির্মাণ করছে তা আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।













