কোনোভাবেই থামছে না ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু। আর এর বেশি শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু। যাদের বেশিরভাগই ঢাকা শহরের বাইরে বসবাস। তারই ধারাবাহিকতায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এবার প্রাণ গেল ১১ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তারিনের।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মাসুয়াখালী গ্রামের কৃষক নাসির তালুকদারের মেয়ে তারিন ৫ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।তারিনের বড় ভাই মো. রাসেল জানান, প্রায় ১২ দিন ধরে জ্বরাক্রান্ত ছিল সে। প্রথমে তাকে গোসাইরহাট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ৩-৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সর্বশেষ তাকে গত ১২ তারিখ ঢাকা মেডিকেলের ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার রক্তের প্লাটিলেট একেবারেই কমে গিয়েছিল। আইসিইউতে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে সারা দেশে ডেঙ্গু কিছুটা নিয়ন্ত্রণে
থাকলেও ঢাকা শহরের চেয়ে ঢাকার বাইরে আক্রান্ত অনেক বেশি।
গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৬১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৮ জন আর ঢাকা শহরের বাইরে ভর্তি হয়েছেন ৪১৭ জন। চলতি বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮২ হাজার ৪৫৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৭৯ হাজার ৭৬৬ জন। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ২৪৮৫ জন। এদের মধ্যে ঢাকা শহরে ভর্তি ছিলেন ৯৯৩ জন এবং ঢাকা শহরের বাইরে ১ হাজার ৯৪২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চলতি বছর ডেঙ্গু সন্দেহে ২০৩ জনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এদের মধ্যে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১১৬টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ডেঙ্গুতে ৬৮ জন মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।













