প্রেমে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর পুকুরে নিক্ষেপ

0
5

পঞ্চগড়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হত্যার পর পুকুরে ফেলে দিয়েছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। ওই ছাত্রীর নাম সাদিয়া সামাদ লিসা (১৪)। গতকাল শুক্রবার তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন কিশোরকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

লিসা আটোয়ারী সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও এলাকার আবদুস সামাদের মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, লিসার সাবেক সহপাঠী সাদ (১৪) তার লোকজন নিয়ে লিসাকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দিয়েছে। আসামিরা হলো ছোটদাপ এলাকার সাদ, আকাশ (১৫) ও মেহেদি হাসান মুন্না (১৫)। এর মধ্যে সাদ পলাতক। তাকে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপ পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, লিসা আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আকাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এ ঘটনায় লিসার সাবেক সহপাঠী সাদ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এর আগে লিসাকে সাদও প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। এ নিয়ে সাদ ও আকাশের মধ্যে মারামারিও হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি গিয়ে লিসা ও তার মাকে হুমকি দিয়ে বলে ‘আজ কিছু একটা ঘটনা ঘটবে। ’ সন্ধ্যায় লিসাকে বাড়িতে রেখে তার মা বাড়ির বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন লিসা বাড়িতে নেই। পরিবারের সন্দেহ হলে প্রথমে তারা আকাশের বাড়িতে যান। সেখানে খোঁজ না পেয়ে আকাশকে সঙ্গে নিয়ে সাদের বাড়িতে যান। এরপর সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের বাড়িতে এনে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সাদ, আকাশ ও মুন্নাকে। কিন্তু কোনো তথ্য মেলেনি। শুক্রবার সকালে প্রতিবেশীরা বাড়ির পাশের পুকুরে লিসার লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন। এ খবর শোনার পরপরই পালিয়ে যায় সাদ। মুন্না ও আকাশকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীরা।

নিহত লিসার মা খায়রুন নাহার বলেন, ‘সন্ধ্যায় লিসা ঘরের মধ্যে পড়ছিল। এ সময় আমি পাশের বাড়ির পাওনা টাকা দিয়ে এসে দেখি মেয়ে আমার ঘরে নেই। তিনজনকে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের বাড়িতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তারা মুখ খোলেনি। গোলাপ বারবার সাদকে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। আমি এর প্রতিবাদ করি। সাদকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে তারা। আমি আমার মেয়ের হত্যা বিচার চাই। ’

প্রধান আসামি সাদের বাবা স্কুলশিক্ষক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বৃহস্পতিবার আমার ছেলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাদিয়ার সঙ্গে কথা বলার অপরাধে আকাশ নামের ওই কিশোর তাকে মারধর করেছে। এই বিচার দিতে মেয়েটির বাড়িতে যায় আমার ছেলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেলেও আর ফিরে পাইনি। আমার নির্দোষ ছেলেকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ’

আটোয়ারী থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, পুকুর থেকে ওই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে তিন কিশোরকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এদের মধ্যে আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে

আগেচাঁদা না দেওয়ায় ডিস ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও ভাই খুন, বন্ধুকযুদ্ধে খুনি নিহত
পরেপোকখালীতে চিংড়ি ঘেরে ডাকাতের হানা,৭ টি মহিষ লুট!