
জাহাঙ্গীর অালম কাজল, নাইক্ষ্যংছড়ি
পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি তিন ইউপি নির্বাচন আগামি ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম ইউপি নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্ধ হয় গত ২৪ই সেপ্টেম্বর। প্রতিক পাওয়ার পর থেকে নির্ঘুম প্রচারনায় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার প্রার্থীরা।
এরই মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি নির্বাচনে নৌকা ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় চষে বেড়াচ্ছেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
তবে ভোটাররাই নির্ধারন করবেন কে হচ্ছেন আগামী নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। ভোটাররা হিসাব কষছেন কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সীমান্ত ইউনিয়ন নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের জনগনের উপকৃত হবে। কাকে ভোট দিলে এলাকা থেকে মাদক,সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মুল হবে।ভোটরা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেচে নেবেন তাদের যোগ্যমত প্রার্থীকে।
এ ক্ষেত্রে ভোটাররা বলছেন, কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন তার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনেকে নেয়নি। সে ক্ষেত্রে ভোটারদের অধিকাংশ এখন নিরব থাকলেও ভোটের দিন ঠিকই তাদের পচন্দের প্রার্থীদের গোপন ব্যালেটের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বেচে নেবেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ভোটাররা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তি পূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চান। ভোটারদের দাবি পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করে ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা।
প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস পাড়া, রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন হাট-বাজারে, স্কুল মাঠে সর্বত্র চলছে প্রার্থীদের জমজমাট প্রচার প্রচারণা।
ফেস্টুন, পোস্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে সমগ্র ইউনিয়ন। এছাড়াও মাইকে বিভিন্ন ধরনের গান বাজনার মাধ্যমে চলছে জোর প্রচার প্রচারণা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সদরসহ তিন ইউনিয়নে প্রার্থীরা এ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এতে চেয়ারম্যান পদে তিন ইউনিয়নে মোট ৭ জন ও মেম্বার পদে পুরুষ এবং মহিলাসহ অসংখ্য প্রার্থী এ নির্বাচনকে ঘিরে গণসংযোগ আর প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উপজেলা অাওয়ামীলীগের সহসভাপতি জনপ্রিয় চেয়ারম্যন তসলিম ইকবাল চৌধুরী (নৌকা প্রতীক) তিনি নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।
এসময় তিনি আগামী ১৪ ই সেপ্টেম্বর নৌকা মার্কায় ভোট দিয় নাইক্ষ্যংছড়িবাসীর সেবা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাচিত হলে তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকা- বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেন।
অপর দিকে সতন্ত্র প্রার্থী নুরুল অাবছার ইমন (অানারস প্রতীক) ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চেয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
সার্ভিক প্রসঙ্গে: নাইক্ষ্যংছড়ি থানা ইনচার্জ (ওসি) মো: অানোয়ার হোসেন বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি সদরসহ তিন ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহন শত ভাগ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনের জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত ।
নির্বাচনী পরিবেশের বিষয়ে রির্টানিং অফিসার আবু জাফর ছালেহ বলেন- সাধারণ ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন এবং প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালাতে পারেন সে জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আচরণবিধির দিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে:
উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের মোট ভোট কেন্দ্র ৯টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ১শত ২৩টি। মহিলা ৫হাজার ৪শত ভোটার ৬৭টি, পুরুষ ভোটার ৫হাজার ৬শত ৫৬টি। ঘুমধুমে মোট ভোট ৯হাজার ৩শত ০১টি, মহিলা ৪হাজার ৬শত ১৯টি, পুরষ। ৪হাজার ৬শত ৮২টি, সোনাইছড়ি মোট ভোট ৩হাজার, মহিলা ১হাজার ৭শত ২৩ভোটার, পুরুষ ভোটার ১হাজার ৭শত ৭৫টি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী অাগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।











