প্রিয় সন্তানদের প্রেমের বলি অসহায় বাবা-মা !

0
5

অনলাইন ডেস্ক  :
প্রেম মানেনা ধর্ম, বর্ণ, জাত। বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম পরিবার ও সমাজ। তবে প্রেমকে সংসারে রূপ দিতে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে হিন্দু মুসলিম ধর্মের দুই প্রেমিক-প্রেমিকা। বাবা-মায়ের এক মাত্র সন্তান শ্রীমতি উর্মিলা রাণী সরকার। নম্র, ভদ্র, উর্মিলা দেখতেও যেমন সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী কাজে কর্মে ও ব্যবহারের নানা গুণে গুণান্নিত সে। এ বছর ভাল রেজাল্ট নিয়ে এইচ.এস.সি পাশ করেছেন। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ার সুবাদে শত- দুঃখ কষ্টের মাঝেও অভাব তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। যখন যা কিছু প্রয়োজন বলা মাত্র হাজির হয়ে যেত তার সামনে। প্রিয় এই সন্তানকে নিয়ে দুনিয়া জোড়া আশা ছিল অসহায় পিতা-মাতার। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি দিয়ে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ছেলের হাত ধরে অজানা পথে পা বাড়িয়ে ১২ (বার) দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। উর্মিলার পরিবারে দাবি পাশের গ্রামের আশকর আলীর ছেলে মোঃ ছামাদ আলী তার মেয়েকে অপহরণ করে গুম করে রেখেছেন।

 

টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার বৃহত্তম রসুলপুর ইউনিয়নের দিলদারপুর গ্রামের অমল চন্দ্র সরকারের একমাত্র মেয়ে শ্রীমতি উর্মিলা রাণী সরকার পাশের গ্রামের আশকর আলীর পুত্র মোঃ ছামাদ আলীর সাথে পালিয়ে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সরজমিনে গিয়ে উর্মিলার ও ছামাদ আলীর বাবা-মা এলাকাবাসী ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায় আজ থেকে ১২ (বার) দিন পূর্বে উর্মিলা অর্নাসে ভর্তি হওয়া জন্য ফর্ম উঠাতে ধনবাড়ি কলেজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও মেয়ে বাড়িতে ফিরে না আশায় উর্মিলার মা- অঞ্জলী রাণী চিন্তায় এদিক ও দিক ছুটাছুটি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাত্রি হয়ে গেলে বাড়ির লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে জানতে পারেন উর্মিলা এখনো বাড়ি ফিরে আসেনি। নিকট আত্মীয়সহ উর্মিলার বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ফোন করে খুঁজ খবর নিয়ে কোথাও সন্ধান না পেয়ে চরম দুঃচিন্তায় পড়ে যান অসহায় বাবা-মা। ভোর হতে না হতেই কু-কথা বাতাসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলে এম.ডি. সামাদ মিয়া সাগর নামে ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মান্তরিত হবার হলফ নামাসহ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রমাণ পত্র পোষ্ট করেন। তাতে দেখা যায়- টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নোটারী পাবলিক; টাঙ্গাইল ধর্মান্তরিত হইবার হলফ নামা ও বিবাহ বন্ধনের আবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মান্তরিত ও বিবাহ বন্ধনের বিষয়টি এক সপ্তাহের অধিক সময় গোপন থাকলেও গত শুক্রবার (৪ই অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ পেলে সনাতন ধর্মাবলম্বি সম্প্রদায় থেকে শুরু করে প্রথমে নীজ ইউনিয়ন রসুলপুর ও পরে পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও হৈ-চৈ শুরু হয়ে যায়। এ ঘটনা এই এলাকায় এটাই প্রথম। পাশা-পাশি হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা ক্ষেপে গিয়ে মেয়ে ও ছেলের পরিবারকে গালমন্দ ও অভিশাপ করতে থাকেন। মূহুর্তের মধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পোষ্ট নিয়ে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে গ্রাম্য শালিষের মাধ্যমে সমাধান ও ছেলে, মেয়েকে হাজির করে সামাজিক ভাবে মিমাংসা করা হবে বলে রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদ সরকার ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার মরতুজ আলী ও ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার সেন্টু খানকে দায়িত্ব দিয়ে সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু (গত ৪ই অক্টোবর) শুক্রবার পর্যন্ত ছেলে-মেয়েকে হাজির ও মিমাংসা করতে পারেনি মেম্বারদ্বয়।

 

 

 

এ বিষয়ে উর্মিলার মা-বাবার সাথে কথা বলে জানা যায় আমার একমাত্র বুকের ধন উর্মিলাকে নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। ওরা আমার মেয়েকে গুম করে রেখেছে নাকি মেরে ফেলেছে কিছুই জানিনা। আজ ১০/১২ দিন ধরে বাড়িতে চুলা জ্বলে না। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। সামাজিক ভাবেও ব্যাপক চাপের মধ্যে আছি। নিজ সম্প্রদায়ের লোকেরা বিভিন্ন অপবাদ ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। কি অবস্থায় আছি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। কথা গুলো বলার সময় টপ-টপ করে অশ্রু ঝড়ছিল উর্মিলার অসহায় বাবা-মায়ের চোখ দিয়ে একমাত্র মেয়ে মুসলমান ছেলের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তারা।

 

 

অপর দিকে ঘটনার মুলহোতা প্রেমীক পুরুষ ছামাদ আলীর মা-বাবার সাথে কথা বলে জানা যায় অভাবের সংসারে অনেক দুঃখ কষ্ট করে সন্তানকে বড় করেছি। লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হয়ে সংসারের হাল- ধরবে আমাদের মুখে হাঁসি ফুটাবে এমনটাই চাওয়া ছিল সন্তানের প্রতি কিন্তু এ বয়সে এসে এমন বদনাম অপবাধ সইতে হবে চিন্তাও করিনি। আমরা গরীব মানুষ। দু-বেলা দু-মুঠো ভাত ছাড়া অন্য কোন চাহিদা নেই আমাদের। আমরা শান্তিতে থাকতে পছন্দ করি। দেশের এতো মুসলমান মেয়ে থাকতে একটি হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে আমাদের নাক-কান কেটে দিয়েছে এই সন্তান। এটা মেনে নিতে পারছিনা।

 

 

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিঃষ্টান ঐক্য পরিষদ বৃহত্তম রসুলপুর ইউনিয়নের সভাপতি রনজিত চন্দ্র দাস বলেন- বিষয়টি এমন হয়েছে যে, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে চরমভয় ও আতংকের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। বিয়ষটি নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার মর্তুজ আলী, রসুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও হযরত আলী মাষ্টার এলাকায় বিভাজন তৈরি করে মুসলমান হিন্দুদের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ দিতে তাহারা বিষয়টি সামাধান করতে দিচ্ছে না। আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সুধিজনের সাথে কথা বলেছি সমাধানের জন্য। মেয়ের বাবা-মা থানায় সাধারণ ডায়েরী করার পরেও প্রশাসনের কোন সহযোগীতা পাচ্ছি না। আমরা এটার সমাধান চাই আর কোন বাবা-মা যেন এমন ঘটানার স্বীকার হতে না হয়। এজন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা চাই। দেশে হিন্দু মুসলমানের সম্প্রতির এই বন্ধন যাতে নষ্ট না হয়, এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন ও সহযোগীতা করা জরুরী।

উল্লেখ্য যে, তারা দুইজনেই একই ক্লাসে লেখাপড়া করত। গত বছর দুইজনেই এইচ.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ছোট বেলা থেকেই তারা দুইজনে একই প্রাইমারী স্কুল ও হাই স্কুলে পড়ালেখা করত। একই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ত ও কোচিং করত। উর্মিলা প্রাইমারীতে পড়ার সময় থেকেই ছামাদ আলীর সাথে প্রেম ভালোবাসায় লিপ্ত ছিল।

সূত্র :  সুরমা নিউজ ২৪ ডটক।

আগেআবরার ফাহাদ হত্যা : বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি-বুয়েট
পরেআবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ, ছাত্রলীগের ৯ নেতা আটক