
কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পটিয়ায় বুধবার সকালে উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদিয়া তালিমুল কুরআন নুরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা ফারুক চৌধুরীকে (৫৫) পুলিশ মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
ওই মাওলানা জিরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী মোহাম্মদ মিয়ার পুত্র। বেশকিছুদিন ধরে ওই মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীদের নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন কওমী আকিদার মাওলানা ফারুক চৌধুরী। প্রায় সময় ক্লাস রুম থেকে মাওলানার ব্যক্তিগত রুমে ডেকে নিয়ে নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করতেন বলে অভিযোগ। মাদ্রাসার পাশে রয়েছে মাওলানার বাড়ি। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ছাত্রীকে মাদ্রাসার ব্যক্তিগত রুমে কৌশলে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়।
এক পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী শোরচিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা দৌড়ে এসে ছাত্রীকে উদ্ধার করে। ওই সময় স্থানীয় লোকজন মাওলানাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে মাদ্রাসার দরজা, জানালাসহ বেশকিছু আসবাবপত্র ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পটিয়া থানার এসআই মো. মোক্তারসহ একদল পুলিশ ছুটে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে না পারায় পরে পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিনসহ আরেকদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাওলানাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদিয়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসাটি মূলত কওমী আকিদার। এখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা হয়। মাদ্রাসার পাশাপাশি হেফজখানা রয়েছে। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা ফারুক চৌধুরী প্রায় সময় শিশু ছাত্রীদের ব্যক্তিগত রুমে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করতেন। গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার ৫ ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। এর মধ্যে তিন শিশুকে বাড়িতে ঝাড়– দিতে বলে, দুই শিশু ছাত্রীকে তার শয়ন কক্ষে নিয়ে যায় এবং একজনকে পাশের রুমে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের যৌন নিপীড়ন করে। এভাবে মাওলানা প্রায় সময় ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন করে থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব কর্মকা-ে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা অবগত হলেও ভয়ে চুপ থাকতেন। এসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ হোছাইন, হাফেজ রিফাত ও জিয়াউর রহমান লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও শিক্ষকরা জানান এবং ছাত্রীদেরকে প্রায় সময় ফারুক যৌন নিপিড়ন করতো বলে ছাত্রীরা তাকে জানান। জিরি ইউনিয়নের মেম্বার মোহাম্মদ হাসান, নছরুল্লাহ রাশেদ ও মাহবুবুর রহমান আরিফসহ স্থানীয়ারা জানান, কওমী আকিদার এই মাদ্রাসার মাওলানা ফারুক শিশুদের আদর করার কৌশলে প্রায় সময় যৌন নিপীড়ন করে আসছেন। সে একজন খারাপ চরিত্রের লোক বলে তারা জানান।
পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীকে নিয়মিত যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে পুলিশ মাদ্রাসার মাওলানাকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ব্যাপারে ছাত্রীর অভিভাবক জেসমিন আক্তার বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান











