
কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ
শিশু চুরিতে সক্রিয় হাসপাতালের আয়া, নার্স ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীরা। চট্টগ্রাম নগরীতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ঘিরে শিশু চোরদের সংঘবদ্ধ এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
চক্রটি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু সংগ্রহ করে নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি করে। বিক্রির সময় চুরির তথ্য গোপন করে ওই শিশুকে মৃত আত্মীয়স্বজনের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাঁচ মাস আগে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির মোড় থেকে এক ভিক্ষুকের ছেলেশিশু চুরির মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পেয়ে এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
গত ২৮ মে নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারের আমতল এলাকা থেকে ভিক্ষুক এক নারীর দুই মাস বয়সী বাচ্চা চুরি হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন শেফালী বেগম নামের ওই নারী।
এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি রোববার ভোর রাতে নগরীর দামপাড়া পল্টন রোডের এক দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আফসার ওরফে জাফর সাদেক (৩৮), পারভীন আক্তার (৩০) ও সুজিত কুমার নাথ (৪৫)। যাদের মধ্যে আফসার ‘মূল হোতা’ বলে পুলিশের দাবি।
রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান বলেন, “চক্রটি মূলত গরীব মানুষের শিশু সন্তানদের টার্গেট করে। তাদের কাছ থেকে শিশু চুরি করে নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি করে।”
বিভিন্ন হাসপাতালে এই চক্রটি সক্রিয় জানিয়ে তিনি বলেন, “নিঃসন্তান দম্পতিদের সাথে চুক্তি করে তারা বাচ্চা চুরি ও সংগ্রহ করে এবং নিজের মৃত স্বজনের সন্তান বলে শিশুগুলো বিক্রি করে।”
শেফালী বেগমের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ মে নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় শিশু সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষা করার সময় এক যুবক তাকে শেফালীকে তার বাচ্চার জন্য কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে চলে যায়। পরদিন বিকালে ওই যুবক আবার এসে তাদের রেয়াজউদ্দিন বাজারে নিয়ে যায়।
রেয়াজউদ্দিন বাজারে গিয়ে একটি হোটেলে নাস্তা করেন শেফালী ও ওই যুবক। নাস্তা করার পর রাস্তায় শেফালী বমি করতে থাকেন। সে সময় ওই যুবক শিশুটিকে তার কাছে রেখে সফিনা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে শেফালীকে হাতমুখ ধুয়ে আসার পরামর্শ দেন। মার্কেট থেকে নেমে শেফালী তার শিশু সন্তানকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন দিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে না পেয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন।
কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, মার্কেটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শেফালীর বাচ্চা চুরি করা যুবককে শনাক্ত করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইপিজেড থানা এলাকায় শিশু চুরির অভিযোগে ইকবাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে।
“কোতোয়ালী থানার মামলায় ইকবালকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে শেফালীর বাচ্চা চুরির বিষয়টি স্বীকার করে ও আদালতে জবানবন্দি দেয়।”
ওসি জানান, ইকবালের কাছ থেকে শিশু চোরের ‘মূল হোতা’ আফসারের তথ্য পাওয়া যায়। পরে শনিবার বিকালে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে আফসারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে চট্টগ্রামে এনে রাতে অক্সিজেন এলাকা থেকে পারভীন আক্তার ও গভীর রাতে নগীর মেহেদী বাগের ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে থেকে সুজিত নাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।











