টেকনাফে ৮ দিন ব্যাপি কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

0
5

নুরুল হোসাইন,টেকনাফ
বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বক্তব্যে বলেন,পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে আস্থা এবং বিশ্বস্ততা তৈরীর প্রাক শর্ত হলো পুলিশকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে পুলিশ এবং জনগণ অপরাধ প্রতিরোধ, শান্তি শৃঙ্খলা বজায়, এবং অন্যান্য সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে পারে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া পুলিশ তাঁদের প্রত্যাশাগুলো সন্তোষজনক পর্যায়ে সম্পন্ন করতে পারবে না।

যেহেতু পুলিশ একা পর্যাপ্ত নয় তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং যে কমিউনিটিকে তাঁরা সেবা প্রদান করেন তাঁদের মধ্যে অংশীদারিত্ব তৈরী হলে জীবন এবং সম্পত্তি রক্ষায় উভয়ই কাজ করতে পারবে।

বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং একটি খুবই সাম্প্রতিক উদ্যোগ। কমিউনিটি পুলিশিং ময়মনসিংহে ১৯৯২ সালে “টাউন ডিফেন্স পার্টি” হিসেবে চালু হয় এবং
বিভিন্ন দলের মাধ্যমে ২৫০,০০০ মানুষের নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। এর পর পরই ব্যবসায়ীদেরকে অবৈধ টোল এবং চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা
করার জন্য নাটোরে “লাঠি-বাঁশি বাহিনীর” আত্মপ্রকাশ ঘটে। তারপর শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সামাজিক সমস্যা দূর করে।

১৯৯২ সালে ময়মনসিংহে টাউন ডিফেন্স পার্টি এবং নাটোরে লাঠি-বাঁশী বাহিনীর সৃষ্টি।

২০০৭-২০০৯ সালে কমিউনিটি পুলিশিংকে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। যেহেতু প্রথমদিকে পুলিশকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে, তাই কমিউনিটি এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, কে এই পদ্ধতিটিকে জনপ্রিয় করতে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করবে? প্রাথমিক পর্যায়ে
পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হল কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া এবং পুলিশ-জনতা অংশীদারিত্ব তৈরীতে মানুষের আগ্রহ তৈরী করা। সঠিক যোগাযোগ এবং উৎসাহ প্রদান এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৯৫-১৯৯৭ সালে ঢাকায় এবং পরবর্তীতে রংপুর এবং রাজশাহীতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। অবশেষে ২০০৭ থেকে ২০০৯ এর মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং সারা দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয় যার মধ্যে স্টেশন ওপেন হাউসকে সম্পৃক্ত করা হয় যা পুলিশকে জনগণের প্রতি আরো দায়বদ্ধ করে এবং স্থানীয় থানাগুলোর সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। কমিউনিটি পুলিশিং এর প্রতি জনগণ এবং পুলিশের আগ্রহ এবং উৎসাহ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সভা, সেমিনার এবং ফোরামের আলোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে কমিউনিটি পুলিশিং। জনগণ এবং পুলিশ উভয়ই কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছে এবং এর মাধ্যমে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করেছে। কিন্তু তারপরও আমাদেরকে এ পদ্ধতির সাফল্য এবং সুফল পেতে হলে এর আরো বিস্তৃত বাস্তাবায়ন, বাধাসমূহ দূরীকরণ এবং
শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন ৮ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার হতে ৮ ডিসেম্বর রবিবার পযর্ন্ত সীবীচ সংলগ্ন হোটেল সেন্ট্রাল রিসোর্টে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি রিকভারি এন্ড রেজিলেন্স প্রজেক্ট ইউএনডিপি সহযোগীতায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশিক্ষণে যারা অংশগ্রহন করেছেন তারা হলেন, হোয়াইক্যং কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম,টেকনাফ সদর কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম, সাবরাং কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম ও পৌর কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের এআইজি সহেলী ফেরদৌস।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি নুরুল হুদা,পৌর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি মোহাম্মদ আলম বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন।

প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ মোট ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, ইউএনডিপি দাতার সংস্থার কনসালটেন্ট রতন কুমার দেব,মোঃ আবু বক্কর।

আগেঅভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচারের সময় দম্পতি গ্রেপ্তার
পরেআজ বেগম রোকেয়া দিবস