রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও করোনার হানা, উদ্বিগ্ন কক্সবাজারের সচেতন মহল

0
9

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
অবশেষে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও করোনা ভাইরাস হানা দিয়েছে। প্রথমবারে মতো ক্যাম্পের ২ রোহিঙ্গার দেহে করোনার পজেটিভ পাওয়া করেছে। বৃহস্পতিবার এ ২ রোহিঙ্গা সহ নতুন করে ১২ জনের পজেটিভ হিসেবে রিপোর্ট এসেছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বিষটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কক্সবাজারের ল্যাবে নতুন পরীক্ষা করা ১৮৬ জনের মধ্যে ১২ ব্যক্তির দেহে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। তবে তারা কোন ক্যাম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

তিনি জানান, অপর ১০ জনের মধ্যে কক্সবাজার সদরের ৯ জন এবং একজন চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে কক্সবাজারে করোনায় শনাক্ত হলেন ২ রোহিঙ্গা সহ ১৩১ জন।

 

 

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের ৮টি উপজেলা, ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোট ১৮৬ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে পরীক্ষা করার পর ১২ জনকে পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ে হেলথ্ কো-অডিনেটর ডা. তোহা বলেন, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে ৩৬ জন রোহিঙ্গার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তারমধ্যে বৃহস্পতিবার দুইজন রোহিঙ্গার করোনা পজেটিভ এসেছে। তারা দুইজনই উখিয়া ক্যাম্পের বাসিন্দা। তারমধ্যে একজন ক্যাম্প-১, ই-ব্লকের এবং অপরজন হচ্ছে এমএসএফ ওসিআই রয়েছে। দুইজন রোহিঙ্গাকেই আইসোলেশনে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া এই দুই রোহিঙ্গা ঘর ও আশপাশের এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।

ফলে কক্সবাজার জেলায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে ২ রোহিঙ্গা সহ ১৩১ জনই শনাক্ত করা হল। যদিও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পরীক্ষা হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৫ জন। অন্যান্যরা কক্সবাজার জেলার নিকটবর্তী বান্দরবান জেলার বাসিন্দা এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার বাসিন্দা।

গত ৪৩ দিনে মোট ৩৩৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা ভাইরাস টেষ্ট করা হয় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে। তারমধ্যে ১৪৫ জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ পাওয়া গেল। এর মধ্যে মহেশখালীতে ১২ জন, টেকনাফে ৭ জন, উখিয়ায় ১৪ জন, রামু ৩ জন, চকরিয়ায় ৩৭ জন, কক্সবাজার সদরে ৩৬ জন, এবং পেকুয়ায় ২০ জন রয়েছে। এর সাথে যোগ হল ২ জন রোহিঙ্গা। অন্যান্যরা কক্সবাজার জেলার নিকটবর্তী বান্দরবান জেলার বাসিন্দা এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার বাসিন্দা।

 

কক্সবাজার জেলা দিন দিন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি  নতুন করে ২ রোহিঙ্গা করোনায় আক্রান্তের ফলে কক্সবাজারের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এনিয়ে কক্সবাজারের সচেতন মহলও চিকিৎসকরা চরম আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। তাদের পরামর্শ, সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার।

 

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে প্রথম দিকে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা ছিল কম। কিন্তু চলতি মে মাসে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। লকডাউন অমান্য, শিথিল করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখাকেই দুষছেন চিকিৎসকরা।

জেলায়  দিন দিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার  কারণ হচ্ছে মানুষ সচেতন হচ্ছে না। কারণ প্রথম দিকে যখন কক্সবাজারকে লকডাউন করা হয় তখন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। কিন্তু যখন লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে তখন দেখা যাচ্ছে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। বিশেষ করে দেখা যাচ্ছে, লকডাউন শিথিলতার কারণে মানুষ নানা উপায়ে কক্সবাজারে প্রবেশ করছে। আর প্রবেশকৃত ব্যক্তিরা সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া জানান, শুরু থেকে রামুর সব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সাথে বৈঠক করা হয়েছে। যেখানে সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং রামুতে বাইরে থেকে কোন প্রবেশ করলে ১৪দিন কোরাইন্টানে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা কারণে কিন্তু রামুতে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সংখ্যা কম। তাই এই মুহুর্তে জেলায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা কমাতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে, স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়টা খুবই ভাল হতে হবে। তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে কিংবা ইউনিয়নে জেলার বাইরে থেকে যারা আসবে তাদেরকে অবশ্যই ১৪দিন কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক দূরত্ব বজায় ও সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মানলেই জেলায় করোনা সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হবে বলে তিনি জানান।

 

 

আগেচকরিয়া মাতামুহুরী নদীর পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
পরেরামুকে করোনা মুক্ত রাখতে মাঠের সফল এক যোদ্ধা- ইউএনও প্রনয় চাকমা