কক্সবাজারে আইনের তোয়াক্কা না করে সৈকতের ২০ মিটারের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে শতশত স্থাপনা

0
52

 

বার্তা পরিবেশক:

পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) আইনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ৩০০ মিটারের মধ্যে যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ অবৈধ হলেও গড়ে উঠেছে শতশত স্থাপনা। মনে হয় অবিভাবকহীন কক্সবাজার, দেখার কেউ নেই।
কিন্তু পরিবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুুলি দেখিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় সমুদ্র সৈকতের মাত্র ২০ মিটারের মধ্যে গড়ে উঠছে অনেক বহুতল ভবন। বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও এখন এ সব স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা।
সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট সহ মেরিন ড্রাইভ সড়কের সাগর পাড়ে বিভিন্ন স্থানে এই ভবন গুলো গড়ে উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করছে এ সব সিন্ডিকেটের লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হওয়ার আগের কক্সবাজার পৌরসভার নামে বানানো ভুয়া অনুমোদন দেখিয়ে ভবন গুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। সমুদ্রের পেটের ভেতর এই ভবন নির্মাণ নিয়ে পরিবেশবাদীসহ সচেতন মহল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র টাকা দিয়ে অসহায় জমি মালিকদের জিম্মি করে জমি লিখে নেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
একইভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রভাব খাটিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে পেছনের তারিখ দিয়ে পৌরসভার একটি ভুয়া অনুমোদনপত্র তৈরি করে সম্প্রতি তড়িঘড়ি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে।

আওয়ামীলীগ চলে যাওয়ার পর এখন নতুনভাবে কৌশল পাল্টিয়ে বিভিন্ন ডেভলাপার প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ভবন গুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।

এসব স্থাপনার মধ্যে অন্যতম হলো কলাতলির মেরিন ড্রাইভ সড়কের লাগোয়া আরএফ বিল্ডার্সের পার্ল অব প্যানোয়া, নামরিন এন্টারপ্রাইজ এর ১৮ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন, গ্রীন ডেল্টা নিজেদের নাম পাল্টিয়ে নির্মান করে যাচ্ছে সমুদ্রের ৫০ ফিটের মধ্যে গোল্ড সেন্ড হোটেল, কলাতলীর বীচ সংলগ্ন হোটেল প্রেজটিজ অন্যতম।

ইসিএ এলাকায় কউকের অনুমতি ছাড়া কিভাবে ভবন নির্মান করছেন এ প্রশ্নের জবাবে নামরিন এন্টারপ্রাইজ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আকবর জানান- আমরা কক্সবাজার পৌরসভার অনুমতি নিয়ে নকশা অনুমোদন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সকল কাগজপত্র আছে বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুমেল বড়ুয়া বলেন- কউক ২০১৬ সাল কার্যক্রম তথা নকশা অনুমোদনের কাজ শুরু করেছে কিন্তু নামরিন এন্টারপ্রাইজ ২০১৩ সালের আগে পৌরসভার থেকে নকশার অনুমোদন নিয়েছে। কউক গঠিত হওয়ার পর তারা কউকের অনুৃমোদন নিয়েছে কিনা আমি জানিনা। কক্সবাজারে এ ধরনের অনিয়ম করে অনেক ভবন নির্মান করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবন নির্মাণের স্থান গুলো চারিদিকে উঁচু করে বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। গেইটে শক্ত পাহারায় রয়েছে দারোয়ানসহ কয়েকজন। গণমাধ্যমকর্মীরা পরিদর্শনে গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। পরে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত প্রতিটি প্রকল্পে ৪০ থেকে ৫০ জন নির্মাণশ্রমিক সমানতালে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক স্থাপনার গ্রাউন্ড ফ্লোর নির্মাণ শেষ করে পরবর্তী ফ্লোরের কাজ শুরু করেছে। পাশের আরেকটি খালি জমিতে রাখা হয়েছে লোহা, সিমেন্ট, কংকর ও বালিসহ বিপুল নির্মাণ সামগ্রী।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এই অবৈধ বহুভবন নির্মাণে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে ডেভলাপার কোম্পানি ও মালিকরা।
কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার ভূয়া কাগজপত্র তৈরির কাজ করে দিচ্ছে
কক্সবাজারে অবস্থান করা ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান নামের উত্তরবঙ্গের একটি ব্যক্তিসহ আরো কয়েকজন। এই সিন্ডিকেটের সাথে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজস রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কউক কর্মচারীর মাধ্যমে কউককে ম্যানেজ করা হচ্ছে। ফলে নাকের ডগায় তরতর করে এই অবৈধ ভবনগুলো উঠলেও নিশ্চুপ রয়েছে কউক!
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভবন নির্মাণ করতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল এভিয়েশনের ছাড়পত্র দরকার। কিন্তু এই সব ভবন নির্মাণে চার কর্তৃপক্ষের কারো অনুমোদন ও ছাড়পত্র নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (ইঞ্জিনিয়ার) লে. কর্ণেল আবু নাঈম মোঃ তালাত বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। এই অভিযোগ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হলো। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ”
তিনি আরো বলেন, “কউক’র কেউ এই অনিয়মে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজ অফিসার রিসাদ উন নবী বলেন- কউকের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে কক্সবাজারে ১৫০০ মত নকশার অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিন্তু ইসিএ এলাকায় কোন নকশার অনুমোদন দেয়নি কউক। যারা এসব অবৈধ স্থাপনা ইসিএ এলাকায় নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে শীগ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসিএ এলাকায় ভবন নির্মানে বিধি আরোপিত রয়েছে।

আগেরামুতে জনতার সহায়তায় কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার
পরেরামুতে সার্টিফিকেট সংশোধনের নামে অর্থ আত্মসাৎ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভোগান্তি