
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারের শরনার্থী শিবিরে ৮ জুন আরও দুই রোহিঙ্গা কভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। নিহতদের একজনের বয়স ৫৮ বছর এবং অপরজনের বয়স ৭০ বছর।তারা ক্যাম্প-১০ ও ক্যাম্প-৭ এর বাসিন্ধা। এর আগে গত ১জুন ৭১ বছরের বৃদ্ধ ক্যাম্পের সারি আইসোলেশন সেন্টারে চিকিতসাধীন অবস্থা মারা যায়। এনিয়ে কক্সবাজার শরনার্থী শিবিরে মোট তিন জন রোহিঙ্গা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যূবরণ করল।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ৮জুন পিসিআর ল্যাবে আরও ৫ রোহিঙ্গার করোনা পজিটিভ আসে। এরা হলো ক্যাম্প-৮ই ব্লক-৩৭ ছকিনা খাতুন(৩৭), ক্যাম্প-১০ ব্লক-এফ২০ সৈয়দ আলম(৭০), ক্যাম্প-১২ ব্লক-জি ৬০ আবুল ফয়েজ(৫৩),ক্যাম্প-৬ ব্লক-ই৩ এস-এ হামিদুর রহমান(২৮) এবং ক্যাম্প-৭ ব্লক-এ ১ এর ইসমত আরা(১৮)।
মঙ্গলবার এ সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন (আরআরআরসি) কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা.আবু তোহা এম আর এইচ ভুঁইয়া। তিনি জানান করোনায় দই জনের মৃত্যূ ছাড়াও গত ২৪ ঘন্টায় আরও পাঁচ রোহিঙ্গার করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছেেএছাড়া একজন ফলোআপ রোগী রয়েছে। এনিয়ে ৮ জুন পর্যন্ত ৩৫ রোহিঙ্গা করোনা পজিটিভ হয়েছেন এবং ২ জন সুস্থ রয়েছে।এর মধ্যে মারা গেছেন ৩জন। আর রোহিঙ্গা আইসোলেশন ইউনিটে ৩০ জনের অধিক ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে তিন রোহিঙ্গা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবরে শরণাথী শিবিরগুলোতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝিরা জানিয়েছেন,করোনায় তিনজনের মৃত্যূর খবরে লোকজন ভয়ে আছে। তাদের অভিযোগ রোহিঙ্গাদের এ ভাইরাস কখনো ছিল না।তারা এ প্রথম এ নাম শুনেছেন। মুলত ক্যাম্পে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওতে কর্মরতদের মাধ্যমে এ ভাইরাসটি তাদের মধ্যে ছড়িয়েছে। আর ক্যাম্পগুলো ঘন বসতি হওয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে এখন রোহিঙ্গারা। তাদের মতে,ক্যাম্পগুলোতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ রোধে চোখে পড়ার মতো কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। কীভাবে এই ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়, সেটি অনেকেই এখন পর্যন্ত জানে না।
প্রসঙ্গত,মিয়ানমারের সেনাদের অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় শরণার্থীশিবিরে বসবাস করছেন।













