
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ‘কথিত’ ধর্ষণের ঘটনার মামলায় সেই দুইজন স্বাক্ষী এই ঘটনায় কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ধর্ষণের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। তবে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসমান সরওয়ারকে আটকের বিষয়টি দেখেছি। কিন্তু রাতে কি হয়েছে বা কারা কি করেছে এসব জানি না। কিন্তু মামলায় আমাদের স্বাক্ষী করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, কথিত ধর্ষিত তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে জনৈক ব্যক্তির পরিচয় হয়। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় ওই ব্যক্তির সাথে দেখা করতে আসেন তিনি। পরে কক্সবাজার সৈকতে পৌঁছার পর থেকে প্রেমিকের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর রাত ঘনিয়ে এলে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকায় পর্যটক ছাতা (কিটকট) ভাড়া নেন। রাতের একপর্যায়ে ওসমান ওই তরুণীকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানায়। পরে বিজিবির উর্মি রেস্তোরার পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ওসমান ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। এমন ঘটনা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ওই তরুণী কক্সবাজার সদর থানায় অভিযোগে দায়ের করেন। অভিযোগের পর দুপুরে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে ওসমান সরওয়ার (২৬) কে আটক করে সদর থানার এসআই পিন্টু কুমার দাস। ওসমান কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকায় পর্যটক ছাতা (কিটকট) পরিচালনাকারী এবং শহরের কলাতলী সংলগ্ন আদর্শগ্রাম এলাকার আবুল বশরের ছেলে তিনি। গত শুক্রবার দুপুরে ধর্ষণের মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ওসমান সরওয়ারকে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।
এই মামলায় দুইজনকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। তারা হলেন, কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়া এলাকার মৃত করিম উল্লাহ’র ছেলে মো. আমান উল্লাহ ও ঘোনার পাড়া এলাকার মৃত মোক্তার আলীর ছেলে মো. ওমর ফারুক।
আমান উল্লাহ বলেন, ধর্ষণের মামলায় ওসমানকে আটক করে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে শুনেছি। ওই মামলায় আমাকে এক নাম্বার স্বাক্ষী করা হয়েছে। অথচ ধর্ষণের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং কিছু দেখিওনি। ওই মেয়েটিকেও চিনি না। কিন্তু ওসমান আমার পরিচিত।
অপর স্বাক্ষী মো. ওমর ফারুক বলেন, এজাহারে ঘটনার যে সময়টুকু উল্লেখ করা হয়েছে ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পুলিশ ওসমানকে আটক যখন করেছে তখন আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। কিন্তুু এর আগের রাতে বা দুইদিন আগে কি হয়েছে আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু ওচমানকে আটকের বিষয়টি দেখেছি। অথচ আমাকে দুই নাম্বার স্বাক্ষী করা হয়েছে।
এদিকে ওই তরুণী সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে পালিয়ে গেলেও এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনদিন হলেও ওই মেয়েটির খুঁজ পায়নি কেউ ।
ওসমানের ছোট ভাই মো. রাশেদ বলেন, মামলার এজাহারে ওই তরুণীর নাম দেওয়া হয়েছে সুমি আক্তার মুন্নি (১৮)। পিতা জাফর আলম। ঠিকানা চকরিয়া উপজেলায়। কিন্তু ওই মেয়েটির বাসা হলো কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়া এলাকায়। সে পরিচয় গোপন করেছে একই সাথে পালিয়েছেও। মেয়েটির যদি দুর্বলতা না হয় তাহলে পালিয়েছে কেন? তাছাড়া পরিচয় গোপন কেন রাখলো।
মো. রাশেদ আরও জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে মেয়েটি সৈকত এলাকায় চেয়ারে বসা ছিল। রাত যখন ১১ টা তখন চেয়ারছাতা বন্ধ করার সময়। ওই সময়ে মেয়েটিকে চলে যাওয়ার জন্য বলে। এমনকি বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদেরও অবগত করেছিল ওসমান। কিন্তু পরের দিন বৃহস্পতিবার দেখা গেছে পুলিশ গিয়ে তার ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি বলেন, যদি মেয়েটি আসলেই ধর্ষণের শিকার হতো তাহলে, হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে কেন? আর ১৮ বছরের একটা মেয়েকে জোরকরে একজনে কিভাবে ধর্ষণ করতে পারে? বিষয়টি সৈকত এলাকায় গিয়ে তদন্ত করলে সত্যটা জানা যাবে। কোনো কিছু তদন্ত না করেই এবং মেয়েটি কে, তার পরিচয় কি এসব তদন্ত না করেই হুট করে মামলা দিয়ে আমার ভাইকে আটক করেছে। আর যাদের স্বাক্ষী করা হয়েছে তারও কিছুই জানে না। এইসব স্বাক্ষীও ভূয়া আর অভিযোগকারীও ভূয়া।













