
এম.এ আজিজ রাসেল
‘মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ এই প্রতিবাদ্যে সরকার লাখো গৃহহীন মানুষকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর, জমি ও ফ্ল্যাট দেয়। কক্সবাজারেও হাজারো লোকজনকে খুরুশকুলে পুনর্বাসন করে জেলা প্রশাসন। তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় ফ্ল্যাট, জমি ও ঘর। অনেক পরিবারকে জীবন-জীবিকার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে সুগন্ধার সী-গাল হোটেল পাড়ার সমাজ নেতাদের দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় পুনর্বাসনের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান হয়নি ১১ পরিবারের। এতে এসব পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার আবাসন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়। এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের আবাসন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হওয়া ওই ১১ পরিবার বিষয়টি জেলা প্রশাসক, সদরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন আকারে জানান।
আবেদনে বলা হয়, সুগন্ধার সী-গাল হোটেল পাড়া থেকে ভূমিহীনদের খুরুশকুলে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিগত দেড় বছর আগে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওইসময় সুগন্ধার সী-গাল হোটেল পাড়া সমাজের সভাপতি আলাউদ্দিন, সহ-সভাপতি নুর আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ও সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউসুফকে এখানকার প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসনকে জমা দিতে বলা হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই সমাজ নেতারা সিন্ডিকেট করে ৯৭ পরিবারের একটি খসড়া তালিকা করে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রত্যেক পরিবারের নিকট ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। অথচ ওই এলাকায় প্রকৃত ভূমিহীন ছিল ৩৬ পরিবার। বাকিদের কাছ থেকে ৮০ থেকে ১ লক্ষ টাকা নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত করা হয়।
এদিকে চূড়ান্ত তালিকার নামে পুনরায় ৯৭ পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে অনেকে সমাজ নেতাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে পারলেও প্রকৃত ভূমিহীন ১১ পরিবার টাকা দিতে পারেনি। বিষয়টি ওই সময় বঞ্চিতরা ১২নং ওয়ার্ডের প্রয়াত কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমদ বাবু ও তৎকালীন এসিল্যান্ড শাহরিয়ার মুক্তারকে বিষয়টি জানালে তালিকাটি স্থগিত করা হয়। এতে গা ঢাকা দেয় ওই সমাজ নেতারা। কিন্তু পরে এসিল্যান্ড শাহরিয়ার মুক্তারের বদলি ও কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমদ বাবু মারা যাওয়ায় চক্রটি ফের সক্রিয় হয়ে উঠে।
গেল রমজানে সমাজ নেতাদের প্রদানকৃত তালিকা অনুসারে খুরুশকুলে সী-গাল পাড়ার ৯৭ ভূমিহীন পরিবারকে দুই গন্ডা করে জমি দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে ওই এলাকার প্রকৃত পরিবার আছে ২০টি। বাকিদের ৮০ থেকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে এনে অন্তর্ভুক্ত করেছে ওই সমাজ নেতারা। তাছাড়া এখানে কোন বাড়ি না থাকলেও খুরুশকুলে জমি পেয়েছে বীচ কর্মী খোরশেদ। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত ১১ ভূমিহীন পরিবার পায়নি কাঙ্খিত জমি। অভিযোগ উঠে সমাজ নেতাদের চক্রটি পৌর মেয়র ও এসিল্যান্ডের অগোচরে তাদের নাম ব্যবহার করে ওই ১১ ভূমিহীন পরিবারের জমি অন্যদের মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। কোরবানী ঈদেও চক্রটি ঘর পাওয়া ৯৭ পরিবারের নাম দিয়ে জেলা প্রশাসন থেকে গরু এবং ছাগল বরাদ্দ নিয়ে নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, একই চক্র কলাতলী বড়ছড়া এলাকায়ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসন তালিকা নিয়ে এমন নয়ছয় করে। বর্তমানে ওই চক্রটি আবারও সী-গাল পাড়ার উচ্ছেদকৃত জায়গায় এসে বসবাস, ভূমি ও পুকুর দখল করে মাছ চাষ, ঘর ভাড়া দেওয়াসহ বিভিন্ন অপকর্ম করছে। তাদের সাথে যোগ দিচ্ছে পুনর্বাসন হওয়া ৯৭ পরিবারের অধিকাংশই। তারা খুরুশকুলে সরকারের দেওয়া জমি বিক্রি করে এখানে আবারও আবাস গড়েছে। কিন্তুসরকারের আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকে গেছে এখানকার প্রকৃত ১১ ভূমিহীন পরিবার। তাই তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর উপহার আবাসন বরাদ্দ (জমি ) পেতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ হলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। সেই সাথে ওই ১১ পরিবার প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন হলে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।













