বার্তা পরিবেশক:
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল মাসে এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। তাঁর আগমনে অমানবিক বর্বরতা, কুসংস্কার ও জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর হয় এবং মানবতার মুক্তি, ন্যায় ও আলোর পথ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। সমগ্র মানবজাতির জন্য তিনি রেখে গেছেন অনন্য আদর্শ ও চিরন্তন জীবনবিধান।
সেই মহান আদর্শ স্মরণ ও অনুসরণের প্রয়াসে কক্সবাজার জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) যথাযোগ্য মর্যাদা ও আড়ম্বরের মধ্য দিয়ে পালিত হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ)।
সকাল ১০টায় কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির শুভ সূচনা হয়। এরপর পবিত্র না’তে রাসূল(সঃ) পরিবেশনে সৃষ্টি হয় হৃদয়গ্রাহী ধর্মীয় আবহ। বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় দিনব্যাপী আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণোচ্ছল ও দর্শনীয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক জনাব মুহাম্মদ জহিরুল হক। উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব সঞ্জিৎ শর্মা, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ- রফিকুল ইসলাম, নজিবুল আলম, উবাইদুল হক, কবির আহমদ, মাওলানা আবু ছৈয়দ, মাইকেল পাল, শওদা পারভীন, খাইরুন্নেছা মুন্নী, আহমদুর রহমান, আবুল কাসেম আশরাফ, আব্দুর রাশেদ, হামিদুর রহমান, মোহাম্মদ ফয়সাল, রোখসানা পারভীন লিলি, সামিরা শারমিন, আব্দুল হক রণি, নুরুল হক বুলবুল, পারভীন আকতার, নুরুল হক, দিদারুল আলমসহ আরও অনেকে। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে বর্ণাঢ্য ও প্রাণময়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নানা প্রতিযোগিতা। কুরআন তেলাওয়াত, না’তে রাসূল, মহানবী (সঃ)-এর জীবনীভিত্তিক বক্তৃতা, রচনা, কুইজ, দেয়ালিকা প্রকাশনা ও “মানবতার আদর্শ” বিষয়ক লেখা প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, প্রজ্ঞা ও শিল্পকুশলতার উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিশেষভাবে মহানবীর অমীয় বাণীসমূহের প্রদর্শনী দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আলোচকবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে নবী করীম (সঃ)-এর জীবনাদর্শ তুলে ধরে বলেন, তিনি কেবল মুসলমানদের জন্যই নন, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবতার দিশারি। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলেই পৃথিবী থেকে হিংসা, অশান্তি ও বৈষম্য দূর হয়ে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বক্তৃতার পর প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। এতে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হয় এবং নবীর শিক্ষা ও জীবনাদর্শের প্রতি নতুনভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে মাওলানা আবু ছৈয়দ হৃদয়স্পর্শী দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি নবী করীম (সঃ)-এর প্রতি দরুদ পেশ করে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সাফল্যের জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করেন।
শেষপর্বে সভাপতি জনাব মুহাম্মদ জহিরুল হক উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মিলাদুন্নবীর আনন্দ ও শিক্ষামূলক পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।