
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মহেশখালীতে মহাবিপন্ন প্রজাতির শতাধিক বানর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষনা সহ ৮ দফা দাবীতে মহেশখালীতে মানববন্ধন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন।
মহেশখালীতে মহাবিপন্ন প্রজাতির বানর হত্যার প্রতিবাদে “বন্যপ্রাণীর প্রতি সহিংসতা রুখো” ¯েøাগানে বানর হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও মানববন্ধনের আয়োজন করে সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদ। সকালে বানর হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক বিকেলে মহেশখালী উপজেলা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আ.ন.ম. মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও ওয়ান বাই টুয়ান্টিফোর সোশ্যাল মুভমেন্ট এর এনভায়রনমেন্ট এন্ড বায়ুডায়বারসিটি উইং লিডার রুমানা রিফাত রিমকির সঞ্চালনায় অনুষ্টিত হয়।
এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ ককসবাজার জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন আবু ও আ.ন.ম. হাসান, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ককসবাজার জেলার নেতা ও সাবেক ছাত্র নেতা মনির মোবারক, সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ ককসবাজার জেলা সহ:সাধারন সম্পাদক মো:নেজাম ফারাব্বী, ওয়ান বাই টুয়ান্টিফোর সোশ্যাল মুভমেন্টের সভাপতি জামাল উদ্দীন, সমাজকর্মী মনির উদ্দিন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মহেশখালী উপজেলা সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মহেশখালী উপজেলা সভাপতি প্রিন্স প্রান্ত, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ মহেশখালী উপজেলা সাধারন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ টেকনাফ উপজেলা সভাপতি জালাল উদ্দীন, ফায়সাল উদ্দীন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন গত ১১/১০/২১ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫:৩০ মিনিটের সময় মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীর ভারিতিল্লা পাহাড়ী ঘোনা যা মুদিরছড়া বন বিটের অধীনস্থ পাহাড় মহেশখালী মৌজায় মহাবিপন্ন প্রজাতির শতাধিক কুলু বানর/শুকর লেজি বানর (ঘড়ৎঃযবৎহ ঢ়রম-ঃধরষবফ গধপধয়ঁব) কে কলার সাথে বিষ মাখিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরিকল্পিত ভাবে একসাথে এতগুলো বন্যপ্রাণী হত্যা, যা এদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বন্যপ্রাণী হত্যাকান্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে । এতে গত ১৭/১০/২১ তারিখে মুদিরছড়া বিট কর্মকর্তা অঞ্জন কান্তি বিশ্বাস বাদী হয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষন ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর ৩৯ ধারা মোতাবেক মামলা দায়ের করেছেন। অথচ এখনো অব্দি মামলার কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাছাড়া বন বিভাগের করা মামলাতে ভিন্ন প্রজাতির বানর যা (গধপধপধ গঁষধঃঃধ) বলে উল্লেখ করেছে। যার ফলে পোষ্টমর্টেম রিপোর্টের সাথে এই অঞ্চলে বিচরন করা বানরের প্রজাতির ভিন্নতা থাকায় এই হত্যাকান্ড প্রমান করা অসম্ভব। তাই চিহ্নিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী গবেষক দ্বারা এই বানরের প্রজাতি তাদের প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করে আর্জি সংশোধন করার বক্তারা জোর দাবী জানান।
মহেশখালীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দাবী সমূহ:
১। এই প্রজাতির বানরের আবাসস্থলকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষনা করা।
২। এই বনে বানর সহ বন্যপ্রাণীর চাহিদা উপযোগী খাদ্যশৃঙ্খল গড়ে তোলা ও তাদের অন্যতম পচন্দ আম, আনারস সহ বন্য ফলের বৃক্ষ সৃজনের উদ্যোগ গ্রহন করা।
৩। সরকারের অনুমতি ব্যাতিত যে কোন ধরনের কৃত্রিম খাবার প্রদান ও তাদের উপর কোন ধরনের গবেষনা না করা।
৪। এই বানরের আবাসস্থলের পরিপার্শ্বিক কোন ধরনের ক্ষতি হয় এমন কেন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন না করা।
৫। এই বানরের আবাসস্থলের আশেপাশে যে সব গাছে ফুল হয়না, ফল হয়না, পাখি বা বন্যপ্রাণী আস্রয় নিতে পারেনা এই ধরনের বৃক্ষ যেমন আকাশমণি ইউক্যালিপটাস জাতীয় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বৃক্ষ সৃজন থেকো বিরত রাখা।
৬। ঐ অঞ্চলের ইকোসিস্টেমের সাথে সহায়ক এমন কোন ধরনের বৃক্ষ নিধন থেকে বিরত রাখা।
৭। ঐ অঞ্চলে এই প্রাণী সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা ও মহল্লা ভিত্তিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষনে সেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলা।
৮। তাদের বিচরন ক্ষেত্র ও তৎসংলগ্ন এলাকায় কোন ধরনের কৃষিকাজ বা শষ্য উৎপাদন না করে বরং প্রাকৃতিক বনের ইকোসিস্টেম সমৃদ্ধ করা।













