
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মহান বিজয় দিবসে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি হওয়ায় পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সাগরকন্যা কক্সবাজার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের হোটেলগুলোতে আগামী তিনদিন পর্যন্ত বুকিং খালি নেই। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী ৮টি জাহাজের টিকেটও প্রায় শেষ। বিজয় দিবসের ছুটিতে অবকাশ যাপনের জন্য ভ্রমণ পিপাসু হাজার হাজার মানুষ আজ সকাল থেকেই কক্সবাজারমুখী হয়েছে।
তবে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও পরিবহন সংস্থাগুলো পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া হোটেলের কিছু কক্ষ আগাম বুকিং নিয়েছে কালোবাজারি একটি চক্র, যারা অতিরিক্ত ভাড়ায় এসব রুম ভাড়া দিচ্ছে।
পর্যটক মোহাম্মদ রফিক জানান, বিজয় দিবসের ছুটির দিনের সাথে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিন সরকারি ছুটি পেয়েছি। তাই বছরের শেষে পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে কক্সবাজারে আসলাম। কিন্তু এখানে হোটেলের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি রাখছে।
হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, ‘কক্সবাজারে প্রায় সাড়ে ৫ শত ছোট-বড় হোটেল গেস্ট হাউস আছে গুলো বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটক আসা শুরু করেছে। আশা করি এবারে কক্সবাজারে অতীতের চেয়ে বেশি পর্যটক আসবে। আর হোটেল মালিকদের পক্ষ থেকে পর্যটকদের কোনভাবেই হয়রানি না করার জন্য সবার প্রতি কড়া নির্দেশ আছে।’
হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, মূলত প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হয় সেটা চলে মার্চ মাস পর্যন্ত। তার ধারাবাহিকতায় এবারও পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি এবার ব্যবসা ভালো হবে।
এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি লোকসান কাটিয়ে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত দুই বছর করোনাকালীন সময়ে পর্যটন মৌসুমেও হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসান গেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়।
কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান জানান, কক্সবাজার বিশ্বের অন্যতম উন্নত পর্যটন শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সেই সাথে পর্যটকদের নিরাপত্তা জন্য কাজ মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।
প্রতিটি হোটেল-মোটেলে স্বাস্থ্যবিধি মানার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান জানান, ‘বিজয় দিবসে অতিরিক্ত পর্যটক আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সৈকতের ছয়টি পয়েন্টে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে।’













