
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
স্বামী ও সন্তান নিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই নারী। উদ্দেশ্য একটাই; দেশি-বিদেশি ট্যুরিস্টদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে করাতে হবে সন্তানের চিকিৎসা। কারণ, ওই নারীর আট মাসের শিশু সন্তানের হার্ট জন্মগতভাবে ছিদ্র। তার চিকিৎসায় প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা। তবে সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ান আশিকুল ইসলাম আশিকের চক্র। তারাও দাবি করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা। পরে তাদের চাঁদা দিতে আপত্তি জানালে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে ওই নারীকে ধর্ষণ করে আশিকুর ইসলামসহ তার সংঘবদ্ধ চক্রটি।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূলহোতা ও প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব কথা জানিয়েছে র্যাব।
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান র্যাবের মুখপাত্র খন্দকার কমান্ডার আল মঈন।
খন্দকার কমান্ডার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আশিক জানায়, সে ও তার সহযোগীরা ভিকটিম ও তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। ভিকটিম ও তার পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। দাবি করা টাকা না পেয়ে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে ওই নারীকে ধর্ষণ করে আশিকুল ও তার সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনার আগের দিনই ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় আশিকের। গ্রেপ্তার আশিক কক্সবাজারে পর্যটক এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মূল হোতা। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা ৩০-৩৫ জন। বিগত ২০১২ সাল হতে কক্সবাজার পর্যটক এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সে প্রথম ২০১৪ সালে অস্ত্রসহও গ্রেপ্তার হন। সে ও তাঁর সিন্ডিকেট পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, জিম্মি, চাঁদাবাজি, জবরদখল, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। সে পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন হোটেলে ম্যানেজারের সঙ্গে যোগসাজশে পর্যটকদের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করত।
তিনি আরও জানান, আশিক পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন রকম জবরদখল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। সে পর্যটন এলাকার সুগন্ধা এলাকায় ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জোরপূর্বক কম টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়ে ক্ষেত্রে বিশেষে দ্বিগুণ ও তিনগুণ ভাড়া আদায় করে মূল মালিকদের বঞ্চিত করে থাকে। গ্রেপ্তার আশিক বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অবৈধ দখল করে ও চাঁদা দাবি করে। তার চক্রের সদস্যরা রাতে বিচে আসা ট্যুরিস্টদের হেনস্তা, মোবাইল ছিনতাই, ফাঁদে ফেলা ও নিয়মিত ইভটিজিং করতো। পাশাপাশি হোটেল-মোটেল জোনে বিভিন্ন ট্যুরিস্টদের সুযোগ বুঝে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করতো বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে শহরের সন্ত্রাসী আশিক ঢাকা থেকে স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসা এক নারী পর্যটককে তুলে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। পরে কক্সবাজারের হোটেল জিয়া গেস্ট ইন থেকে র্যাব ধর্ষিতা নারী পর্যটককে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার আশিকুল ইসলাম আশিকসহ এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- আশিকের দুই সহযোগী ইস্রাফিল খুদা জয়, মেহেদী হাসান বাবু এবং হোটেলের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন ছোটন। আসামিদের মধ্যে জিয়া গেস্ট ইনের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।













