
শাহেদ মিজান:
নতুন বছরের শুরুতেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে। যান্ত্রিক জীবনের একটু ক্লান্তি দূর করতে বিনোদনের খোঁজে সবাই ভিড় জমিয়েছে সৈকতে। তবে শুধু দেশি পর্যটক নয়; বিদেশি পর্যটকদেরও পদচারণায় মুখরিত বালিয়াড়ি।
আজ শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সৈকতের লাবণী থেকে সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ বিদেশি পর্যটকের ঢল। গত কয়েকদিন ধরে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টের পানিতে নেমে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে বিদেশি পর্যটকদের। বছরের প্রথম দিনটিতে স্থানীয় ও দেশিদের মতোও বিদেশি পর্যটকরাও সমুদ্রস্নানে ব্যস্ত। কেউ বালিয়াড়িতে দৌঁড়ঝাপ, কেউ বা ফটোগ্রাফিতে ব্যস্ত। বলা যায়, পর্যটকরা যে যার মতো করেই আনন্দে মাতছেন।
বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা দোভাষি তানিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, দলবদ্ধ হয়ে পাবনার রূপপুরে কয়লাখনিতে কাজ করা অর্ধশত বিদেশি এক সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছেন। তারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘুরে ও সমুদ্রে নেমে গোসল করে বেশ আনন্দ উপভোগ করেছেন।
এদিকে বিদেশি এসব পর্যটক দেখে কৌতুহলী হয়ে উঠে দেশি পর্যটক ও স্থানীয়রা। অনেকে ছবি ও সেলফি তুলতে চেষ্টা করে। দেশিয় এই কৌতুহল মাত্রারিক্ত হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে পড়ে বিদেশি পর্যটকরা। অন্যদিকে তাদের ঘিরে ভিক্ষুকের উৎপাতও বেশ চোখে পড়েছে। সেই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশ ক’জন ভিক্ষুক হাত পেতে এসব বিদেশির কাছ থেকে ভিক্ষা চান। ভিক্ষুকদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে বিদেশিরা। বিদেশি পর্যটকের এই উপস্থিতিকে শুভ লক্ষণ জানিয়ে তাদের যত্ন নেয়ার ও নিরাপত্তাসহ নানা উৎপাত থেকে বিদেশিদের মুক্ত রাখার আহ্বান সচেতন মহলের।
কক্সবাজারে কর্মরত ঢাকা ব্যাংকের কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, মেয়েদের জন্য আলাদা জোন না করে বিদেশিদের জন্য আলাদা জোন করা এখন সময়েরই দাবি। আমাদের দেশিয় লোকজনের মাত্রারিক্ত কৌতুহল ও উৎপাত থেকে রক্ষা করে মুক্তভাবে সৈকত ভ্রমণ উপভোগের জন্য আলাদা জোন করা খুব প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তা করা গেলে বিদেশি পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে।’
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকে উন্নীত করার প্রধান উদ্দেশ্য বিদেশি পর্যটকের আগমন আরও বাড়ানো। কিন্তু পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার-টুয়াক এর ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এম এ হাসিব বাদল বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের স্থান হিসেবে কক্সবাজার বেশ সমাদৃত। বিদেশি পর্যটকেরা এখানে আসতে চায়। কিন্তু পরিবেশটা সেভাবে গড়ে তুলতে না পারা বড় ব্যর্থতা।
যদিও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয়, বিদেশি পর্যটকদের জন্য তারা বিশেষ নজর রাখেন। নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুবিধার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ বেশ আন্তরিক। তবে অনেক ক্ষেত্রে তা চোখে পড়ে না।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন বলেন, বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। গত কয়েক দিনে আগত বিদেশিদের সেভাবে সেবা দেয়া হয়েছে। তাদের আশপাশে থেকে নিরাপত্তা বজায় রেখেছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। ভিক্ষুক ও দেশিয় লোকজনের উৎপাত থেকে রক্ষা করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কক্সবাজারে এক নারী পর্যটককে ধর্ষণের অভিযোগে হয়েছিল আলোচনা-সমালোচনা; নড়েচড়ে উঠেছিল পুলিশ-প্রশাসনও। তবে ঘটে যাওয়া সেই চাঞ্চল্য ঘটনার কথা ভুলে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানাতে পর্যটন নগর কক্সবাজারে যেতে শুরু করেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। শীতের হিমেল হাওয়া ও শিশিরভেজা বালিয়াড়ি মেতে উঠছিল পর্যটকদের পদচারণায়। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানান উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ।













