ছুটির দিনে কক্সবাজার সৈকতে লাখো পর্যটক

0
11

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সম্প্রতি কক্সবাজারে এক নারী পর্যটককে ধর্ষণের অভিযোগে হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা; নড়েচড়ে উঠেছিল পুলিশ-প্রশাসনও। এসব ঘটনায় পর্যটকরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন পর্যটনের এ শহর থেকে। তবে ঘটে যাওয়া সেই চাঞ্চল্য ঘটনার কথা ভুলে পর্যটকের আগমন বাড়তে শুরু করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার পর্যটকদের বেশ উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে কয়েক দিনের চলমান অনিশ্চয়তা কাটিয়ে প্রাণ ফিরেছে পর্যটন শহরে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কথিত পর্যটক নারী ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে থার্টিফাস্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজারে আশানুরূপ পর্যটক আসেনি। গত এক সপ্তাহেও তেমন পর্যকের দেখা মিলেনি। এমনকি বৃহস্পতিবারেও পর্যটকের অগ্রিম সাড়া মিলেনি। বৃহস্পিবার কিছু পর্যটক কক্সবাজারে আসে। কিন্তু শুক্রবার ভোরের দিকে বিপুল পর্যটক কক্সবাজার আসে।

হোটেল গ্রান্ড সেন্ডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কক্সবাজারে পৌঁছাতে পারেনি। তবে শুক্রবার ভোরের দিকে বহু পর্যটক কক্সবাজারের গমণ করেন। মূলত অধিকাংশ পর্যটক অগ্রিম বুকিং না করেই কক্সবাজার এসেছেন। তারপরও শেষ মুহূর্তে কক্সবাজার আসায় স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধ ও কলাতলী পয়েন্টে বহু পর্যটকের সমাগম হয়। পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে সৈকতে বিচরণ করেন। এসময় সমুদ্রস্নান, জেটস্কেকি, ঘোড়ায় চড়ে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। হঠাৎ পর্যটক আসায় পর্যটন ব্যবসায় চাঙ্গা ভাব ফিরেছে। অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ব্যবসায়ীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

লাবণী পয়েন্টের ব্যবসায় মাহমুদুল হক বলেন, ‘হঠাৎ পর্যটক আগমণে ভাটা পড়ায় বেশ ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা কেটে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এতে আমরা কিছু আশান্বিত হয়েছি।’

কক্সবাজারের পর্যটন উদ্যোক্তা বদরুল হাসান মিলকি বলেন, ‘দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করায় কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে বড় ধাক্কা লেগেছে। সেটি কাটিয়ে উঠতে হয়তো সময় লাগছে। দেখা যাচ্ছে, সেটি আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে। আমরা সাধারণ পর্যটন ব্যবসায়ীরা দাবি জানাই, যারা গলাকাটা বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।’

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ‘সম্প্রতি কক্সবাজারে গলাকাটা বাণিজ্য ও ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারণা হয়েছে। মূলত ঘটনা যতটুকু নয়; তার চেয়ে বেশি প্রচার করা হয়েছে। সে কারণে পর্যটকদের মাঝে ভীতি তৈরি হয়েছিলো। তবে তা কেটে যেতে শুরু করেছে। হয়তো শিগগিরই তা পুরো কেটে যাবে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় কোনো ধরণের নিরাপত্তা ঘাটতি নেই। সবখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। পর্যটকের কোনো ধরণে সমস্যা বা বেড়াতে ব্যাঘাত হতে দেয়া হবে না। আমরা বলতে চাই, নির্ধিদ্বায়  পর্যটকেরা কক্সবাজারে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বেড়াতে পারছেন।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে, তা বিচ্ছিন্নভাবেই ঘটেছে। তারপরও বিষয়টিগুলোকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাতটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের জন্য  সবোর্চ্চভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’

আগেইসলামাবাদে ঈদগাঁও উপজেলার কমপ্লেক্স ভবন স্থাপন হাইকোর্টে স্থগিত
পরেকর্ণফুলী টানেল উদ্বোধন অক্টোবরে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী