
বার্তা পরিবেশক:
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীতে আব্বাস বাহিনীর সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে আলহাজ¦ খলিলুর রহমানের পরিবার। ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও হামলায় খলিলুর রহমানসহ তার পরিবার ঘর ছাড়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আব্বাস উদ্দীন ও তার লোকজন। শুধু তাই নয়, সেদিন গা শিউরে উঠার মতো আরো ঘটনা ঘটিয়েছেন আব্বাস উদ্দীন ও তার লোকজন। বৃদ্ধ খলিলুর রহমানকে মারধর করায় ছুটে আসেন তার স্ত্রী, মেয়ে, জামাতা ও পুত্রবধূ। তাদের উপরও মারধরসহ চালানো হয়েছে পৈশাচিক নির্যাতন। তাদের এক মেয়েকে জামা-কাপড় ছিঁড়ে করা হয়েছে যৌন নির্যাতন-যা তারা ভাষায় বর্ণনাও করতে পারছেন না। সে কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন খলিলুর রহমানের বৃদ্ধ স্ত্রী। ওইদিন ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করেছিলো। তা না হলে তাদের মেরেই ফেলতো হামলাকারীরা। তারপরও পুলিশ এ পর্যন্ত মামলা নেয়নি। এখনো প্রতিনিয়ত নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। হুমকির কারণে ঘটনার পর থেকে এলাকা ছাড়া হয়ে আছেন এই বৃদ্ধ ও তার পরিবারের লোকজন। রোববার (০৬ ফেব্রæয়ারী) বিকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার বিচার চেয়েছেন আলহাজ¦ খলিলুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন।
সাংবাদিকদের আলহাজ¦ খলিলুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর আমি দেশে এসে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বসবাস করে আসছি। দেশে আসার পর থেকে পিএমখালীর মৃত মোঃ ইলিয়াছ প্রকাশ কালুর পুত্র আব্বাস উদ্দিন বিভিন্ন বাহানায় আমার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। আমাকে বিপদে ফেলে অনেক বার দফায় দফায় টাকাও নিয়েছে জোরপূর্বক। গোলার পাড়ায় আমার পৈতৃক সুত্রে পাওয়া প্রায় ৪ কানি চাষাবাদের জমি রয়েছে। বিগত ৮০ বছর ধরে এই জমি আমি ভোগদখলে রয়েছি। কিন্তু জমির প্রতিও লুলোপ দৃষ্টি পড়ে আব্বাস বাহিনীর। জমিটি জোরপূর্বক দখল করতে ইতোমধ্যে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে। যার অংশ হিসেবে আব্বাস উদ্দিন আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৩টি স্ট্যাম্প আদায় করে। সেই স্ট্যাম্প ফিরিয়ে দিতেও মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। যার জন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে একটি এম.আর মামলা করি। যার নং-২৪৪০/২০২১ইং। পরে আব্বাস উদ্দিন জোরপূর্বক আদায় করা স্ট্যাম্পে ২২ লাখ টাকা পাবে মর্মে নানা মিথ্যাচার লিখে আমার জমি আত্মসাৎ করার সাজানো নাটক সাজায়। মামলাটি দায়ের করাও পর তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
তিনি আরও বলেন, গত ৩০ জানুয়ারী বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আমার দায়েরকৃত এম.আর মামলার আলোকে সদর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা কহিনুর আকতার নালিশী জমিতে তদন্তে যায়। এসময় আমার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সাথে ছিলেন। এদিকে খবর পেয়ে আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই ছৈয়দ করিম, তার পুত্র নিশান, মো. আবছারের পুত্র আরফাত, নুরুল আকতারের পুত্র মোঃ নাদিম, মোঃ ইলিয়াছের পুত্র মোঃ মামুনসহ প্রায় ১৩-১৪ জন সন্ত্রাসী আমার পরিবারের উপর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কহিনুর আকতারের সম্মূখে হাতুড়ি, লাঠি, লোহার রড নিয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাকে, আমার জামাতা মাহবুব আলম, আমার স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, আমার মেয়ে নাসিমা আকতারকে বেধড়ক মারধর করে। এতে আমার পরিবারের সদস্যরা বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার করলেও তাদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। উল্টো তাদের নগ্ন হামলা অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে আব্বাস উদ্দিন আমাকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ মারতে মারতে আমার দাঁড়ি টানাহেঁচড়া করে তার আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে মেরে দাঁড়ি ছিড়ে কেন মামলা করেছি বলে মারধর করে ছেড়ে দেয়। তার কাছ থেকে বাঁচতে আমি হাজারো আকুতি মিনতি করলেও একটুও মন ঘামেনি এই নরপশুদের। ঘটনার খবর পেয়ে আমার পুত্রবধূ জন্নাতুল বকেয়া, আমার আরেক মেয়ে রোকেয়া বেগম তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে। তারা আমার মেয়ে, স্ত্রী, পুত্রবধূর পরিহিত কাপড়-চোপড় টানা হেঁচড়া করে চরমভাবে শ্লীলতাহানী করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে আমার পুত্রবধূ জান্নাতুল বকেয়ার কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন, যারমূল্য ৩০ হাজার টাকা ও আমার জামাতা মাহবুবের পকেট থেকে নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও একটি ১১ হাজার টাকা মূল্যে এনড্রয়েট মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আমাদের শোর চিৎকারে কয়েকজন মহিলা আমাদের আশ্রয় দিলে সেই ঘর ভেঙ্গেও আমাদের মারধর করা হয়। পরে একটি বাড়ি থেকে আমার জামাতা জরুরী পরিষেবা ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
অসহায় আলহাজ¦ খলিলুর রহমান কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, এতোকিছুর পরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা করলে আমাদের ভিটে-বাড়ি ছাড়া, গুম-খুন করবে বলে নানা হুমকী-ধমকী দিয়ে আসছে। এই ঘটনায় আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েও প্রতিকার পাচ্ছি না। অজানা কারণে এখনো কক্সবাজার সদর থানায় মামলা নেওয়া হয়নি। মূলতঃ আব্বাস উদ্দিন সৈয়দ মোহাম্মদ আলী প্রকাশ পাওয়ার আলীর ভাই। আব্বাস উদ্দিনের নির্যাতনের বিষয়ে আমি সৈয়দ মোহাম্মদ আলীকে জানাতে গেলে তাকে না পেয়ে চলে আসি। পরে তার অনুমতি ছাড়া কেন বাড়ি গিয়েছি সেজন্য আমাকে মসজিদে ১০ বার বেতের বারি ও কান ধরে ওঠবস দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনটাই আমাকে জানালেন আব্বাস উদ্দিন। এর আগেও তাঁরা আমাকে মসজিদে কান ধরে ওঠাবসা করিয়েছে। তার সব নির্যাতন আমি মুখ বুঝে সহ্য করে আসছি।
মূলতঃ সৈয়দ মোহাম্মাদ আলীর প্রভাব দেখিয়ে আব্বাস উদ্দিন এলাকায় সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছে। এলাকায় কেউ আব্বাসের ভয়ে কিছুই বলার সাহস পায়না। কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাঁর উপর চালানো হয় নির্যাতনের স্টীম রোলার। এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি, সালিশ বাণিজ্য, হামলা-মামলা আব্বাস উদ্দিনের নিত্য নৈমত্তিক রুটিন। পিএমখালী গোলার পাড়ায় তার একটি টর্চার সেল রয়েছে। সেখান থেকে পরিচালিত হয় তাঁর সমস্ত অপরাধ কার্যক্রম। সাংবাদিক সম্মেলনে আলহাজ¦ খলিলুর রহমানের পরিবারের সদস্যসহ ঘটনার স্বাক্ষী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা ন্যায় বিচারের দাবিতে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সম্মুখে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন। থানায় অভিযোগ দিলে এই হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।













