উন্নয়নের জাদুস্পর্শে বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার

0
11

মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম:  

সংগ্রামের শপথে কোটি বাঙালি, ছিনিয়ে এনেছিল যে বিজয়;
নির্দেশ ভোলেনি জাতির পিতার; আজও বুকে লেখা অক্ষয়।
অন্তবিহীন সংগ্রাম শেষে দিগন্তে ছড়িয়েছিল যে বিজয়ের রেশ;
ঢেউয়ে-ঢেউয়ে ধ্বনিত হয় আজও; দেখি বিমুগ্ধ আলোর উন্মেষ।
সূবর্ণজয়ে শুনি, নবজোয়ারের ধ্বনি-
‘জোরসে চলো বাংলাদেশ; জোরসে চলো জন্মভূমি’।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন; সেটি জাতির পিতার দেখানো পথে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সারাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আজ শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কালরাতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রান্তকারীদের হাতে নিহত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ সকল শহীদানদের। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, জাতীয় চার নেতাকে। আরও স্মরণ করছি, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর শহীদের।
বহু সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ নামক যে স্বাধীন ভূ-খন্ডের অভ্যূদ্বয় হলো; তা ছিলো নিঃস্ব-রিক্ত, যুদ্ধ বিধ্বস্ত এক বিরাণ জনপদ। কিন্তু বাংলার মাটি ও মানুষকে সাথে নিয়েই বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত এদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় আসীন করেছিলেন। মৃত্যু উপত্যকায় দাঁদিয়ে দৃপ্তকণ্ঠে বঙ্গবন্ধু গেয়েছিলেন জীবনের জয়গান। বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলো দরিদ্র জনপদের দুঃখী মানুষের কল্যাণ। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিশ^ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
দেশব্যাপী যে অর্থনৈতিক, মানবসম্পদ ও পরিবেশগত উন্নয়ন ঘটেছে সেটি হঠাৎ করে রাতারাতি ঘটে যায়নি। এর স্বপ্নদ্রষ্টা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রামের যে ডা তিনি দিয়েছিলেন; লাখো জনতা সে ডাকে সাড়া দিয়ে জাতির পিতার প্রদর্শিত পথে বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিলো আমাদের স্বাধীনতার সূর্য। আর তাঁরই হাত ধরে দেশ গঠনে এগিয়ে চলা বাংলার মানুষ। আজ, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে তাঁরই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চল।
উন্নয়নের জাদুস্পর্শে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বদলে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
১৯১ উন্নয়ন প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে কক্সবাজার। মাত্র পাঁচ বছরেই বদলে যাবে দেশের একটি জেলার পুরো চিত্র। হাইটেক সিটি ও মাল্টিমোডাল হাব হতে চলা সেই জনপদ কক্সবাজার। ছোট-বড় ১৯১টি উন্নয়ন প্রকল্পে এখন ‘দিন বদলানোর তাড়া’ যেন সেখানকার সর্বত্র। রেলসংযোগ, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং আধুনিক পর্যটনব্যবস্থা। সবমিলিয়ে এক মহাকর্মযজ্ঞ চলছে কক্সবাজার ঘিরে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি কক্সবাজার। সমুদ্রের বালুকাময় তীর, পাহাড় আর ঝরনায় প্রকৃতি যেন এখানে সেজে বসে থাকে, তার রূপ আস্বাদনে পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানাতে। যেখানে সবুজের ছায়াঘেরা নয়নাভিরাম মেরিন ড্রাইভ দূর দিগন্তে মিলতে চায় পথিককে নিয়ে।
কক্সবাজারের চিরচেনা এই রূপের অধ্যায়ে যেন নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে সরকারের বেশ কয়েকটি প্রকল্প। বিদ্যমান বিমানবন্দরটিকে আধুনিক করে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যেখানে ১০ হাজার ৭০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ের, ১ হাজার ৩০০ ফুট থাকবে বঙ্গোপসাগরে। করা হচ্ছে সাগর ছোঁয়া রানওয়ে, ঝিনুকের আদলে টার্মিনাল। স্যান্ড পাইলিং করে তৈরি করা এই রানওয়ে হবে দেশের সর্ববৃহৎ।
সুপরিসর রানওয়েতে হরহামেশাই বোয়িং ৭৭৭ এবং ৭৪৭ এর মতো বড় বিমানে একসঙ্গে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবেন সহস্রাধিক যাত্রী। অবতরণের সময় ভ্রমণকারীরা পাবেন সমুদ্রের জলছোঁয়ার এক ঝুলন্ত অনুভূতি। পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানের সুবাদে ইন্টারন্যাশনাল রি-ফুয়েলিং পয়েন্ট ও ভিআইপি আকাশযানের পার্কিং থেকেও বড় আয়ের উৎস হবে কক্সবাজার এয়ারপোর্ট।
এদিকে একই সঙ্গে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য খুরুশকুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে ১৩৯টি আশ্রয়ণ ভবন। ইতিমধ্যে নির্মিত ২০টি ভবনের ঠাঁই হয়েছে ৬’শ উদ্বাস্তু পরিবারের।
আকাশপথের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো এই জেলায় রেলসংযোগ দেওয়ার কাজও চলছে জোরেশোরেই। দৃশ্যমান এই লাইনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের বুক চিরে একেবারে সোজা মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত যাবে রেলের গাড়ি। ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে ঝিনুকের আদলে আইকনিক রেলস্টেশন ভবন। যাতে করে আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যাত্রার পাশাপাশি এখানকার মাছ, লবণ ও কৃষিজ পণ্য সহজেই পরিবহন করা যায় সর্বত্র। ২০২৩ সালে চালু হলে আন্তর্জাতিক করিডোরে পরিণত হবে নতুন এই রুটটি।
পরিকল্পিত পর্যটনের জন্য গোছানো হচ্ছে সাবরাং ইউনিয়নকে। নীল জলরাশির এই অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেই পাহাড় ও সাগরে বৈচিত্র্যময় দৃশ্য। সেখানে থাকবে ইকো-ট্যুরিজম, মেরিন অ্যাকুরিয়ামসহ বিদেশি পর্যটকদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা।
শুধু পর্যটন নয়, এই জনপদ অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটাতে শিল্প খাতেও সেজে উঠছে আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে। মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মিত হচ্ছে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। থাকবে এলএনজি টার্মিনালও। এ ছাড়া কক্সবাজারের মাটিতেই গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর, যা অর্থনৈতিক সক্ষমতায় নতুন দুয়ার হবে দেশের জন্য। ইতিমধ্যে নির্মিত ২টি জেটি ভিড়েছে বিদেশি ৭০টির বেশি জাহাজ।
পাশাপাশি, গভীর সমুদ্রে জ্বালানি তেল খালাসে সিঙ্গেল পয়েন্ট ম্যুরিং উইথ ডাবল পাইপ লাইন প্রকল্পটিও বাস্তবায়িত হচ্ছে কক্সবাজারেই। এটির জন্য পাহাড়ি ভূমিতে স্থাপন করা দৈত্যাকৃতির স্টোরেজ ট্যাংকগুলো যেন তেল মজুতের নতুন আঁধার হতে চলেছে।
কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে নেওয়া এমন ১৯১টি প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। একক জেলা বিবেচনায় যা বিনিয়োগের অঙ্কে সবচেয়ে বেশি। এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাঁচ বছর পর যেন দেশের জন্য বিরল সুযোগ আর সম্ভাবনার পদধ্বনি শোনাচ্ছে কূলে আছড়ে পড়া এই ঢেউ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
লেখকঃ মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম, সভাপতি, পৌর আওয়ামী লীগ, কক্সবাজার।
আগেকক্সবাজারে আরও ৮৬৭ পরিবার পাকা ঘর-জমি পাচ্ছেন
পরেসারমিত্র মহাথেরো’র পেটিকাবদ্ধ ও স্বরণসভা অনুষ্টিত