
অনলাইন ডেস্কঃ
পাকিস্তানে আগাম নির্বাচনের দাবিতে লংমার্চ নিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা। এদিকে দলনেতা ইমরান খানকে আটকের পরিকল্পনা আটছে সরকার।
ইমরান খানকে আটকের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের এক উর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। খবর জিও টিভির।
এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মে) মধ্যরাতে দেশজুড়ে পিটিআই নেতাদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
জিও নিউজ নিশ্চিত করেছে, শুধু লাহোরেই আজ গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬২ জন। তবে এসব বাধা উপেক্ষা করে ইসলামাবাদে এসে ‘আজাদি মার্চ’ সফল করার নির্দেশ দেন ইমরান খান।
জিও নিউজ আরও জানায়, এদিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোও ইমরানকে আটকের পরিকল্পনা করছে এবং তাকে আটক করলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে তা ভেবেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই মিছিলে সহিংসতা ঠেকানোর জন্য তাদের আটক করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
গত রোববার খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের এক জনসভা থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চের ঘোষণা দেন ইমরান। খান তার সমর্থকদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
সমর্থকদের ‘সত্যিকারের স্বাধীনতা’র জন্য পথে বের হয়ে আসতে বলেন ইমরান। এর এক দিন পরেই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এ মিছিল হতে দেবে না। এর বিপরীতে ইমরান খান যুবসমাজকে নিজের হাতে বাধা অতিক্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন নিশ্চিত করেছে, ইমরান খান পেশোয়ারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ায় ওয়ালিতে হেলিকপ্টারে নেমে তার সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, সমর্থকরা ইমরানের হেলিকপ্টারকে ঘিরে ধরেছেন। ক্ষমতাসীন জোট সরকার প্রথমে লংমার্চ আয়োজনের ব্যাপারে অনুমোদন দিলেও এখন ওই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) কেন্দ্রীয় কমিটি জরুরি বৈঠক করে।
এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডিপিএ নিউজ এজেন্সিকে এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, পিটিআই নেতা ও পাকিস্তানের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ মধ্যরাতে অন্তত ১ হাজার ১০০ নেতাকর্মীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে।’
ফাওয়াদ বলেন, বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে ৪০০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ আটক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। কর্তৃপক্ষও এ আটক অভিযানের কথা স্বীকার করেছে। তবে আটক নেতাকর্মীদের সংখ্যার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে খবরে বলা হয়েছে।
এদিকে সোমবার মধ্যরাতে পুলিশের ওই আটক অভিযানের বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একদল পুলিশ পিটিআই’র জনৈক কর্মীর বাড়িতে প্রবেশ করছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে। লাহোরে এক পিটিআই নেতার বাড়িতে অভিযানকালে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।













