আশুরার অন্তর্নিহিত তাৎর্পযঃ ঈমানী চেতনার উজ্জীবন

0
7

হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর:

মুহাররম হিজরী বর্ষের সূচনা মাস। ইসলামে এ মাসের রয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন মজিদে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থকেে আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারটি। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না’।- (সুরা-তওবা, আয়াত-৩৬)। কুরআন মজিদে ঘোষিত সম্মানিত ওই চারটি মাস কি কি তার বিস্তারতি বর্ণনা হযরত আবু হুরায়রা র সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে। নবী কারীম স. ইরশাদ করেন, ‘এক বছরে বারো মাস, এর মধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। তন্মধ্যে তিন মাস ধারাবাহিক ভাবে (অর্থাৎ জিলক্বদ, জিলহজ্ব, মুহাররম) এবং চতুর্থ মাস মুজর গোত্রের রজব মাস’। (বুখারী ও মুসলিম)। আরেক হাদিসে রাসুল স. মুহাররমকে শাহরুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা র. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলে কারীম স. ইরশাদ করেন, ‘রমাযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা আল্লাহর মাস মুহাররমের (আশুরার) রোযা।-(তিরমিযী)। এই হাদিসে ‘আশুরার’ রোযার ফযীলতের পাশাপাশি মুহাররম মাসের অনন্য মর্যাদাও ফুটে উঠেছে। ইসলামের ইতিহাসে মাহে মুহাররমের দশম তারিখ ‘আশুরা’ নামে অভিহিত।

আশুরার তাৎপর্য:
ইসলামী ইতিহাসে স্মরণীয় অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণাঢ্য স্মারক পবিত্র ‘আশুরা’। যার তাৎপর্য অত্যন্ত সুগভীর এবং প্রেরণা যার ঈমানদ্বীপ্ত। তাইতো রাসুল স. আশুরা’র রোযার ফযীলত সম্পর্কে ইরশাদ করেন, ‘
“রমাযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা আল্লাহর মাস মুহাররমের (আশুরার) রোযা।”-(তিরমিযী)।

আশুরার ঘটনা প্রবাহ :
এই দিনে আল্লাহ তা’আলা অত্যাচারী শাসক ফেরআউনের কবল থেকে মুসা আ. ও তাঁর কওমকে মুক্তি দান করেন। এই দিনেই আল্লাহ তা’আলা হযরত মুসা আ. এর জন্য নীলনদের বুকে রাস্তা করে দিয়েছিলেন এবং ফেরআউনের সৈন্য বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। সর্বশেষ ৬১হিজরীর ‘আশুরা’ দিবসে মহানবী স. এর প্রিয়তম দৌহিত্র হযরত হোছাইন র. কারবালা প্রান্তরে করুণ ভাবে শাহদত বরণ করেন। এর মধ্যদিয়ে ‘আশুরা’ দিবসে সংযোজিত হয় একটি হৃদয় বিদারক শোকাবহ অধ্যায়। ‘আশুরা’ দিবসের এসব ঘটনা প্রবাহ মুসলমানদের ঈমানী চেতনাকে শাণিত করে। রুহানয়্যিাতকে করে জাগ্রত।

আশুরার রোযা :
হযরত ইবনে আব্বাস র. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘মহানবী স. যখন হিজরত করে মদিনায় পৌঁছেন তখন তিনি দেখলেন মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় রোযা পালন করছে। তিনি তাদেরক জিজ্ঞেস করেন, আশুরার দিনে কেন তোমরা রোযা পালন কর? তারা উত্তর দিল এটি একটি মহান দিবস। এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহ মুসা আ. ও বনী ইসরাঈলকে ফেরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং ফেরআউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ হযরত মুসা আ. রোযা রেখেছেন, তাই আমরাও রোযা রাখি। তাদের উত্তর শুনে নবী কারীম স. ইরশাদ করেন, হযরত মুসা আ. এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে তোমাদের চেয়ে আমরা অধিক হকদার। অতঃপর তিনি নিজে আশুরা’র রোযা রাখেন এবং উম্মতকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন’।- (মুসলিম)। এ হাদীস দ্বারা প্রতিভাত হয়, মুসা আ. ‘আশুরা’ দিবসকে শুকরিয়া দিবস হিসেবে পালন করতেন এবং মহানবী স.ও ওই উদ্দেশ্যে আশুরা’র রোযা পালনের জন্য উৎসাহিত করেছেন। তবে এ রোযা পালন যাতে ইহুদীদের সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে না যায় সে জন্য রাসুল স. সতর্ক করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখতে গিয়ে ইহুদীদের বিরোধিতা করো, তা এভাবে আশুরার আগে (অর্থাৎ ৯ মুহাররম) অথবা পরে (অর্থাৎ ১১ মুহাররম)। আরো একটি রোযা রাখো।- (মুসনাদে আহমদ)।

আশুরা পালনে কুসংস্কার নয়; সুন্নাতী আবহ চাই:
গভীর তাৎপর্যসমৃদ্ধ ‘আশুরা’ কিভাবে পালন করতে হবে সেই নির্দেশনা মহানবী হযরত মুহাম্মদ স. সুস্পষ্টভাবে দিয়েছেন। আশুরা উদযাপনের নামে মাতম, তাজিয়া মিছিল, বক্ষে- পিঠে ছুরিকাঘাত, জারিগানের আসর, মাথায় লাল কাপড় পেঁচানো, আলোক সজ্জা, আতশবাজি, সত্তর দানা ভাত পাকানো ইত্যাদি কুসংস্কারের সাথে ইসলামের চেতনা ও ঐতিহ্যের কোন সম্পর্ক নেই। এসব কুসংস্কার আশুরা’র প্রকৃত শিক্ষা ও প্রেরণার পরিপন্থি। সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর হুকুম ও রাসুল স. এর জীবনাদর্শের উপর অটল-অবিচল থাকাই আশুরা’র মহান শিক্ষা ও প্রেরণা। আসুন! আশুরা’র প্রকৃত শিক্ষা ও প্রেরণায় উজ্জ্বীবিত হই।

লেখকঃ
খতীব, শহীদ তিতুমীর ইনস্টিটিউট জামে মসজিদ, কক্সবাজার।
যুগ্ম -সাধারণ সম্পাদক
কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদ।

আগেরামু সরকারি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ মুজিবুল আলম
পরেঅপছন্দের ছেলের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দিলে,আত্মহত্যার হুমকি কিশোরীর