বনবিভূমিতে অবৈধ পল্লী বিদ্যুতের মিটার, শূণ্য হচ্ছে বন্যপ্রাণী

0
10

# জেলায় হাজারো মিটার অবৈধ জায়গায়
# মিটার নিতে দিত হয় মোটা অংকের টাকা
# দালাল না ধরলে মিটার পাওয়া যায়না সহজে

মোঃ নেজাম উদ্দিন,
বনভূমিতে অবৈধ পল্লী বিদ্যুৎতের মিটার দেওয়ার কারণে বনভূমি এখন বন্যপ্রাণী শূণ্য হয়ে পড়েছে। একসময় যেখানে বন্যপ্রাণীদের বসবাস ছিল সেখানে অবৈধ দখলকারিরা বসতঘর করে পল্লী বিদ্যুৎতের লাইন নিয়ে আলোকিত করার করাণে সেখান থেকে বন্যপ্রাণীরা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন দিকে । যার কারণে বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল দিন দিন কমতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন যারা বনবিভাগের জায়গায় অবৈধ দখল করে বসবাস করছে তাদের যদি বৈদ্যুতিক সুবিধা দেওয়া না হয় তা হলে সেখান থেকে তারা সরে যাবে এবং বন রক্ষা পারে।
সরকারি বনভুমিতে অবৈধ স্থাপনায় বৈদ্যুৎতিক মিটার না দেওয়ার কথা থাকলেও তা অমান্য করে পুরোদমে বৈদ্যুতিক মিটার ও লাইন দিয়ে আসছে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বনবিভাগের জমিতে অনায়াসে মোটা অংকের বিনিময়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এসব মিটার দিয়ে থাকে বলে জানা গেছে। তবে এসব কাজ তারা নিজেরা না করে দালালদের মাধ্যমে করে থাকে বলে জানা যায়।
কক্সবাজারের সর্ব উত্তরের পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের বনবিভাগের জায়গা দখল করে বসতঘর কওে আছে এমন ঘরে পল্লী বিদ্যুৎ কোন প্রকার কাজ পত্র যাচাই বাছাই না করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব টিার প্রদান করা হয়েছে বলে জানা যায় ।
আমদেও দৈনিক খোলা কাগজ পেকুয়া প্রতিনিধি জানান, পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়ন তা হলো পেকুয়া সদওর বারবাকিয়া টৈইটং রাজাখালী, উজানটিয়া, শিলখালী ও মগনামা ইউনিয়ন। এই ৭ ইউনিয়নের মধ্যে বারবাকিয়া ও টৈইটং ইউনিয়নের অধিকাংশ বনবিভাগের জমিতে অবৈধ বসবাসকারিদের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। জানা গেছে এসব মিটার নিতে গিয়ে যারা মিটার নিয়েচে তাদের গুনতে হয়েছে মোট অংকের টাকা। আর তার একটি অংশ চলে আসে কক্সবাজার প্রধান অফিস পর্যন্ত।
পেকুয়া পল্লী বিদ্যুৎতের সাব জোনাল অফিস প্রধান দীপন চৌধুরী জানান,আগে লাইন দেওয়া হয়েছে তা বর্তমানে চালু রয়েছে তবে এখন নতুন করে বনবিভাগের জায়গায় কোন প্রাকর নতুন লাইন প্রদান করা হচ্ছে না। যারা লাইন ব্যবহার করছে তাদের বিরোদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি একবাক্যে না বলেন।
চকরিয়া উপজেলার দিকে তাকালে দেখা যায় সেখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে । যারা বনবিভাগের জায়গায় অবৈধ দখদার রয়েছে তাদের বৈদ্যুতিক মিটার দেওয়া হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে। দৈনিক খোলা কাগজ চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, চকরিয়া উপজেলায় পৌরসভাসহ মোট ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে । তারমধ্যে ৮ ইউনিয়নে বনুবভাগের জায়গা অতিরিক্ত হারে অবৈধ দখলে চলে যাওয়ার কারণে সেখানে অবৈধ দখলদারগণ পল্লী বিদ্যুৎতের মিটার নিয়েছে। জানা যায় , চকরিয়ার ডুলহাজারা, খুটাখালী, ফাসিয়াখালী , কাকারা, সুরাজপুর মানিকপুর, বমুবিলছড়ি,বরইতলী,ও হারবাং ইউনিয়নে বেশি বনভুমি রয়েছে । আর স্থানীয় ভূমিদূস্যরা তা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ কওে বসবাস কওে আসছে। শুধু তাই নয় বিদ্যুৎ বিভাগকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বৈদ্যুতিক মিটার নিয়ে দিব্বি অবৈধ দখলদার হওয়ার পরেও তার সুবিধা ভোগ করছে। আর তাতে বন কমে যাওয়ার ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল কমে যাচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের চকরিয়া ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সাদিকুল ইসলাম জানান,আমরা যেসব জায়গায় বিদ্যুৎ মিটার দিয়েছি তা ডকুমেন্ট এর মাধ্যমে দিয়েছি। যদি কোন মিটার বনবিভাগের জায়গায় হয়ে থাকে বনবিভাগ যদি আমাদেও জানান তবে আমরা সেই মিটার নিয়ে আসবো ।
এদিকে কক্সবাজারে সদর উপজেলার ঈদগা পল্লী বিদ্যুতের অধীনে সেসব এলাকা রয়েছে সেখানে বেশি ভাগ বনভুমি ও খাস খতিয়ানের অবৈধ দখলদার বলে জানা যায়। যা অধিকাংশ মিটার দেওয়া হয়েছে সরকারি খাস খতিয়ান ও বনবিভাগের জমিতে যা আইন বর্হিভূত নয় বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় জালিয়া পালং, রতœাপালং, হলদিয়া পালং, রাজাপালং, পালংখালীসহ ৫ ইউনিয়নে বনবিভাগ ও খাস খতিয়ানের জায়গায় বসবাস করছে প্রায় কয়েক হাজার অবৈধ দখলদার। যাদেও প্রত্যেককে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে । যার ফলে বনায়নে যেমন প্রভাব পড়েছে ঠিক তেমনি বন হয়েছে মিনি শহরে।
এব্যাপারে জানতে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম এএসএম রুহুল আমি কে ফোন করা হলে তিনি সরাসরি অফিসে এসে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।
সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ জেনারেল ম্যানেজার দীলিপ চন্দ্র চৌধুরী জানান, বনবিভাগ বা খাস খতিয়ানের জমিতে বাড়ি করা হয়েছে। যারা মিটারের জন্য আমাদেও কাছে আবেদন করেন তারা সব ডকুমেন্ট দিয়েই আবেদন করেন। এখন তারা যদি বনবিভাগের জমিতে থাকে তবে তা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে দেখতে হবে তা বনবিভাগের জমি বা খাস খতিয়ানের জমি কিনা । কিন্তু তা দেখার জন্য আমার কাছে সার্ভেয়ার নেই। যদি বনবিভাগ তাদের উচ্ছেদ করে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে।
জালিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলম জানান, সরকারী জায়গাতে আমার পুরো ইউনিয়নে প্রায় আনুমানিক ২হাজারের অধিক বাড়ি-ঘর রয়েছে। তার মধ্যে আনুমানিক জনসংখ্যা ১০/১২হাজার বসবাস করছে৷ তারা অধিকাংশ অবৈধ জায়গায় বসবাস ও সেখানে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে।
পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নে ১০হাজার ঘরের মধ্যে ৯হাজার ঘর বন-বিভাগের জায়গায় বসবাস করছেন। যার মধ্যে আনুমানিক জনসংখ্যা রয়েছে ৪০হাজার। কারণ ৩৩হাজার ৪শত ৪২একর ভূখন্ডের মধ্যে ৩হাজার একর মত রেকর্ডীয় জমি। বাকি ৩০হাজার একরের অধিক জমি বন বিভাগের জমি। তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গাদের কথা বলতে গেলে আমার ইউনিয়নে প্রায় ৮লক্ষ রোহিঙ্গাো বগ বিভাগের জায়গাতে বসবাস করছেন তারা প্রায় পরিবার অবৈধ দখলদার এবং তারা অবৈধ বৈদ্যুতিক মিটার নিয়েছে। এব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকার জানান, অবৈধ দখলদারদের বিরোদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান। বনভিাগের জমিতে কোন অবৈধ দখলদার স্থান পাবে না।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সরওয়ার আলম জানান,পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে আমরা বার বার বলার পরেও তারা কর্ণপাত করছেন না । তারা আমাদের বলছেন, রাজনৈতিক চাপ রয়েছে যার কারণে বনবিভাগের জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। সরকার শতভাগ বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য বলেছেন কিন্তু সরকারের জমি অবৈধভাবে দখল করে আছে এমন কাউকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বলেননি। সম্প্রতি চেইন্দা প্রায় ২৫ একর বনভূমি দখল মুক্ত করেছি। সেখানেও বৈদ্যুতিক মিটার ছিল তা আমরা বিচ্ছিন্ন করেছি। এভাবে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। বন বনের জায়গায় থাকবেএবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসাবে থাকবে।

আগেঈদগাঁওতে বাবাকে ভিডিও কলে রেখে মেয়ের আত্মহ*ত্যা
পরেশহরের টেকপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃ*ষ্টে দিনার নামে এক কিশোরের মর্মা*ন্তিক মৃ*ত্যু