
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমার থেকে আসা চোরাই গরু চিনিয়ে নেওয়ার চেষ্ঠাকালে বিজিবি’র গুলিতে আব্দুর জব্বার (৩৬) নামে রড সিমেন্টের দোকানের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ৯ টার দিকে কক্সবাজারের রামুর কাউয়ারখোপ পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রবিবার দুপুর ১টার দিকে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি।
কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি সদস্যরা রামুর কাউয়ারখোপ স্কুল সড়ক থেকে চোরাই গরু ধরার পর নাইক্ষ্যংছড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় গরুর মালিকের লোকজনসহ উৎসুক জনতা গরুগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্ঠা চালায় একপর্যায়ে বিজিবিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়া হয়। পরে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা গুলি চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজিবির গুলিতে ঘটনাস্থলেই আব্দুর জব্বার নামের ওই শ্রমিক মারা যান। জব্বার ওই এলাকার একটি রড সিমেন্টের দোকানের শ্রমিক। ঘটনার পর মরদেহ ও বিজিবি সদস্যরা নিয়ে যায় বলে জানায় তারা।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অফিসিয়াল প্রেস রিলিজে জানায়, বিজিবির টহল দলের সদস্যরা সীমান্তের চোরাই গরু জব্দ করে নাইক্ষ্যংছড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রতিমধ্যে কাউয়ারখোপ নামক স্থানে পোঁছলে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী ও স্থানীয় সহযোগী সহ দুই থেকে তিনশত লোক গরু চিনিয়ে নেয়ায় চেষ্টায় দেশীয় অস্ত্র, লাঠিশোঠা ও ইটপাটকেলসহ বিজিবি টহল দলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা গুলি চালায়। এতে একজন চোরাকারবারী গুলিবিদ্ধ হয়। হামলায় বিজিবির চার সদস্য গুরতর আহত হন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১টি ক্রীচ ও একটি দা উদ্বার করতে সক্ষম হয় বলে ১১বিজিবি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে মামলা দায়েরসহ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য যে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পন্থায় আসা চোরাই গরুর পাচারকে কেন্দ্র করে পয়েন্টে পয়েন্টে প্রতিনিয়ত লুট, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। একই সাথে গরু লুটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছে। যার ফলে রামুর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই পরিস্থিতি ভয়ংকর রুপ নিবে বলে সচেতন মহলের অভিমত।











