
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলোলী:
কক্সবাজার উপকূলে ভেসে আসা একটি ফিশিংবোট (মাছ ধরার ট্রলার) থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরের নাজিরারটেক পয়েন্টে ট্রলারটি ভেসে আসে। তবে নিহতদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মরদেহগুলো প্রায় গলে গেছে, তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মরদেহগুলো কোথা থেকে, কীভাবে এসেছে তা এখানো জানা যায়নি।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, কক্সবাজারের স্থানীয় ছেলেরা গভীর বঙ্গোপসাগরে ওই ট্রলারটি দেখতে পায়। পরে তারা শনিবার ঈদের দিন রাতে ট্রলারটি টেনে নাজিরারটেক পয়েন্টে নিয়ে আসে। সেখানে এনে ট্রলারের ভেতর থেকে গলিত বেশ কয়েকটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বোটটিতে কয়েকটি মরদেহ শনাক্ত করেন। রবিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ফায়ার সার্ভিসের দলকে সাথে নিয়ে আবার এসব মরদেহ উদ্ধারে যায় পুলিশ। সকাল থেকে মরদেহবাহী ফিশিংবোটটি কুলের কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে জোয়ারের ঢেউয়ের কারণে দুপুর পর্যন্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, ১৫/১৬ দিন আগে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে ডাকাতি করতে গিয়ে একদল জলদস্যু জেলেদের হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় ওইসব জলদস্যুরা মারা যাওয়ার খবরও বেরিয়েছিল। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত ওই দস্যুবাহিনীর বোটটি হাদিস পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নাজিরার টেক পয়েন্টে ভেসে আসা বোটটি ওই জলদস্যুদের হতে পারে। তাই ফিশিংবোট ভেসে আসার খবর পেয়ে নিখোঁজদের স্বজনরা সকাল থেকে নাজিরটেকে ভিড় করছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ফিশিংবোটের স্টোরে মরদেহগুলো রয়েছে। মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। জোয়ার কমলে মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহগুলো কোথা থেকে, কিভাবে এসেছে তা জানা যায়নি।













