ঈদগাঁও বাজারের পানি নিস্কাশনের জায়গায় বাঁধ নির্মাণ, পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কা

0
9

 

শেফাইল উদ্দিন:

কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাজারের পানি নিস্কাশনের জায়গায় বাঁধ ও দেয়াল নির্মাণ করে পানি নিস্কাশন বন্ধ করে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।কোন ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করে পানি চলাচলের ব্রীজ ও ড্রেইন বন্ধ করে দেয়ায় আসন্ন বর্ষায় হাজার হাজার মানুষ ও ঘরবাড়ি পানিবন্দী হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি -বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এ সব প্রতিষ্ঠান কে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা। এ সব এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

স্থানীয় আলমাছিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার আশেপাশে ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, ঘরবাড়ি, দোকান-পাট ।
এ মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের সড়কের ব্রিজটি বালির বস্তা দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে । অন্যদিকে ঈদগাঁও বাজারের সওদাগর পাড়ার মোনাফ সওদাগরের দোকানের পাশের কালভার্টি ও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
অথচ শত বছর ধরে এ ব্রিজ ও কালভার্ট দিয়ে
বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সকল প্রকারের পানি নিষ্কাশন হত বর্ষা মৌসুমে। কোন ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করে পানি নিস্কাশন বন্ধ করে দেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় মেম্বার মমতাজ আহমদ জানান, যে বা যারাই করুক না কেন কাজটি অত্যন্ত অমানবিক হয়েছে। আসন্ন বর্ষাতে পুরো বাজার ও জাগির পাড়া পানিবন্দী হয়ে পড়বে। পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোন সুযোগ না থাকায় পানিবন্দী থাকতে হবে এসব এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি গুলোকে।

স্থানীয় জাফর আলম, আবু সালেহ, রাশেদুল আমির চৌধুরীসহ অনেকেই এ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, এর ফলে বাজারের হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা পানির নিচে তলিয়ে যাবে ৷ স্থানীয় জাগির পাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, আবহমানকাল থেকে এ দুটি কালভার্ট দিয়ে বর্ষাকালের পানি চলাচল করে আসছিল। কালভার্ট দুইটি ভরাটের পাশাপাশি কৃষি জমিও ভরাট করার ফলে পানি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হবে এলাকার হাজারো মানুষজনকে।
তিনি অতিসত্বর পানি চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল হক চৌধুরী রিকো বলেন, বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এমনিতেই নাজুক। তা সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পানি চলাচলের একটা নকশাও এঁকেছিলেন৷
কালভার্ট ও পানি চলাচলের জমি ভরাট করে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়বেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।
শিগগিরই বাজার পরিচালনা পর্ষদের মিটিং ডেকে বিষয়টি রেজুলেশন আকারে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হবে।

ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলম জানান, এলাকার ভুক্তভোগী লোকজন বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে ।

এলাকাবাসী কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আগেরামুতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির দায়ে কসাইকে জরিমানা
পরেরামুতে নকলে সহায়তা করায় তিন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার