কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘরস্থ “নিপা ব্রিকস” এর স্বত্বাধিকারী সেলিম উল্লাহ প্রকাশ সেলিম কোম্পানির হাতে এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রামু কলঘরস্থ নীপা ব্রিক ফিন্ড এর রেস্ট হাউজে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভোক্তভ‚গী মহিলা বাদি হয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে( নং-২) মামলা দায়ের করা হয়। যা সি.পি. মামলা নং ২০৪/১৯। আদালত মামলাটি পিবিআই তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত সেলিম উল্লাহ প্রকাশ সেলিম কোম্পানী (৪৫) রামু ফতেখাঁরকুল এলাকার মৃত হাজী মোহাম্মদ হোছাইন ছেলে।
বাদির পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
বাদির (সঙ্গত কারণে নাম গোপন করা হলো) তার মামলায় বলেন, নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে (গোপন করা হলো) ভুলবসত আসামীর ব্যবহৃত ০১৮১৬৬১২৭০৫ নাম্বারে কল আসে। এরই সূত্র ধরে নিজেদের মাধ্যে জানা শোনা থেকে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে সেলিম তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইম্যুতে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ হতো নিয়মিত। আসামীর চল চাতুর্জপূর্ণ কথাবার্তা ও প্রলোভনে ধর্ষিতা মেয়েটিও প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দিন গত ৯ ফেব্রুয়ারি সেলিম তার সাথে দেখা করার আবদার করলে ধর্ষিতা সহজ সরল বিশ্বাসে দেখা করতে ঈদগাঁও স্টেশনে আসেন। সেখান থেকে সেলিম নিজের গাড়িতে করে রামু কলঘরস্থ ‘নিপা ব্রিক ফিল্ডস্থ রেস্ট হাউজে নিয়ে আসে। কয়েক ঘন্টা সেখানে সময় কাটান তারা। এক পর্যায়ে বিয়ে করার আশ্বাসে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সেলিম।
এ ঘটনায় মেয়েটি গর্ভবতি হয়ে পড়ে। বিষয়টি সেলিমকে জানানো হলে সেলিম কৌশলে চিকিৎসার জন্য মেয়েটিকে তার সাথে দেখা করতে বলেন। মেয়েটি আর কোন উপায় না দেখে গত ৭ এপ্রিল সাথে দেখা করতে একই রেস্ট হাউজে যান। ঐদিন সেলিম তার গাড়িতে করে রামু ডায়াগনিস্টক সেন্টার এন্ড ডক্টরস হোমে নিয়ে যায়। সেখানে কোন ডাক্তার না দেখিয়ে নার্সের সাথে পরামর্শ করে রক্ত পরীক্ষা করায় এবং প্রেগনেন্সি পজেটিভ পাওয়া যায়। নার্স কিছু ঔষুধ লিখে দেয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর আসামী তাকে পুনরায় ডাক্তার দেখানোর কথা বলে আবারো রেস্ট হাউজে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিক দুর্বলতার কথা তাকে জানানো হলে আমাকে একটি ইনজেকশন দেয়।
বাদি আরো উল্লেখ করেন, এ ইনজেকশন চিরস্থায়ী গর্ভধারণ বন্ধের ইনজেকশন ছিলো। এ ঘটনার পর শরীরিক দুর্বলতা ও দেখা দিলে মেয়েটি সেলিমের সাথে পুন:রায় যোগাযোগ করলে তিনি (সেলিম) ১৬ জুন কক্সবাজার শহরে বড় ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তার ব্যবহৃত গাড়িতে তুলে আগের ন্যায় আসামীর রেস্ট হাউজে নিয়ে যায়। ঐদিন তাকে নিজ কক্ষে নিয়ে গিয়ে কিছু ভিটামিন ও রুচি বর্ধক ঔষুধ দেয়। সে সময় বাদি তাকে বিয়ে করবে কিনা জানতে চাইলে সেলিম অবশ্যই বিয়ে করবে বলে শপথ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুন:রায় অবৈধ যৌন সঙ্গমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আবারো অন্ত:স্বত্বা হওয়ার ভয়ের কথা জানালে, তিনি বাদিকে জানান যে, তাকে চিরস্থায়ী গর্ভধারণ বন্ধের ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে আবারো জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তার গাড়িতে করে আমাকে ঈদগাঁওতে পৌঁছে দেয়।
বাদি বলেন, বাড়িতে এসে চিরস্থায়ী গর্ভধারণ বন্ধের বিষয়টি মায়ের সাথে পরামর্শ করে গত ২২ জুন কক্সবাজার শহরের ডাক্তার নুরুল আলমের কাছে পরামর্শ নিই। ডাক্তার তাকে শারীরিক বিভিন্ন পরিক্ষা দেন। পরিক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানান যে, তার গর্ভধারণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর ২৫ জুন বিষয়টি আসামীর কলঘরস্থ নিপা ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে দেখা করলে তিনি গালাগালি করে আমাকে বের করে দেন। যার ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি।
বাদির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মামলা দায়ের করার শুরু থেকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিতে থাকে। কিন্তু আর কোন উপায় না দেখে সমযোতার জন্য টাকার অফার দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সেলিম উল্লাহ বলেন, মেয়েটি আমার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলো। আমি তাকে কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছি। তাছাড়া মামলাটি তো শেষ হয়ে গেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়েটি খরাপ চরিত্রের। মূলত আমি তাকে সহযোগিতা করতে গিয়ে বিপদে পড়েছি। তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। শুধু শুধু আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
তিনি বলেন, এ মেয়েটি অনেক দিন ধরে সৌদি আরব ছিলো। এখন দেশে এসে পয়সাওয়ালা লোক দেখে হয়রানি করছে।সুত্রঃ আলোকিত কক্সবাজার ডট কম।













