কক্সবাজার খবর রিপোর্ট
উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর ৪ মার্ডার ক্লু বের করতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। উখিয়ার রত্নাপালং গ্রামের কুয়েত প্রবাসী রোকেন বড়ুয়ার মা, স্ত্রী, শিশু ছেলে সহ ৪ জন কে জবাই করে নৃশংস ভাবে হত্যার ক্লু বের করতে তদন্তে নেমেছেন চট্টগ্রাম হতে আসা পিবিআই এর ফরেন সিক টিমের সদস্যরা। একই সাথে সিআইডির ক্রাইম সিন টিম।
কুয়েত প্রবাসী রোকন বড়ুয়া শুক্রবার ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছেন। সেখান থেকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪ আপনজনের লাশ দেখতে মর্গে যান। সেখানে রোকন বড়ুয়ার জম্মদাতা মা সখী বড়ুয়া (৬৪), স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৫), পুত্র রবিন বড়ুয়া (৫) ও ভাইঝি সনি বড়ুয়ার নিথর ও রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখে নির্বাক হয়ে যান। মৃতদেহ ৪ টির শুক্রবার ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষ করে বেলা আড়াইটার দিকে পূর্ব রত্না পালং বড়ুয়াপাড়ায় রোকন বড়ুয়ার সেই অভিশপ্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রোকন বড়ুয়ার বাড়ীতে ৪ জনের মৃতদেহ পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। হাজার হাজার মানুষের আহাজারিতে সেখানকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলে তাকে একাকী নিঃস্ব করে ফেলা কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না। এরপর প্রায় ২ ঘন্টা ধরে বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মহাঅনিত্য সভা সম্পন্ন করা হয়।
বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মহাঅনিত্য সভা শেষে মধ্য রত্নাপালং খোন্দকার পাড়া বৌদ্ধ শ্মশানে একইদিন বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে ৪ জনকে সমাহিত করা হয়। এখানেও হাজার হাজার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ও সর্বস্থরের মানুষের ভীড় জমে যায়। পুরো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও সমাহিত করার প্রক্রিয়াটিতে চলছিলো শোকের মাতম। সবার একটি প্রশ্ন, ‘এতবড় হত্যাকান্ড কে বা কারা সংগঠিত করলো।’
এদিকে, শুক্রবার ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরেশনস এন্ড ক্রাইম) আবুল ফয়েজ চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন, এবিষয়ে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিশ্বস্থ সুত্রে জানা গেছে। হত্যাকান্ডের অনেক ক্লু ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এসব ক্লু প্রকাশ করছে না। একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তাঁরা চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের মোটিভ উদঘাটনে প্রায় শেষপর্যায়ে এসেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সিআইডি’র ক্রাইম সিন টিমের রিপোর্ট, পিবিআই এর চট্টগ্রাম থেকে আসা ফরেনসিক এক্সপার্ট টিমের রিপোর্ট, অন্যান্য সংগ্রহকৃত আলামত ও তথ্য উপাত্ত সহ সমন্বিত করে প্রকৃত খুনীদের নাম ঠিকানা বের করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।












