
কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেছেন, এখন থেকে সমাজে খারাপ লোক মাথা উঁচু করে কথা বলতে তা আর হতে দেওয়া হবে না। এখন থেকে সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাই সমাজে নেতৃত্ব দেবে। সেজন্য পুরো জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জেলা কমিটি ছাড়াও কক্সবাজারের ৮ উপজেলা এবং চারটি পৌরসভায় এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে স্থান পেয়েছেন সমাজের সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাই। সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব ও ইমেজ সম্পন্ন মানুষ দিয়েই কমিউনিটি পুলিশিং এর কক্সবাজার জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইয়াবা কারবারি, হুন্ডি কারবারি, অপরাধী, জঙ্গিকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। অতএব এখন থেকে খারাপ মানুষ কোন অপকর্ম করে পার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যরাই মাঠপর্যায়ে অপরাধীদের খুঁজে খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দেবে। মাদকের কারবার, বাল্যবিবাহ রোধ, ইভটিজিং, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, গুজবের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পুরো জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিই সর্বদা সজাগ ভূমিকা পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অবিচল থাকবে পুলিশ।
পুলিশ সুপার সোমবার কক্সবাজার পুলিশ লাইনস্ মাঠে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত নবগঠিত কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরিচয় ও মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত হুঁশিয়ারী দেন। পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন আরো বলেন, ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিনে গত রবিবার সংঘটিত ঘটনায় প্রথমে সবাই মনে করেছিলো, পুলিশের বাড়াবাড়ি ছিল। কিন্তু ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখার পর সবাই নিশ্চিত হয়েছেন, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠির সাম্প্রদায়িক উষ্কানিতে কথিত প্রতিবাদীদের আক্রমণ থেকে নিজেদের আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে। তবে ভোলা জেলার মতো কোন ঘটনা কক্সবাজারে ঘটতে দেওয়া হবে না। ইউএনডিপি’র কমিউনিটি রিকভারি এন্ড রেজিলেন্স প্রজেক্টের সহযোগিতায় ‘কমিউনিটি পুলিশিং-এ অংশ নিন, অপরাধ দমনে সহায়তা করুন’ প্রতিপাদ্যে কক্সবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় একযোগে সকলকে শপথবাক্য পাঠ করান পুলিশ সুপার নিজেই। পরে সবাই মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) রেজওয়ান আহমেদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, জেলা কমিটির উপদেষ্টা সাবেক এমপি অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, নবগঠিত জেলা কমিটির সভাপতি ও কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমদ, পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ, মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান, আবু তালেব, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, টেকনাফের মুফতি মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ শফিক ও নূর হোসেন, উখিয়ার নূরুল হুদা, সদরের মিজানুর রহমান, পেকুয়ার কামাল হোছাইন, চকরিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম লিটু ও পৌরসভার সভাপতি একেএম শাহাবউদ্দিন, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল।
উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া সার্কেলের এএসপি কাজী মো. মতিউল ইসলাম, ওসি যথাক্রমে মো. হাবিবুর রহমান, প্রভাষ চন্দ্র ধর, প্রদীপ দাশ, কামরুল আজম, আবুল মনসুর প্রমূখ।













