
এম.আবুহেনা সাগর,ঈদগাঁও
দক্ষিন চট্রলার ব্যস্তবহুল বাণিজ্যিক শহর ঈদগাঁও বাজার নানামুখী সংকটের আবর্তে ঘোরপাক খাচ্ছে। কবে হবে নির্বাচন,এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পরেও নির্বাচিত কমিটি বিহীন বাজার টি। বর্তমানে আহবায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ঢিলেঢালা কার্যক্রম। অব্যবস্থাপনায় দৈনিক ব্যবসায়ীক লেনদেনসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা নগর সভ্যতার ধারাবাহিক তায় কালক্রমে ঈদগাহ্ বাজার পরিণত হয়েছে বৃহত্তর ঈদগাঁওর পার্শ্ববর্তী ইসলামাবাদ, জালালাবাদ, পোকখালী ইসলামপুর,চৌফলদন্ডী,রশিদনগর,ভা
জানা যায়, সড়ক ও জলপথের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ঘন বসতিপূর্ণ জনাধ্যুষিত ঈদগাঁও একটি সম্ভাবনাময়ী এলাকা। উর্বর ফসলী জমি, খেত-খামারের বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা লবণ শিল্প, চিংড়ি শিল্প, পোলট্রি শিল্প,আসবাবপত্র ও কাঠ শিল্প, ক্ষুদ্র কুঠির শিল্পসহ লক্ষাধিক প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা ঈদগাঁও বাজারকে আধুনিক বাজার হিসেবে গড়ে তোলার যোগ্যতা রাখে। এছাড়া ও দেশের বিদ্যমান বহু পৌর এলাকা ও অবকাঠামো, সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধাও জন সংখ্যার বিচারে ঈদগাওর চেয়ে যোজন যোজন পশ্চাৎপদ। সম্রাট শাহ্ সূজার স্মৃতিধন্য ঈদগাও জনপথ একসময় পার্শ্ববর্তী ছয় ইউনিয়নের একক প্রশাসনিক ইউপি হিসাবে গোড়া পত্তন হয়। জনসংখ্যার আধিক্য এবং বিস্তৃত এলাকা হওয়ায় জনসাধারণের সুবিধার্থে ঈদগাও ভেঙ্গে পূর্বেকার আমলে চৌফলদন্ডী ও পোকখালী নামে দুইটি ইউনিয়ন পৃথকভাবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ঈদগাঁও তিনভাগে ভাগ হয়ে জালালাবাদ, ইসলামাবাদ নামে আরও ২টি নতুন ইউনিয়নের জন্ম হলেও সমস্ত ব্যবসায়ী কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু ঈদগাও বাজারকে ঘিরে আবর্তিত হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাজার এলাকার পরিধিও। কিন্তু সে অনুপাতে বাজার এলাকা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। এমনকি বাজারের যাতায়াতের ডিসি সড়ক জুড়ে হরেক রকম ব্যবসা,যাতে করে সাধারণ লোকজন ও যান বাহন চলাচলে দারুণ দূর্ভোগে পড়েছে। এসব যেন দেখার কেউ নেই। দূর-দূরান্ত থেকে বাজারে আসা নারী-পুরুষরা শৌচাগার ও টয়লেট না থাকায় বিপাকে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া এ বাজারের যত্রতত্র স্থানে হকার স্টাইলে ফুটপাত। যেন বাজার কমিটি নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে বলে অসংখ্য পথচারীদের অভিযোগ। বর্তমানেে বাজারটি উন্নয়ন বঞ্চিত।
সচেতন মহলের মতে,বাজারের অব্যবস্থাপনা,নিরাপত্তাহীনতা এবং বিশৃঙ্খল অবস্থার জন্য দায়ী বাজারের বর্তমান আহবায়ক কমিটি। শক্ত হাতে বাজারের উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে হলে সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতার প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। অবিলম্বে বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের নিবার্চন দিয়ে নিবার্চিত কমিটির নেতৃত্বে উন্নয়ন কাজে অগ্রসর হওয়া এখন সময়ের দাবী। বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে বাজারে সওদা করতে আসা সাধারন মানুষরা জানান,গুরুত্ববহ বানিজ্যিক নগরী ঈদগাঁও বাজারে যত্রতত্র স্থানে যানজট, যানবাহন রাখার নেই নিদিষ্ট জায়গা,বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশনের সু-ব্যবস্থা নেই। মাছ বাজার শেডে অপরিচ্ছন্নতায় ভর পুর,যানবাহন ভাড়া তালিকা নির্ধারনসহ বাজারের অভ্যান্তরিন এলাকায় শৃংখলা এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনা চোখে পড়ছেনা।
ঈদগাঁও বাজারের পরিচিত ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ী মরহুম নুরুল আমিন, জসিম উল্লাহ মিয়াজী,মমতাজুল হক মধু, মনির আহমদ সওদাগর এবং রুহুল আমিনের মৃত্যুর দীর্ঘদিন পার হলেও অধ্যবদি পযর্ন্তও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে স্বরন সভা কিংবা প্রয়াত ব্যবসায়ীদের রুহের আত্বার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিলও করেননি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীসহ সাধারন লোক জনের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।
তরুন প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের মতে, বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন দিয়ে বাজার কেন্দ্রীক নানামুখী সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা অতীব জরুরী বলে মনে করেন তারা।
মিডল কক্স ইউনাইটেডের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হাসান তারেক জানান, ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের বর্তমান আহবায়ক কমিটি নিস্ক্রিয়। এ কমিটি দিয়ে বাজার পরিচালনা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। অবিলম্বে বাজার কমিটির নিবার্চনের দাবী জানান তিনি।
বাবসায়ী পরিচালনা পরিষদ ( আহবায়ক কমিটির) দপ্তর সম্পাদক ছৈয়দ করিম দীর্ঘসময়েও নিবার্চন না হওয়ায় দু:খ প্রকাশ করেন। নিবার্চনের প্রয়োজনীয়তা আছে বলেও মনে করেন তিনি।
পরিচালনা পরিষদের আহবায়ক সিরাজুল হক মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য,২০০৫ সালে ঈদগাঁও বাজারে ঝাকঁ জমক ভাবে তিনবছর মেয়াদে বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল।













