
হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর
কুরআন-সুন্নাহর সহীহ তা’লীম ও দ্বীনের বুনিয়াদী শিক্ষাদান, ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ, আপামর জনসাধারণের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রতকরণসহ অপরাধমুক্ত, মানবিক সমাজ বিনির্মাণে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাধারার অবদান অনস্বীকার্য। দেশের অসংখ্য কওমী মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী নিরলসভাবে অবিরত দ্বীনি শিক্ষাদানে নিষ্ঠাপূর্ণ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। এতিম, মিসকীনদের অকৃত্রিম পিতৃছায়া ও মাতৃস্নেহে স্বযত্নে প্রতিপালনেও কওমী শিক্ষকবৃন্দের অবদান ভুলার মতো নয়।
শুধু তাই নয়; জাতির যে কোন ক্রান্তিকালেও এগিয়ে আসেন কওমী মাদ্রাসা পড়ুয়া ওলামায়েকেরাম। চলমান করোনাভাইরাস জনিত সঙ্কটে করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফনে যেখানে আপন আত্মীয় -স্বজনদেরকেও কাছে পাওয়া যাচ্ছেনা এমন কঠিনতম সন্ধিক্ষণে কওমী ওলামায়েকেরামই সে মহান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যুর খবর পেলেই কওমী ওলামাগণ ছুটে গিয়ে তাঁর গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফনের মহতি কর্তব্য সম্পাদন করছেন। যা মানবতার বিরল নজীর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লিখে রাখার মতো। এ ছাড়াও সাধ্যের অনুকুলে সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দূস্থ মানুষের ঘরে ঘরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও তুলনামূলক স্বচ্ছল কওমী ওলামাদের লৌকিকতাহীন তৎপরতা প্রশংসনীয়। দেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদের মিহরাব, মিম্বার ও মিনারায় কওমী আলেম সমাজ সরব থেকে ঈমান-আকিদা ও মানবিক চেতনাবোধের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছেন।
সুন্নাতী আবহে অনাড়ম্বর জীবন যাপন, পরিমিত আহার, নিদ্রা, অল্পেতুষ্ঠি, মানবিক কর্তব্যপারয়ণতা এসব মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দের অনন্য বিশিষ্টতা। আর্থিক প্রতিকুলতা ও সামাজিক নানা অসঙ্গতিতে অনেক শিক্ষকমণ্ডলী চরম কষ্টে জীবনাতিপাত করেন। তারপরও আত্মসম্মানবোধের কারণে নিজেদের অভাব- অনুযোগ কারো কাছে প্রকাশ না করে নামমাত্র হাদিয়ায় দ্বীনি ও জাতীয় স্বার্থে নিরবচ্ছিন্নভাবে তাঁরা মহতি এ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। দ্বীন অনুরাগী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত দান ও শেষ রাতে আল্লাহর দরবারে চোখের পানিই কওমী মাদ্রাসাসমূহের একমাত্র সম্বল। এমতাবস্থায় করোনাভাইরাস জনিত সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপের আওতায় সরকারি নির্দেশনায় কওমী মাদ্রাসাসমূহও বন্ধ থাকায় লাখো শিক্ষক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তথাপি চরম এ সঙ্কটের বিরূপ প্রভাবে দানশীল ব্যক্তিবর্গের দান- অনুদানও বলতে গেলে অনেকটাই বন্ধ। নাজুক এ সময়ে সরকারি -বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীদের কর্মহীনতা সত্ত্বেও বেতন-ভাতার আওতাভুক্ত করা হলেও নিঃস্বার্থ কওমী শিক্ষকমণ্ডলীর জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা করা অনেকটাই দূরহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ ক্রান্তিকালে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কওমী মাদ্রাসা শিক্ষক অতিকষ্টে জীবনাতিপাত করছেন। জন্ম, মৃত্যুসহ যে কোন দুঃসময়ে জাতির পাশে দাঁড়ানো দেশের গর্বিত সন্তান, কীর্তিমান এ মানুষগুলোর প্রতি সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন মহল থেকে মানবিক সহায়তার হাত প্রসারিত করা নৈতিক কর্তব্য।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহনে জনপ্রতিনিধিগণ ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক-
সভাপতি
রামু লেখক ফোরাম













