শুধু একটি দিবস কেন ; মমতাময়ী মায়ের সেবা করি প্রতিদিন

0
4

হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর

মা মানে অফুরন্ত মমতা, মা মানে যথার্থ মানবতা। সন্তান বয়সের সব পর্যায়ে শিশুকালের মতোই পরম আদর-যত্নের পাত্র মায়ের নিকট। যার রাজ স্বাক্ষী আমিসহ সব সন্তানেরা। এখনো আমার মা আমাকে ইলিশ মাছের কাঁটা বাছাই করে সুস্বাদু মাছটা খেতে দেন।। সন্তান মাত্রই মায়ের এমন অকৃত্রিম মমতায়সিক্ত। সারা দিনের কর্মমূখরতায় ক্লান্ত শরীরও সজীবতা ফিরে পায় মায়ের স্নেহমাখা হাতের পরশে।বিষন্ন মনও লাভ করে অনাবিল প্রশান্তি। ভূমিষ্ঠ সন্তানের চেহারা এক নজর দেখা মাত্রই গর্ভকালের অসহনীয় যন্ত্রণা ভুলে যান, নিজে না খেয়েও সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়ে আত্মতৃপ্ত হন তিনি মা ছাড়া আর কেউ নন। তাই-তো সন্তানের কাছে মা ডাকটি সবচেয়ে মধুর। কবি যেমন বলেছেন,
” মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই”
এমন মমতাময়ী মায়েরা আজ অনেক সন্তানের চরম অনাদর -অবহেলার শিকার। সন্তানের পক্ষ থেকে পাওয়া কষ্টের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেক মা-বাবারা দু’চোখের পানিতে কাপড় ভিজে যায়। আবার অতি প্রগতিশীলতার দোহাই দিয়ে বৃদ্ধা মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে নির্বাসিত করার করুণ দৃষ্টান্তও কম নয়। যে মা কনকনে শীত, প্রচণ্ড গরম,মুশলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সন্তানের আরামের জন্য নিজের সমস্ত চাহিদাকে বিসর্জন দেন সে মায়ের সেবায় সারাজীবন বিলিয়ে দিলেও ঋণ শোধ হওয়ার নয়। সে ক্ষেত্রে শুধু মাত্র বছরের একটি দিনকে ” মা দিবস” হিসেবে আখ্যায়িত করে লৌকিকতা প্রদর্শন মমতাময়ী মায়ের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। অথচ কুরআন মজীদের বিধান “আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করোনা এবং মা-বাবার প্রতি সদাচরণ করো।” এখানে মহান আল্লাহর ইবাদতের পরই মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই সদাচরণ কোন নির্দিষ্ট দিবসে কেন সীমাবদ্ধ হবে; বরং জীবনের পরম ছায়া মা-বাবার প্রতি সদাচরণ তথা শ্রদ্ধা -ভালোবাসা, সেবা-যত্ন হবে প্রতিদিন, প্রতি মুহুর্ত। এমনটাই উচিৎ।
আসুন, মা-বাবার প্রতি যত্নবান হই প্রতি দিন, প্রতিক্ষণ। দু’আ করি মুহতারমা মা-বাবার জন্য। সকল মা-বাবাকে আল্লাহ ভাল রাখুন।

লেখক
সভাপতি
রামু লেখক ফোরাম।

আগেবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে স্বামীকে দিয়ে ধর্ষণ করালেন আ.লীগ নেত্রী
পরেজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হকের ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ