বাংলাদেশে বিচ্ছিন্ন হামলাগুলো ছিল আইএসের : যুক্তরাষ্ট্র

0
4

সিবিকে ডেস্কঃ

বাংলাদেশে ২০১৯ সালে সংঘটিত ছোট ছোট কিছু বিস্ফোরণ ও হামলা ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইসিস বা আইএস) চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। এছাড়াও গত বছর বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে বলেও জানায় তারা।

বুধবার (২৪ জুন) রাতে ওয়াশিংটন ডিসির পররাষ্ট্র দফতর থেকে প্রকাশিত ২০১৯ সালের সন্ত্রাস বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত বছর বাংলাদেশে ছোট পরিসরে কিছু বিস্ফোরণ ও হামলাকে সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ ইতোপূর্বে আইএসের হামলা বলে অভিহিত করলেও স্থানীয় বিশ্লেষকরা তা নাকচ করে দিয়েছেন। স্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের যুক্তি, আইএসের যেসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশ্ব জানে তাতে এ ধরনের ছোট পরিসরে হামলার নজির নেই।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে এসব হামলাকে আইএসের বলেই অভিহিত করা হয়েছে। আইএস বা আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত গোষ্ঠী বাংলাদেশে সক্রিয় বলে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েক বছর ধরেই অভিযোগ করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর আইএস বাংলাদেশে ছয়টি ‘ইমপ্রুভাইজড এক্সক্লুসিভ ডিভাইস (আইইডি)’ হামলার দায় স্বীকার করেছে। সেই হামলাগুলোর পাঁচটিই ছিল পুলিশকে লক্ষ্য করে। এ ছাড়া আইএসের আত-তামকিন মিডিয়া আউটলেট বাংলাদেশ সরকার ও অন্যদের শত্রু হিসেবে অভিহিত করে তাদের বিরূদ্ধে বাংলায় প্রোপাগান্ডামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার দেশীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আইএসের মধ্যে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থবহ কোনো সম্পর্ক থাকার কথা নাকচ করেছে। গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ইউনিট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে।

এছাড়াও গত নভেম্বর মাসে ঢাকায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় সমর্থনের দায়ে সাত জনকে সাজা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে সন্ত্রাসের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতির কথাও বলা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রবেশ ব্যবস্থা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সহযোগিতা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সেখানে আরও বলা হয়েছে, ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ আছে। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একজন যাত্রী ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, সেই যাত্রীর হাতে খেলনা পিস্তল ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশকিছু ঘটনা আছে যেখানে যাত্রীর নিরাপত্তা তল্লাশিতে ধরা পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষিত বিস্ফোরক শনাক্তকরণ কে-৯ দল ঢাকায় বিমানবন্দর পর্যবেক্ষণ করলেও তারা সেখানে স্থায়ী নয়। বাংলাদেশ ইন্টারপোলকে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিলেও সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারির কোনো তালিকা নেই। জানা বা অজানা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ কাজ করছে। বাংলাদেশ তার ফ্লাইট যাত্রীদের আগাম তথ্য ও রেকর্ড বিশ্লেষণ করে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সুত্রঃ জাগো নিউজ২৪

আগেইসলামপুরের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আলমের ইন্তেকাল
পরেরামুতে ইপসা সিভিক কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে ১৫০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন