কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করছে: ডা. শাহাদাত

0
4

সিবিকে ডেস্কঃ

কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ অফিসার নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় নসিমন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে বলতে হচ্ছে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাস্তান, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অতিউৎসাহী কিছু পুলিশ অফিসারের কারণে নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১৯ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত নগরের প্রতিটি থানায় অন্তত ১০টির অধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১ হাজারের অধিক নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গতকাল রাত পর্যন্ত ৪০ এর অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব মামলা থেকে নারী-শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না।

ডা. শাহদাত বলেন, গতকালও বাকলিয়ার মহিলা নেত্রী বয়স্ক অসুস্থ মুন্নি ও তার ১২ বছরের শিশুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গতকাল রাতে চকবাজার থানা পুলিশ একরামুল করিম ও তার সন্তানকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাত দুটায় আমার উপস্থিতিতে তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার ছেলে রাজনীতি করে না, কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো? তারা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে আমাদের নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারছে না। পুলিশ ঘরে ঘরে তল্লাশি করছে, আমাদের নেতা-কর্মীদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে আপনারা যাবেন না। ভোটের পরদিন আপনারা আসবেন। এরমধ্যে আপনাদের কে দেখলে গ্রেপ্তার করা হবে।

ভোটারদের ব্যাপারে তিনি বলেন, আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ভেবেছিলাম এ নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। মার্চে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তা পেছানো হয়। সেই মার্চ থেকে শুরু করে আজ অব্দি আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে। ভোটকেন্দ্রের প্রতি মানুষের যে অনীহা অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে ফিরিয়ে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নেয়ার চেষ্টা করছি।

আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থীর অন্তঃকোন্দলে তিনজন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে তাদের সন্ত্রাস বাহিনী আমাদের পার্টি অফিসে হামলা করেছে, প্রচার কর্মীকে মারধর করেছে, আমার ও নেতাকর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে, বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেছে।

গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, বিগত সাত দিন ধরে কিছু জিনিস আমরা লক্ষ্য করছি। আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কিছু গায়েবি মামলা করা হয়েছে। এসব মিথ্যা মামলা সাজানোর বিষয়টি ২০১৮ সালের নির্বাচনের ৬ মাস আগে থেকে দেখে আসছি। এ পর্যন্ত আমাদের ৫৯ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল রাতে মোট ২০ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তার করেছে।

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে আমরা বারবার অনুরোধ করেছি, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখতে তারা যেন সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নির্বাচন কমিশনে ৪০ টির বেশি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু এসব অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারকে আবেদন করেছি নির্বাচনী সময়ে যেন মিথ্যা মামলা দেয়া নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার না করে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটি দাবি জানাচ্ছি, নির্বাচনকালীন সময়ে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলাগুলো করা হয়েছে সেসব মামলা যেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করা না হয়। অনতিবিলম্বে এসব মামলা থেকে তাদের পরিত্রাণ দেওয়া হোক। মামলাগুলো যেন প্রত্যাহার করা হয়। এসব মামলার বিষয়ে গতকাল রাতে রিটার্নিং অফিসার কে অবহিত করেছি। আমরা এখন নির্বাচন কমিশনের অফিসে যাব, রিটার্নিং অফিসার যেন আমাদের নেতাকর্মীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাদেরকে মুক্তি না দিলে আমরা সেখানে অবস্থান করবো।

আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বাহিনী ও প্রশাসন মিলে পার্টি অফিসের আশেপাশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম করছে। কিছুদিন আগেও ওসব সন্ত্রাস বাহিনী আমাদের পার্টি অফিসে হামলা করেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা না হয়ে মামলা হয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে। আইডেন্টিফাইড সন্ত্রাস বাহিনী কে গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগ নেতারা এসে বলছেন ভোটের দিন তারা ভোটকেন্দ্রে থেকে পাহারা দিবে। কিন্তু তারা তো এখানকার ভোটার না। তারা কেন ভোট কেন্দ্র পাহারা দিবে? তারা কি আবার ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো অরাজকতা সহিংসতা করতে চাইছে? প্রশাসনকে বলতে চাই বহিরাগত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আপনারা সোচ্চার হোন।

তিনি ব্যালট প্যানেল প্রসঙ্গে বলেন, ভোটকেন্দ্রে ব্যালট প্যানেলের বুথে যে সন্ত্রাস বাহিনী দাঁড় করিয়ে রাখে তা প্রতিহত করতে হবে। এজেন্টদের সুরক্ষা দিতে হবে। যেহেতু এজেন্টদের সুরক্ষা দেখাও নির্বাচন কমিশনের কাজ। ন্যাশনাল আইডি কার্ড ছাড়া ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, আবু সুফিয়ান সহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

আগেনাইক্ষ্যংছড়িতে বালুবাহী ট্রাকে মিললো অস্ত্র,আটক ৩
পরেচসিক নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা নির্বাচন কমিশনার মাহবুবের