উখিয়ায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স-মিল গিলে খাচ্ছে সামাজিক বনায়ন, নিরব বনবিভাগ

0
5
নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া 
উখিয়ায়  অর্ধ শতাধিক অবৈধ স মিল গিলে খাচ্ছে শত শত একর সামাজিক বনায়নের গাছ। তৎমধ্যে রাজাপালংয়ের  মাছকারিয়া  ও ফলিয়া  পাড়া  এলাকায় ৬ টি অবৈধ স মিল রয়েছে। গ্রামবাসীর ভাষ্য মতে  ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান হয়নি। বনবিভাগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় স্থাপিত স মিলে চোরাই  গাছ চিরাইয়ের  মহোৎসব ও পাচারের  ডিপু পরিণত হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনের অভিমত, অবৈধভাবে গড়ে উঠা অর্ধ শতাধিক  স মিলের কারনে সামাজিক বনায়ন আজ  ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।শুধু তাই  নই  পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।   অভিযান চালিয়ে   লাইসেন্স বিহীন স মিল  গুলো উচ্ছেদ করা এতদ অঞ্চলের মানুষের এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির জানান,  টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে সমিল উচ্ছেদ  অভিযান চলমান রয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে ১৫ টি, রত্না পালং ইউনিয়ন ৭ টি,  জালিয়া পালং ইউনিয়নে ৬ টি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নে  ৫ টি ও  পালংখালী ইউনিয়নের ১৬ টির মত সমিল বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব মিলের  বৈধ কাগজপত্র কিংবা কোন প্রকার লাইসেন্স নেই। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করা সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে এসব সমিল বসানো হয়েছে।
 সচেতন নাগরিক সমাজের প্রশ্ন বনবিভাগের নাকের ডগায় অসংখ্য  অবৈধ স মিলে  কি  ভাবে দিবারাত্রি  কাঠ চিরাই হয়!
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, রাজা পালং  ইউনিয়নের মাছ কারিয়া ও ফলিয়া পাড়া এলাকায়  স্থাপিত অবৈধ  ৬ টি স মিলে   প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন করে  চিরাই করছে পাচারকারীরা।
 এসব চিরাইকৃত কাঠ ডাম্পার ও জীপ যোগে  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহ করছে।
সচেতন নাগরিক সমাজ জানান,  বিগত ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা  বন বিভাগের কোন অভিযান  অথবা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চোখে পড়েনি। বছরের  পর বছর  প্রকাশ্যে   এসব স মিলে সরকারি সংরক্ষিত  বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন সহ চিরাই  করা হচ্ছে।
অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উখিয়া  বনবিভাগের কতিপয় বনকর্মী প্রতিটি সমিল থেকে সাপ্তাহিক ও  মাসিক মাসোহারা আদায় করে।
 অভিযোগে প্রকাশ, স্থাপিত স মিল কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট  আশপাশে চোরাই কাঠ মজুদ করে অঘোষিত  ডিপু  বানিয়েছে। সেই ডিপু থেকে পাচারকারীরা বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ কাঠ সরবরাহ করে থাকে।
এদিকে  সামাজিক বনায়ন রক্ষায়  স্থানীয় নাগরিক সমাজ অবৈধ সমিল উচ্ছেদে  অভিযান পরিচালনা করার জন্য   বারবার  উখিয়া রেঞ্জ  কর্মকর্তার নিকট শরণাপন্ন হলেও  তিনি কোন উদ্যোগ  বা পদক্ষেপ  নিচ্ছে না বলে গুরুতর অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে।
 উখিয়া  রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলমের সাথে কথা বলার জন্য   মোবাইলে ( ০১৭১৯২৯১০৭০)  একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও  কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির  জানান , স মিল উচ্ছেদের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ইতিমধ্যে রত্নাপালং এলাকায় দুটি সমিল উচ্ছেদ সহ মামলা দায়ের করা হয়েছে। পর্যায় ক্রমে অবৈধ সমিল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা  করা  হবে।
আগেভিক্ষাবৃত্তির নামে নারীর স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
পরেঈদগাঁও প্রেস ক্লাবের সাথে ওসি’র মতবিনিময়