ইনানীতে অধিগ্রহণকৃত জমি দখলে সশস্ত্র মহড়া, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসিল্যান্ড

0
3

 

বার্তা পরিবেশক
উখিয়ার ইনানীতে সশস্ত্র ভাড়াটে লোক দিয়ে ৩৮ বছরের ভোগ দখলীয় জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই এলাকার ছৈয়দ আলমের মালিকানাধীন জমিটি দখল করেছে ছৈয়দ আহমদের লোকজন। গত ২৭ জানুয়ারি ওই জমিতে অবস্থিত ভাড়া দেয়া কোয়ার্টারে গভীর রাতে হামলা করা। হামলা করে ভাড়াটেদের তাড়িয়ে দিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। দখলকারীদের হুমকিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন নিরীহ ছৈয়দ আলম ও তার পরিবারের লোকজন।
সোমবার ছৈয়দ আহমদের দায়ের করা একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে আসেন উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান। তবে ওই জমিতে সাইনবোর্ড না থাকলেও এসিল্যান্ড আসার আগে জমিতে সাইবোর্ড টাঙিয়েছে ছৈয়দ আহমদ গং। এ সময় স্থানীয় সাবেক মেম্বার শামসুল আলমসহ অনেকে এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খানকে জানান, ৩৮ বছর ধরে ওই জমি ভোগ দখলে রয়েছেন হাজী ছৈয়দ আলম। কিন্তু ২৭ জানুয়ারি হঠাৎ রাতের আঁধারে ছৈয়দ আহমদ ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে কোয়ার্টারের ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দিয়ে জমিটি দখল করে নেয়।
একই কথা জানান, কোয়ার্টার থেকে বের করে দেয়া লা-বেলা রিসোর্টের কর্মচারীরাও। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই কোয়ার্টারে থাকছেন তারা। কিন্তু ২৭ জানুয়ারি গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ ২৫/৩০ মুখোশধারী লোক মারধর করে সকল ভাড়াটিয়াদের বের করে দেয়। এময় তাদের মোবাইলসহ সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
পরিদর্শন শেষে উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিমুল এহসান খান সাংবাদিকদের জানান, সরেজমিন গিয়ে জমির প্রকৃত মালিক কারা তা যাচাই করা হচ্ছে। এসময় উভয় পক্ষের কথা শুনা হয়। একই সাথে স্থানীয় ও প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যও নেয়া হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছৈয়দ আলমের মালিকানাধীন জমিটি দখল নিতে ছৈয়দ আহমদ গং ওই কোয়ার্টারে রোহিঙ্গাসহ ভাড়াটে নারী-পুরুষ জমায়েত করেছে। এসময় অধিকাংশকে বোরকা পড়া দেখা গেছে। এরমধ্যে কক্সবাজার শহরের দাঙ্গায় ভাড়া যাওয়া কয়েকজন চিহ্নিত নারীকেও দেখা গেছে। সেখানে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রও থাকার কথা জানা গেছে।
এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান বলেন, এই জমিকে কেন্দ্র করে কেউ আইনশৃঙ্খলা বিঘœ ঘটার প্রচেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভুক্তভোগী হাজী ছৈয়দ আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি বিদেশ থাকায় ১৯৮৩ সালে তা চাচা ছৈয়দ আহমদের নামে তিনি ২ একর ৬৪ শতক জমি ক্রয় করেন। পরে তিনি বিদেশ থেকে আসলে জমিটি হাজী ছৈয়দ আলমকে রেজিস্ট্রি দেন চাচা ছৈয়দ আহমদ। এরপর হাজী ছৈয়দ আলম নিজের নামে বিএস খতিয়ান সৃজন করেন। তারপর থেকে ৩৮ বছর ধরে তিনি জমিটি ভোগ দখলে রয়েছেন। এরমধ্যে বিগত ১২ বছর আগে লা-বেলা রিসোর্টকে ১.২০ একর জমি বিক্রয় করেছেন হাজী ছৈয়দ আলম।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, উখিয়া ভুমি অফিসে নামজারী মোকদ্দমা নং- ৮২/০৩-০৪ইং মামলা রুজু করেন ছৈয়দ আলম। এরপর বিগত ১৬/০৩/২০০৪ইং হাজী ছৈয়দ আলম, পিতা- হাজী আজিজুর রহমানকে ২.৪৪ একর জমি লিপি পূর্বক নামজারী জমাখারিজ খতিয়ান নং- ২২৯৭ সৃজন করা হয়। হাজী ছৈয়দ আলম ১৪২৭ বাংলা পর্যন্ত খাজনা আদায় করে আসছেন।
ছৈয়দ আলম জানান, দুই বছর আগে হাজী ছৈয়দ আলম ক্রয় স্বত্ব দখলীয় বি.এস ৩৪৪২ দাগ থেকে ৯৯ শতক জমি সরকার বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ড ইনানী প্রকল্পের জন্য উক্ত জমি অধিগ্রহণ করেন এবং যথারীতি হাজী ছৈয়দ আলমের নামে ভুমি অধিগ্রহণ শাখা কক্সবাজার কার্যালয় থেকে যথারীতি ৪,৭,৮ ধারার নোটিশ প্রদান করা হয়। অধিগ্রহণের পড়ার খবর পেয়ে ৩৮ বছর পর ওই জমির লোলুপ দৃষ্টি দেন ছৈয়দ আহামদ ও তার গং। হাস্যকরভাবে এতদিন পর তারা জমিটি তাদের দাবি করছেন। অধিগ্রহণ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এই পাঁয়তারা করছে।
ভুক্তভোগী ছৈয়দ আলম জানিয়েছেন, ছৈয়দ আহামদ বয়সের ভারে চলাফেরা করতে পারছে না। তার এক ছেলে থাকলেও সে বিদেশে থাকে। কিন্তু তার চাচাতো ভাইয়ের নাতি সালাহ উদ্দীন জাসেদ জবর দখলসহ সবকিছুর নেতৃত্ব দিচ্ছে।

আগেসেন্টমার্টিনে বিদেশী মদসহ আটক পাচঁ
পরেবউ-শাশুড়িকে জবাই করে নামাজ পড়তে মসজিদে ঘাতক