যশোরেশ্বরী মন্দিরেই কেন পূজা দিলেন মোদি

0
3

সিবিকে ডেস্কঃ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২৭ মার্চ) সকালে তিনি পূজা দেন। একইসঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এর আগে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও হিন্দু নেতারা তাকে বরণ করে নেন।

অনেকের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে সামনে রেখেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাতক্ষীরার এ সফর। বিষয়টি উড়িয়ে না দিলেও অনেকে আবার বলছেন, মোদি তার সফরে বাংলার সর্ব দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরকে বেছে নিয়েছেন মূলত একটি ধর্মীয় অনুভূতি থেকে।

যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের রয়েছে ৪৫০ বছরের পুরোনো ইতিহাস। ১৫৬০ থেকে ১৫৮০ সাল পর্যন্ত রাজত্বকালে রাজা লক্ষ্মণ সেন স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে ঈশ্বরীপুর এলাকায় মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে মন্দিরটি নির্মাণের পর সেটি বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজা।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে সেটি জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে ওঠে। সে সময় শ্যামনগরের ধুমঘাট ছিল বাংলার ১২ ভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী। রাজা দেখতে পান, ওই জঙ্গল থেকে এক আলোকরশ্মি বেরিয়ে আসছে। তিনি তখন মন্দিরটি খোলার নির্দেশ দেন। আর সেটি খুলতেই দেখা মেলে চণ্ডভৈরবের আবক্ষ শিলামূর্তি। তখন থেকেই পূজা-অর্চনা শুরু হয় সেখানে।

পৌরানিক কাহিনী থেকে জানা যায়, দক্ষ রাজার কনিষ্ঠ কন্যার নাম ছিল সতীবালা। জন্ম থেকেই যিনি মহাদেবের পূজারিণী ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি স্বেচ্ছায় মহাদেবকে বিয়ে করেন।

এতে অবশ্য দক্ষ রাজার ছিল ঘোর আপত্তি। এক অনুষ্ঠানে রাজার উপস্থিতিতে মহাদেব আসেন। কিন্তু রাজাকে নিজের শ্বশুর বলে পরিচয় দেননি। এতে চরম অপমানবোধ করেন দক্ষ রাজা। তাই সতীবালা ও মহাদেবকে নিমন্ত্রণ না দিয়েই রাজা শুরু করেন দক্ষযজ্ঞ। অপমান বোধ করেন সতীবালা। কিছুক্ষণ পরেই তিনি দেহত্যাগ করেন।

এ খবর পেয়ে কৈলাস থেকে দ্রুতবেগে নেমে আসেন মহাদেব। তিনি দক্ষ রাজার মুণ্ডু কর্তন করে বলির জন্য নিয়ে আসা ছাগলের মুণ্ডুতে বসিয়ে দিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দেন সেই দক্ষযজ্ঞ। পরে তিনি মৃত স্ত্রী সতীবালাকে কাঁধে নিয়ে কৈলাস পাহাড়ে চলে গিয়ে ক্ষোভে ও দুঃখে ব্রহ্মাণ্ড ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন।

এ খবর পেয়ে ব্রহ্ম ও নারায়ণ সিদ্ধান্ত নিলেন মহাদেবকে ঠাণ্ডা করতে হলে তার কাছ থেকে সতীবালার মৃতদেহ সরিয়ে নিতে হবে। সে অনুযায়ী ত্রিশূল দিয়ে সতীবালাকে ৫১ খণ্ড করে ঘোরানো হয়।

এর একখণ্ড এসে পড়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় যশোরেশ্বরী কালীমন্দির।

অপর খণ্ডগুলো পশ্চিমবঙ্গের কালীঘাট, আফগানিস্তান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সাতক্ষীরা সফর শেষে নরেন্দ্র মোদি যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তাকে স্বাগত জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সেখান থেকে কাশিয়ানির ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের মন্দির পরিদর্শন করবেন। ওই মন্দির পরিদর্শন শেষে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তারপর হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় ফিরবেন।

ঢাকায় ফিরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ দেশের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকালে বাংলাদেশে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি।

আগেথমথমে হাটহাজারী, শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ
পরেকথা ছিল রাজপথে ফুল ছিটানোর, কিন্তু ঝরলো রক্ত: ফখরুল