বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত আটক

0
2

সিবিকে ডেস্কঃ

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের তিন ঘণ্টার মধ্যেই নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তার পিএ মারুফসহ আরও দুজনকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।

সোমবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগররের পাঁচলাইশ থানার প্রবত্তর্ক মোড়ের ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করা হয়।

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সিভয়েসকে বলেন,‘সন্ধ্যায় পুলিশ ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল থেকে ডা. শাহাদাত ও তার পিএ মারুফসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।’ এরআগে বিএনপি অফিস থেকে নগর মহিলা দলের সভানেত্রীসহ বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছিল।

ডা. শাহাদাত হোসেন গত সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন এবং এর আগে কারাগার থেকেই ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে কোতোয়ালী আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। দুবারই তিনি জামানত হারিয়েছেন। সংসদ নির্বাচনের আগেই তিনি নাশকতার মামলায় ঢাকা জজকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর নতুন করে ৩১ সদস্যের কমিটিতে তিনি আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

এরআগে দুপুর তিনটা থেকে মোদিবিরোধী বিক্ষোভে গিয়ে হেফাজত-পুলিশ সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিএনপি যে কর্মসূচি দিয়েছে তা পালন করতে এসে এবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপিও। এসময় ককটেলবাজি, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি পুলিশের ওপরও হামলা করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের হামলা থেকে বাদ যায়নি পুলিশ বক্স, পুলিশের নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত ঢাল ও স্বয়ং পুলিশ সদস্যরাও—এমন দাবি পুলিশের।  যদিও হামলার পর নগর মহিলা দলের সভানেত্রীসহ বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২৯ মার্চ) দুপুর ৩টার দিকে নগরের কোতোয়ালী থানার নাসিমন ভবনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধায়। এতে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিএনপি অফিসের সামনের সড়কে দুটি মোটর সাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কাজীর দেউড়ি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালায়। বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ঢালও ভাঙচুর করে। তাদের হামলায় এক নারীসদস্যসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন—পুলিশ কনস্টেবল প্রিয়াংকা দাশ, আনিসুর রহমান ও মোহাম্মদ হায়দার। অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশসহ দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া সড়কে টেবিল এনে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

হঠাৎ পুলিশের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের এমন মারমুখী আচরণকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের দায়িত্ব সামলে উপ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান সিভয়েসকে বলেন, ‘আমিতো দীর্ঘদিন বিএনপির এদের ডিল করছি দক্ষিণের ডিসি হিসেবে। তারা আজকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই হঠাৎ করে পুলিশের ওপর মারমুখী আচরণ শুরু করে। তাদের হামলায় আমাদের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ বক্স ভাঙচুর করেছে। গাড়িতে আগুন দিয়েছে। বোমাবাজি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা কেন এ হামলা করেছে তার উত্তর খোঁজা হচ্ছে। তাদের ১৫ জন আটক আছে। অভিযান চলমান। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই এর উত্তর মিলবে। হঠাৎ করেই এতো মারমুখী হবার কোনও কারণ ছিলনা। তারা পরিকল্পিতভাবেই এমন হামলা করেছে।’

এদিকে গ্রেপ্তারের আগে বিকেলে সংঘর্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি সিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে সিটি এসবি থেকে অনুমতি নিয়েছি। আমি কাজীর দেউড়ি থেকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার আগেই দেখি পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে। তাদের হামলায় অন্তত ২০জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন। আমি নিজেও অনেককে চিকিৎসা দিয়েছি। গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা কেন বুঝলাম না।’

হেফাজতের ওপর পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে বিএনপি যে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে তাতেই পুলিশের ওপর বিএনপির এমন মারমুখী আচরণে যেমন পুলিশ কর্মকর্তারা বিস্মিত। তেমনি এ ঘটনার আগে হেফাজতের গত কয়েক দিনের আন্দোলন জ্বালাও পোড়াওয়ের পেছনে বিএনপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

সোমবার (২৯ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘২৬ মার্চের দিন এ ধরনের ঘটনা, জনগণের সম্পত্তি, রাষ্ট্রের সম্পত্তির হামলা আমাদের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা। হেফাজতের হামলার পেছনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বিএনপি-জামায়াত।’

অন্যদিকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর তাণ্ডব লীলায় যে বিএনপি জড়িত, তা দিবালোকের মতো সত্য। জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি বিএনপি আবারও শুরু করছে। দেশে যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সে জন্য বিএনপি একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে উসকে দিচ্ছে।’

এরআগে শুক্রবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে হামলা-সংঘর্ষে নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ও মঙ্গলবার (২৯ ও ৩০ মার্চ) দুদিনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেয় বিএনপি।

শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের (অনলাইন) পর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ীই এ সমাবেশের আয়োজন করেছিল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

আগে১১ এপ্রিলের ইউপি ও পৌর নির্বাচন স্থগিত
পরেহঠাৎ পুলিশের প্রতি মারমুখী কেন বিএনপি