
ফারুক আহমদ, উখিয়া
উখিয়ার সোনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে একদল উশৃংখল সন্ত্রাসীরা দফায় দফায় শিক্ষক দের উপর হামলা সহ তান্ডব লীলা চালিয়ে ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের সরকারি গাড়ি ভাংচুর করেছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার সেল ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছেন । হামলার ঘটনায় পুলিশ সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে ।তন্মধ্যে মহিলা সহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে এলাকা বাসী জানিয়েছেন ।
রবিবার ( ২ঃ মে) দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে ।
এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদ জেলা পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজ , সহকারী পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ ।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সনজুল মোরশেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন , পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয় । এ সময় সন্ত্রসাীদের হামলায় পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক ও কনস্টেবল আহত হন । তিনি আরও বলেন, ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মৃত মকতুল আহমদের পুত্র আবু ছৈয়দ ফজলি ও সোলতান আহমদের পুত্র মোহাম্মদ কালু নামের ২ ব্যক্তিকে আটক করা হয় ।
বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, রবিবার ১১ টার দিকে দিকে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করতে ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টরা বিদ্যালয়ে গেলে আবু ছৈয়দ ফজলি , মোহাম্মদ হোসাইন, নূরুল আলম প্রকাশ পেটিস নুরু, ছাদেক আলী ও মোস্তফার নেতৃত্বে¡ স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী ভবন নির্মাণ কাজে বাধাঁ প্রদান করে। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আমিমুল এহসান খান উপস্থিত হয়ে বুঝানোর চেষ্টা করেন। এতেও পরিস্থিতি শান্ত না হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা একযোগে তাদের গাড়ীতে হামলা চালিয়ে গাড়ী ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , মসজিদে ঢুকে মাইকে উস্কানি দিয়ে একদল উশৃংখল চিহ্নিত লোক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি’র সরকারি গাড়ি ২ টি ভাংচুর চালিয়ে ক্ষতি সাধন করেছে ।
মোহাম্মদ হোসাইন নামক এক ব্যক্তি তার ফেইস বুক ওয়ালে পুলিশের গুলিতে দেলোয়ার (১৫), ফয়সাল (২০), হাসিনা আকতার (৩০), কবির আহমদ, মরিয়ম বেগম (৩৫) আহত হন উল্লেখ করেন।
ঘটনার বিষয়ে সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মিলন কুমার বড়ুয়া বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় সহকারী শিক্ষক বাবুল আবছার ও শামশুল আলম ভুলু গুরুত্ব আহত হয়েছে। মূলত: বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পাঠদান দিতে কষ্ট হয়। তাই বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গার উপর সরকারি ভবন নির্মাণ করতে গেলে এলাকার কয়েকজন বাঁধা প্রদান করে। যা ইতিপূর্বে ইউএনও, সহকারি কমিশনারের কার্যালয়ে কয়েকদফা মিটিংয়ের মাধ্যমে ভবন নির্মাণে সিদ্ধান্ত হয়। ভবনটি নির্মাণের পরও অবশিষ্ট জায়গাটি থাকবে সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলা, নামাজে জানাজা ও মাহফিল করতে সমস্যা হবে না বলে তিনি জানন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ জানান, এ হামলা রাষ্ট্রের উপর হামলা। এটি মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টিকারী ও সরকারের সম্পদ বিনস্ট কারীদের কে আইনের আওতায় আনা হবে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে , নতুন একাডেমিক ভবন নির্মান কে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে দু পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আছিল । একটি পক্ষ মানববন্ধন করে স্কুলের মাঠে ভবণ না করার দাবী জানিয়ে আসছিল ।












